৬৮ বছরেও স্বীকৃতি পাননি ৩ ভাষাসৈনিক

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২০:০৯আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৩৮



মোহাম্মদ ইলিয়াস, সৈয়দ মতিউর রহমান ও মফিজ আলী ভাষা আন্দোলনের দীর্ঘ ৬৮ বছরেও স্বীকৃতি পাননি মৌলভীবাজারের তিন ভাষাসৈনিক। হয়নি তাদের যথাযথ মূল্যায়ন। বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রাখা এই তিন প্রয়াত ভাষাসৈনিক হলেন, সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ইলিয়াস, সাংবাদিক সৈয়দ মতিউর রহমান ও চা শ্রমিক নেতা মফিজ আলী।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভাষা সৈনিকদের নামানুসারে বিভিন্ন সড়ক কিংবা প্রতিষ্ঠানের নামকরণ অথবা বৃত্তি প্রদান করা হলেও এই তিন ভাষাসৈনিককে নিয়ে সরকারি-বেসরকারি কোনও উদ্যোগ এখনও নেই।

কমলগঞ্জ উপজেলার কুশালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ইলিয়াস। ভাষা আন্দোলনের সময়ে ঢাকার রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন তিনি। ভাষা আন্দোলনের নেতা হলেও শহরে না থাকায় ছিলেন অন্তরালেই।

এছাড়া উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামে জন্ম নেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও প্রখ্যাত সাংবাদিক সৈয়দ মতিউর রহমান। তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ঘটনায় মৌলভীবাজারের স্কুল এবং কয়েকটি মাদ্রাসায় ছাত্র ধর্মঘট পালনের নেতৃত্ব দেন। তার নেতৃত্বে ওই সময় প্রতিবাদ সভা ও ছাত্র ধর্মঘট পালন হয় কমলগঞ্জ উপজেলা সদর, শমশের নগর ও ভানুগাছ বাজারে।

স্থানীয়ভাবে ভাষাসৈনিক হিসেবে প্রয়াত সৈয়দ মতিউর রহমানকে একাধিক সংগঠন মরণোত্তর পদক দিলেও সরকারিভাবে কোনও মূল্যায়ন নেই।

অপরদিকে উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের ধূপাটিলা গ্রামে জন্ম নেন প্রয়াত মফিজ আলী। ভাষা আন্দোলনের সময় সিলেট ও শমশের নগর কেন্দ্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন তিনি। ভাষা আন্দোলনের সেই পথ ধরেই তিনি প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। সর্বশেষ পূর্ব পাকিস্তান চা শ্রমিক সংঘের শ্রমিক আন্দোলনে যুক্ত হন। ভাষা আন্দোলনের অগ্রসৈনিক হিসাবে মফিজ আলীকে ২০০৩ সালে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা প্রদান করলেও আর কোনও মূল্যায়ন পাননি।

প্রয়াত মফিজ আলীর ছেলে নরুল মোহাইমিন মিল্টন বলেন, ‘মাতৃভাষার জন্য জীবন বাজি রেখে পাকিস্তানবাহিনীর সামনে রাজপথে আন্দোলন করেছেন বাবা। কিন্তু ৬৮ বছর পার হলেও সম্মান স্বীকৃতি মূল্যায়ন কিছুই পাননি। আমার বাবা মফস্বল থাকতেন, তাই হয়তো সরকারের নজর পড়েনি।’

কমলগঞ্জের লেখক-গবেষক আহমদ সিরাজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন ঢাকাকে কেন্দ্র করে হলেও তা হয়ে ওঠে বাঙালির জাতীয়তা তথা জাতিসত্তার আন্দোলন। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মোহাম্মদ ইলিয়াস ভাষা আন্দোলনে ঢাকার কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। তেমনি সিলেটের কমলগঞ্জের পতনঊষার ইউনিয়নের দুই কীর্তিমান পুরুষ সৈয়দ মতিউর রহমান ও মফিজ আলী ভাষা আন্দোলনের দৃশ্যমান নেতা ছিলেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য স্বাধীনতার এতদিন পরেও তারা সেভাবে মূল্যায়িত হননি।’

তিনি অভিযোগ করেন আরও বলেন, ‘এই তিন প্রয়াত নেতা মফস্বল অঞ্চলের হওয়ার কারণেই এমন অবহেলা করা হয়েছে বলে ধারণা করছি।’

/এনএস/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম