হবিগঞ্জে যুদ্ধাপরাধ মামলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
১১ এপ্রিল ২০১৭, ১৩:১০আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৭, ১৩:১১

হবিগঞ্জে যুদ্ধাপরাধ মামলায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার হবিগঞ্জে যুদ্ধাপরাধ মামলার আসামি সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান আবুল খায়ের গোলাপকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১০ এপ্রিল) বিকালে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য নিয়ে আসা হয়। মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১২টায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়।
হবিগঞ্জের (বাহুবল-নবীগঞ্জ) সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রাসেলুর রহমান জানান, আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধের একটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। সেই ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আবুল খায়ের গোলাপ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সাবেক গজনাইপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন।
২০১৬ সালের ১৩ মার্চ আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত অফিসে উপজেলার আতানগীরি গ্রামের রইছ উল্লার স্ত্রী সুকুরি বিবি একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, সাবেক চেয়ারম্যান গোলাপ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন আলবদর, আলসামছ ও রাজাকার বাহিনীর সংগঠক ছিলেন। গোলাপের নেতৃত্বে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দিনারপুর হাইস্কুলে ক্যাম্প স্থাপন করে বিভিন্ন স্থান থেকে মেয়েদের ধরে এনে ধর্ষণসহ পাশবিক অত্যাচার ও নির্যাতন করতো।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৯৭১ সালের ১২ নভেম্বর বিকাল ৪টার সময় গোলাপের নেতৃত্বে একদল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাদীনির বসত ঘরে আসলে ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে দৌড় দিলে আসামি গোলাপ তাকে ধরে ফেলে। পরে তাকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কাছে তুলে দেয়। পরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের ক্যাম্পে নিয়ে ওই বাদীনিকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং আসামি গোলাপও বাদীনিকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করেন। এছাড়া ওই গ্রামের আরও অনেক নারীকে ধরে নিয়ে ধর্ষণ করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দেয় আবুল খায়ের। আসামিপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় সে আত্মগোপনে ছিলেন। বর্তমান সরকারের আমলে যুদ্ধপরাধী ও মানবতাবিরোধী ব্যক্তিদের বিচারকার্য শুরু হলে তিনি এই অভিযোগ করেন।
এ প্রেক্ষিতে গত বছরের ২৫ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি তদন্ত টিম গোলাপের বিরুদ্ধে তদন্ত করেন।

/এআর/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
সীমান্তে কঠোর বিজিবি, ১০ পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত
সীমান্তে কঠোর বিজিবি, ১০ পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম