শ্রীমঙ্গলের স্কুলগুলোয় ৬৬ বছর ধরে শহীদ মিনারহীন একুশে পালন

সাইফুল ইসলাম, মৌলভীবাজার
২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১০:০৫আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১০:১৪

বাঁশের তৈরি শহীদ মিনারে শহীদদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে শিক্ষার্থীরা ভাষা আন্দোলনের ৬৬ বছর পার হলেও মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখনও নির্মিত হয়নি শহীদ মিনার। ফলে ভাষা শহীদদের প্রতি যথাযথভাবে শ্রদ্ধা জানাতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। এবারও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বাঁশের খুঁটি দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে দিবসটি পালন করেন।
বুধবার সকালে শ্রীমঙ্গল উপজেলার পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বাঁশের খুঁটি দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোফাজ্জল ও হৃদয় দাস জানায়, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এবার বাঁশ দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করা হয়েছে তাদের স্কুলে। আশপাশে আর কোনও শহীদ মিনার না থাকায় তারা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পশ্চিম শ্রীমঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সূবর্ণা চক্রবর্তী ও স্কুলের সহকারী শিক্ষক নিথেন্দ্র রায় বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আমাদের কাছে বার বার শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য আবেদন জানিয়েছে। কিন্তু বিদ্যালয়ের কোষাগারে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় শহীদ মিনার বানিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুই বছর আগে দেয়ালে নকশা করে তারপর ওইখানে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি সম্মান জানানো হতো।’
পশ্চিম শ্রীমঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো.আজম আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের স্কুলে শহীদ মিনার না থাকায় বাঁশ দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করা হয়েছে। সরকারিভাবে কোনও সহায়তা না পেলে নিজে ও স্থানীয় বিত্তশালীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করার চেষ্টা করবো।’
শ্রীমঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কমলেন্দু দেব ও সহকারী শিক্ষিকা জয়শ্রী দেব বলেন, ‘স্কুলে শহীদ মিনার স্থাপনের জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অনেকবার জানিয়েছি, কোনও কাজ হয়নি।’
জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো.সাইফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকায় শিক্ষার্থীরা অস্থায়ী শহীদ মিনারে প্রতিবছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে। শহীদ মিনারের জন্য সরকারিভাবে কোনও অনুদান নেই। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি অথবা বিত্তশালীদের সহযোগিতা নিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ হয়ে থাকে। তবে এবার ফুলছড়া চা বাগান ও কালিঘাট চা বাগানে এবং আশিদ্রোন ইউনিয়নে নিজ নিজ ইউপি চেয়ারম্যানরা শহীদ মিনার নির্মাণ করে দিয়েছেন। এভাবে অন্যান্য স্কুলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে।’

/এআর/এফএস/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
এবছরই সব স্কুলে ফিডিং চালুর পরিকল্পনা, পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা: শিক্ষামন্ত্রী
এবছরই সব স্কুলে ফিডিং চালুর পরিকল্পনা, পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা: শিক্ষামন্ত্রী
দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৬২ জন আহত
দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৬২ জন আহত
বাংলাদেশ সফরের ব্যাখ্যা দিলো আইসিসি
বাংলাদেশ সফরের ব্যাখ্যা দিলো আইসিসি
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে সহযোগীদের সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে সহযোগীদের সমর্থন চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান