সিলেটে তাজুল ইসলাম (৪৫) নামে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের এক সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে নয়টায় নগরীর দেওয়ার মাজারের সামনে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। কোতোয়ালি থানার সেকেন্ড অফিসার আজিম উদ্দিন পাটোয়ারি বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেন।
সেকেন্ড অফিসার মনে করেন, পূর্ব বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে থানায় আনা হয়েছে। খুলিয়াটুলার গুলজার আহমদ ও তার সহোদর দুলাল আহমদ এবং সৈয়দ আজিজ নামের তিন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। তবে তাদেরকে এ মামলায় এখনও আটক দেখানো হয়নি।
নিহত তাজুল ইসলামের স্ত্রী শাহানা বেগম শানু। শাহানা বেগম শানু গত মেয়াদে সিলেট সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য। এ ঘটনার আড়াই বছর আগে এই দম্পতির এক ছেলে সোহান আহমদকে দুর্বৃত্তরা হত্যা করে।
নিহত তাজুলের বড় ভাই নূরুল ইসলাম জানান, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নগরীর বন্দরবাজারস্থ করিম উল্যাহ মার্কেট থেকে খুলিয়াটুলার বাসায় ফিরছিলেন তাজুল। পথে খুলিয়াটুলা গরম দেওয়ান মাজারের সম্মুখে মোটর সাইকেলযোগে আসা কয়েক দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রাস্তায় ফেলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। রাত সাড়ে ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নূরুল ইসলাম জানান, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে ময়না তদন্তশেষে তাজুল ইসলামের লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হবে। সাবেক কাউন্সিলর শানু ও তার দুই ছেলে এ মুহূর্তে ভারতে সফররত। রবিবার রাতে অথবা সোমবার সকালে তারা দেশে ফিরতে পারেন। তারা দেশে ফেরার পর লাশ দাফন হবে। সেইসঙ্গে মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৬ জানুয়ারি প্রকাশ্য দিবালোকে শানুর ছেলে মদনমোহন কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র সোহান আহমদ খুন হয়। দুর্বৃত্তদের হাতে শানুর ছেলে রায়হান ইসলামও আহত হয়। আহত ছেলের চিকিৎসার জন্যই মূলত শানু ভারতে গেছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
/এইচকে/
পড়ুন: ফরিদপুরে টর্নেডোর আঘাতে জুট মিল ধসে ৫ কর্মীর মৃত্যু








