টানা বৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমে যাওয়ায় ধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সুনামগঞ্জের হাওর এলাকার কৃষকেরা। ধান কাটার শ্রমিকও পাচ্ছেন না তারা। নিজেরা কোনোমতে কাটলেও শুকাতে পারছেন না। কেউ কেউ রঙ ও গুণগত মান নষ্ট হওয়ার ভয়ে ধান কাটছেনই না।
কৃষকেরা জানিয়েছেন গত ৩০ এপ্রিল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে ধান গোলাজাতকরণও বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।এছাড়া সড়কগুলোও কাদাজলে চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।
এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক স্বপন কুমার সাহা বলেন, ‘বৃষ্টির জন্য কৃষকের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।’ তবে,সব ধান এক জায়গায় স্তুপীকৃত করে না রেখে, খোলামেলা পরিবশে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রঞ্জন কুমার দাস বলেন, ‘সুনামগঞ্জে আবারও ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। এতে হাওর এলাকার নদনদীর পানি বৃদ্ধি পাবে, তবে বন্যা হবে না। গত এক সপ্তাহে ১৯৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, সারা জেলায় ১৩ হাজর ১৪৮ জন বড়, ৬৩ হাজার ১৮৮ জন মাঝারি ও ৪৭ হাজার ৭৮৪জন ভূমিহীন কৃষক রয়েছেন।
হাওরের জলাবদ্ব জমিতে ধান কাটছিলেন ইসলামপুর গ্রামের ছমির আলী। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কতো দিন আগেও জমিতে পানি আছিল না, অখন হাঁটু পানি; এরলায় কেউ ক্ষেত কাটতে আয় না। নিজের ক্ষেত নিজেই কাটি।’
জানীগাঁও গ্রামের মাহিন মিয়া বলেন, ‘ধানের বাম্পার ফলন অইছে, কিন্তু ধানের রং না থাকলে ভালা দামে বিক্রি করন যাইতো না। ৭ দিন ধইরা বাড়ি আর খলায় দৌড়াদৌড়ি কইরা ধান হুকাইতে পাররাম না। রইদ ওঠলে ধান লাইড়া দেই আবার মেঘ আইলে আউযাই রাখি।’
ভৈষবেড় গ্রামের ইদ্রিস আলী বলেন, ‘দিন ভালা থাকলে হাওরে যাওন যায়, আর খারাপ থাকলে তো বাড়িত বইয়া দিন কাটে।’
বাহাদুড়পুর গ্রামের নুরুনেচ্ছা বলেন, ‘ধান লইয়া খলা আর বাড়িতে দৌড়াদৌড়ি করন লাগে। হারা দিনে তিন ঘণ্টায় রইদ ওঠে না।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, এই বছর জেলার ছোট-বড় ও মাঝারি শ্রেণির তিন লাখ কৃষক ২ লাখ ২২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। আজ পর্যন্ত ১ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমির ফসল কাটতে পেরেছেন তারা। এসব ধানের মধ্যে উচ্চ ফলনশীল জাতের ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৩ হেক্টর, স্থানীয় জাতের ৪ হাজার ৯১১ হেক্টর ও হাইব্রিড জাতের ৩২ হাজার ২৬৫ হেক্টর ধান আবাদ করেছেন।








