সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৮ জন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। এরমধ্যে ৯জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ৯জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। ভোটের আগের দিন রবিবার (২৯ জুলাই), ভোট গ্রহণের দিন সোমবার (৩০ জুলাই)ও পরের দুই দিনসহ মোট চার দিন তারা দায়িত্ব পালন করবেন।
সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচনি কার্যালয়ের তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা প্রলয় কুমার সাহা বলেন, ‘সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন যেন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে সব ধরনের নিরাপত্তা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনকালিন সংগঠিত অপরাধ আমলে নিয়ে তা বিচারের জন্য মাঠে থাকবেন বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের ৯ কর্মকর্তা।’
সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস থেকে জানা গেছে, সিলেট সিটি করপোরেশনের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাইন বিল্লাহ। ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে থাকবেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট একে এম এমদাদুল হক। ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে থাকবেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট খুরশিদ আলম। ১০, ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডে থাকবেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট লস্কর সোহেল রানা। ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে থাকবেন সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাঁকন দে। ১৬, ১৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে থাকবেন সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমান ভুঁঞা। ১৯, ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডে থাকবেন সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রহমান ছিদ্দীকি। ২২, ২৩ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে থাকবেন সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুর রহমান। ২৫, ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে থাকবেন সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বেগম ফারজানা শাকিলা সুমু।
দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা হলেন- সিলেটের সহকারী কমিশনার এরশাদ মিয়া, সহকারী কমিশনার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, সহকারী কমিশনার উম্মে মালিক রুমাইয়া, সহকারী কমিশনার খৃষ্টফার হিমেল রিছিল, সহকারী কমিশনার সুনন্দা রায়, সহকারী কমিশন মুহাম্মদ হেলাল চৌধুরী, সহকারী কমিশনার আশরাফুল হক, সহকারী কমিশনার ইরতিজা হাসান ও সহকারী কমিশনার শাহিনা আক্তার।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পরিতোষ ঘোষ বলেন, ‘২৭ জুলাইয়ের পরে সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় বহিরাগতরা থাকতে পারবে না। যারা এই সিটির ভোটার তাদেরকে জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। অন্যথায় আইন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে গ্রেফতার করবে।’
তিনি আরও জানান, এবার সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ৮০টি। যা আগে বলা হত ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র। আর সাধারণ কেন্দ্র রয়েছে ৫৪টি। সাধারণ ভোটাররা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সেজন্য পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকবে।
সূত্র জানায়, হালনাগাদ ভোটার তালিকায় এবার সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩০ হাজার ৬৮৬ জন ভোটার বেড়েছে। বর্তমানে মোট ভোটার তিন লাখ ২১ হাজার ৭৩২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার একলাখ ৭১ হাজার ৪৪৪ জন এবং নারী ভোটার একলাখ ৫০ হাজার ২৮৮ জন। ভোটার বাড়ায় এবারের সিটি নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র বাড়ানো হয়েছে সাতটি। ২০১৩ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত তৃতীয় সিটি নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল দুই লাখ ৯১ হাজার ৪৬ জন। তখন পুরুষ ভোটার ছিল একলাখ ৫২ হাজার ১৮১ এবং নারী ভোটার ছিল একলাখ ৩৮ হাজার ৮৬৫ জন। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটার ছিল দুই লাখ ৫৬ হাজার ৪০৮ জন। ২০১৩ সালের সিটি নির্বাচনে সিলেট মহানগরী এলাকায় ভোটার কম থাকায় ভোটকেন্দ্র ছিল ১২৭টি। এবার ভোটকেন্দ্র থাকবে ১৩৪টি। গত নির্বাচনে ভোটকক্ষ ৮৯৬টি থাকলেও এবার তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৯২৭টি।








