অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীরা এবার যেটা করেছে, সেটা সারা বিশ্ব দেখেছে- একটা সরকারকে ছাত্ররা কীভাবে উল্টায় দিলো। অসম্ভবকে সম্ভব করেছো তোমরা। আমি বার বার বলছি, এটা দ্বিতীয় বিজয় উৎসব।’
শনিবার (১০ আগস্ট) দুপুরে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে খোলামেলা মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ড. ইউনূস বলেন, ‘আমাদের যে দ্বিতীয় বিজয় হয়েছে, এই বিজয় উৎসবটা যেন আমাদের হাত থেকে ফসকে না যায়। আর এটা তোমরা পারবা, আমরা কেউ পারবো না। আমরা বড় বড় কথা বলি, বড় বড় বক্তৃতা দেই কিন্তু আমাদের ক্ষমতা নেই।’
তিনি বলেন, ‘এখন দেখে অবাক লাগে- বহুদিন পর এসেছি। বাংলাদেশের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তার পরও আমরা উন্নয়নের নামে অনেক জিনিস দুমড়েমুচড়ে শেষ করেছি। এর মধ্যে যে প্রাণশক্তি ছিল সব নিংড়ে নিয়েছে। এটা দুঃখজনক।’
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘রংপুরের এমন কোনও গ্রাম নেই যেখানে আমি যাইনি। পীরগঞ্জে আবু সাইদের কবর জিয়ারত করতে এসে দেখলাম, (যদিও এর আগে ৫ বার এসেছি) রংপুরের অনেক উন্নতি হয়েছে। আরও হওয়া উচিত ছিল। এই রংপুরকে যেখানে নিয়ে যেতে চাও নিয়ে যেতে পারবা। এই শক্তি তোমাদের আছে, এটা কোন গবেষণার বিষয় নয়। তোমাদের মধ্যে যে শক্তি আছে তোমরা অবশ্যই পারবে বলে আমার বিশ্বাস।’
তিনি বলেন, ‘পীরগঞ্জে গিয়ে এবার দেখলাম নারীরা ছাদে উঠে ছবি তুলছে। এই যে পরিবর্তন মোবাইল ফোন, এখন সব কিছুই হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। এখন বাংলাদেশ দেশটাকে নয়, বিশ্ব জয় করতে পারবে- এটা আমার বিশ্বাস। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের অর্জনগুলো আটকে গেছে।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ড. ইউনূস বলেন, ‘তোমরা যে এবার আন্দোলনটা করলা- এবার বিশ্ববাসী দেখেছে, তোমরাই পারবে। আমরা কেউ পারবো না। তোমাদের প্রতি অভিনন্দন। তোমরা অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারো। আমরা পারি না। আমরা ব্যর্থ দেশটাকে যে জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কথা, আমরা পারি নাই। আবু সাঈদ বুক আগলে দেখিয়েছে, মারবা মারো গুলি করবা করো। এমন সাহস শুধু তোমরাই দেখাতে পারবে। সাঈদ যেভাবে অস্ত্রের সামনে বুক পেতে দিয়ে দিয়েছে- তার আত্মত্যাগ বিশ্ববাসী দেখেছে।’
এরপর প্রধান উপদেষ্টাকে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রশ্ন করলে তিনি এর জবাবও দেন। সভা শেষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বেশ কিছু ছবিও তোলেন।









