সুনামগঞ্জে দুষ্কৃতিকারীরা ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে দেওয়ায় উদ্বিগ্ন প্রকাশ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও হাওরবাসী। এজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে চিঠি দিয়ে বাঁধ রক্ষায় পিআইসিদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় ভারীবর্ষণের আশঙ্কা করছে তারা। এতে সীমান্তের ওপাড় থেকে পাহাড়ি ঢল ও হাওর এলাকার সব নদনদীর পানি বৃদ্ধি পাবে। একই কারণে হাওরের পাকা ধান জলাবদ্ধতা ও অতিবৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসময় ২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ এপ্রিল টাঙ্গুয়ার হাওরে আইইউসিএন নির্মিত নাউটানা ফসল রক্ষা বাঁধ দুষ্কৃতিকারীরা কেটে দিয়েছে। আগামী ৩০ এপ্রিল যদি ভারী বর্ষণে নদনদীর পানি বৃদ্ধি পায় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে পাউবোর বাঁধগুলো দুষ্কৃতিকারীরা কেটে দিতে পারে। তাই হাওরের বোরো ফসল ঘরে তোলার আগ পর্যন্ত এসব বাঁধ যেন দুষ্কৃতিকারীরা কেটে দিতে না পারে সেজন্য সজাগ দৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিক ভুইয়া বলেন, ‘অক্লান্ত পরিশ্রম ও নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে সুনামগঞ্জের হাওরের বোরো ফসল রক্ষার জন্য পাউবো চলতি বছর হাওরে ১৪শ কিলোমিটার ডুবন্ত বাঁধ মেরামত ও নির্মাণ করেছি। সঠিকভাবে বাঁধ নির্মাণ করার জন্য হাওরবাসী এখন বোরো ধান গোলায় তুলছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আবহওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে ভারী বর্ষণের কারণে হাওর এলাকার নদনদীতে পানি বাড়বে। এজন্য জনগণ,পিআইসি, প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন বাঁধগুলোকে দুষ্কৃতিকারীর হাত থেকে রক্ষার জন্য সতর্কভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। দুষ্কৃতিকারীরা বাধ কেটে দেওয়ার কারণে টাঙ্গুয়ার হাওরে বিপর্যস্ত অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশবাসী তা দেখতে পেয়েছেন। সেখানে ধানি জমির পরিমাণ কম হলেও গণমাধ্যমে প্রচার পাওয়ার কারণে সারা বাংলাদেশে একটি বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। যদি পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধগুলো দুষ্কৃতিকারীরা কেটে দেয় তাহলে জনমনে কী ধরনের প্রভাব পড়বে তা সহজেই অনুমেয়। এজন্য পাউবো সুনামগঞ্জের প্রত্যেক উপজেলায় চিঠি দিয়ে বাঁধে সতর্ক দৃষ্টি রাখার কথা জানিয়ে দিয়েছে।’
নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিক ভুইয়া বলেন, ‘যে বা যারা এই বাঁধ কাটার সঙ্গে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক স্বপন কুমার সাহা বলেন, ‘সারা জেলায় এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। এবছর জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। এসব জমির ধান কেটে ঘরে তুলতে পারলে ৮ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হবে। তবে শ্রমিক সংকটের কারণে ধানকাটায় ধীরগতি রয়েছে। ’








