‘কোনও বাবাই তার সন্তানকে হত্যা করতে পারে না। ময়না মিয়ার প্ররোচনায় আমার ছেলে সায়েদ আলী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। আমি ঘাতক ময়না মিয়ার ফাঁসি চাই। আর আমার সন্তান সায়েদ আলী যদি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে, তাহলে তারও বিচার চাই।’
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে আলোচিত বিউটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রবিবার বিউটির দাদা সনজব আলী বাংলা ট্রিবিউনকে এসব কথা জানান। সনজব আলী বলেন, ‘সব নষ্টের মূল ময়না মিয়া। তাদের পূর্ব বিরোধ মেটাতে আমার পরিবার ধ্বংস। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’
রবিবার সরেজমিনে এলাকায় ঘুরে এলাকাবাসী ও বিউটির আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার পর তারাও জড়িতদের বিচার দাবি করেন।
স্থানীয় পুরাইকলা বাজারের ব্যবসায়ী ইমরান মিয়া দাবি করেন, এই ঘটনায় দেশ-বিদেশে তাদের এলাকার বদনাম হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এলাকাবাসী বিউটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। পাশাপাশি ভাড়াটিয়া খুনীকে দ্রুত গ্রেফতারের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি করছি।’
বিউটির বড় ভাই সাদেক মিয়াও বোন হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচার চান। তিনি বলেন, ‘যদি আমার বাবা জড়িত থাকে, তাহলে তারও বিচার চাই।’ তার ভাষ্য, ময়না মিয়ার প্ররোচনায় তাদের পরিবার শেষ হয়ে গেছে।
বিউটিকে ধর্ষণ মামলার আসামি বাবুল মিয়ার ছোট বোন বিউটি আক্তার প্রমির দাবি, নির্বাচনে হেরে গিয়ে ময়না মিয়া প্রতিশোধ নিতে গিয়ে মিথ্যা মামলায় তাদের পরিবারকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে। ময়না মিয়া ও বিউটির বাবা সায়েদ আলীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।
বাবুলের খালা জুহুর চান বিবিও ময়না মিয়া ও বিউটির বাবা সায়েদ আলীর বিচার দাবি করেছেন।
আরও পড়ুন: বিউটি হত্যা: পরিকল্পনা বাবার, ছুরি চালায় চাচা (ভিডিও)
প্রসঙ্গত, গত ২১ জানুয়ারি বাবুল মিয়াসহ তার লোকজনের বিরুদ্ধে বিউটি আক্তারকে বাড়ি থেকে অপহরণ ও ধর্ষণ করার অভিযোগ ওঠে। প্রায় ১ মাস পর বাবুল মিয়া বিউটিকে তার বাড়িতে রেখে পালিয়ে যায়। পরে ১ মার্চ বিউটি আক্তারের বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল ও তার মা ব্রাহ্মণডোরা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য কলমচানের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। এরপর ১৬ মার্চ বিউটি নানির বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পরদিন ১৭ মার্চ বিউটি আক্তারের লাশ স্থানীয় হাওর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
১৮ মার্চ বিউটিকে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে তার বাবা বাদী হয়ে বাবুল মিয়াসহ ২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ২১ মার্চ পুলিশ বাবুলের মা ইউপি সদস্য কলম চান ও সন্দেহভাজন হিসেবে একই গ্রামের ঈসমাইল নামের একজনকে আটক করে। ২৯ মার্চ হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসম শামছুর রহমান ভূইয়াকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করেন পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা। এরপর ৩১ মার্চ সিলেট থেকে বাবুলকে আটক করে র্যাব। ৬ মার্চ রাতে ময়না মিয়া হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে হবিগঞ্জ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।







