মৌলভীবাজার শহরের কোর্ট রোডের বাসিন্দা মনি বেগম চৌধুরী টিসিবির ট্রাক থেকে সয়াবিন তেল কেনার জন্য তিন দিন ধরে চেষ্টা করছেন। কিন্তু পারেননি। তিনি বলেন, ‘তিনদিন ধরে ট্রাকের কাছে আসছি। তেল পাইছি না। অন্য জিনিস মিলে। তাও সব পাই না। ডিলার মুখ চিনে চিনে তেল বিক্রি করছে।’ তেল না পেয়ে ফিরে যাওয়া ক্রেতা মনি বেগম একা নন। সোমবার মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যেই তেলে শেষ হয়ে যায়। ঘণ্টা খানেক অপেক্ষা ৩০-৪০ জন ক্রেতা শূন্য হাতে ফিরে যায়।
টিসিবির ট্রাকে শুধু তেল নয়, বেশির ভাগ পণ্যেরই এমন দশা। মৌলভীবাজারে টিসিবির ট্রাকে পণ্য সংকট ও বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে ক্রেতাদের কাছ থেকে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও তারা পণ্য পাচ্ছেন না।
মৌলভীবাজার শহরের কোর্ট রোড এলাকায় টিসিবির ডিলার মেসার্স তাজ এন্টারপ্রাইজের মালিক মোস্তফা মিয়া। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘৪০ পিস (বোতল) তেল দেয়। সকাল পৌনে ১১টায় গাড়ি আইলেই ৬০ জন থাকে লাইনে। ২০ মিনিটেই তেল শেষ। তেলের চাহিদা প্রচুর। প্রতিদিন ৪-৫শ’ মানুষ তেল চায়। ২০০ লিটার তেল পাই। অন্তত ৮০০ লিটার তেল পাইলে অনেক মানুষকে দেওয়া যেতো।’
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ নানা কথাবার্তা বলে। এভাবে বিক্রি করে পোষায় না। তেলের চাহিদা বেশি থাকায় বিশৃঙ্খলা বেশি। তেল নিয়াই মানুষের যত অভিযোগ। তেল দিলে খুশি, না দিলে যত অভিযোগ।’
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার টিসিবির আরেক ডিলার আবদুল খালেক বলেন, ‘যখন চাহিদা বেশি, তখন পণ্য দেওয়া হয় না। তেল কম দেয়। ছোলা আর মসুর ডাল বেশি দেয়। ট্রাকের ভাড়াই আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। একজন শ্রমিকের রোজ ৪০০ টাকা। এটা বিক্রি করে লাভ নাই।’
মৌলভীবাজার শহরের শেখ খুরশেদ আলম বলেন, ‘পণ্যের মান ভালো মনে হলো, এ জন্য ছোলা ও ডাল কিনেছি। তাছাড়া এটা বাজারের চেয়ে দামে কম। তবে এই সুযোগ ঘুরেফিরে স্বচ্ছল লোকজনই পাচ্ছেন। গ্রামের সাধারণ ক্রেতারা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’
টিসিবি ও ডিলার সূত্রে জানা গেছে, একটি ট্রাকে প্রতিদিন ৬০০ কেজি ছোলা, ২৫০ কেজি মসুর ডাল, ৩০০ কেজি চিনি এবং ২০০ লিটার তেল (৫ লিটার করে ৪০টি বোতল) দেওয়া হয়। প্রতি কেজি ছোলা ৭০, ডাল ৮০, চিনি ৫৫ এবং প্রতি লিটার তেল ৮৫ টাকায় বিক্রি হয়। টিসিবির হিসাবে, একটি ট্রাক থেকে ২৭০ জন পণ্য কিনতে পারবেন।
সদর উপজেলার শেরপুরে অবস্থিত টিসিবির সিলেট বিভাগীয় আঞ্চলিক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভ্রাম্যমাণ দুটি ট্রাক ছাড়াও মৌলভীবাজার জেলায় টিসিবির ১৪ জন ডিলার আছেন। শহরে আছেন সাতজন। এছাড়া জুড়ী উপজেলায় একজন, রাজনগরে দুজন, বড়লেখায় একজন এবং কমলগঞ্জে তিনজন ডিলার আছেন।
পণ্য বিক্রিতে অনিয়মের বিষয়ে সিলেট বিভাগীয় আঞ্চলিক কার্যালয় প্রধান ইসমাইল মজুমদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিক্রির বিষয়টি আমরা সার্বক্ষণিক তদারকি করছি। তারপরও খোঁজ নিয়ে বিষয়টি দেখছি।’
/এসটি/







