মৌলভীবাজার শ্রীমঙ্গল হাইল হাওর ও বিভিন্ন গ্রামে আধা পাকা ধান কাটছেন কৃষকরা। পানি সংকট থাকায় বোরো ধানে চিটা হওয়ায় ধান কেটে নিচ্ছেন কৃষকরা। তবে মৌলভীবাজার লকডাইন থাকায় ধান কাটার শ্রমিকরা ঘর থেকে বের না হতে পারায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়ন, ভূনবীর ইউনিয়ন, আশিদ্রোন ও সিন্দুরখান ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের ধানে চিটা হওযায় আধাপাকা ধান কেটে নিচ্ছেন কৃষকরা।
কৃষকরা জানান, সময়মতো বৃষ্টি না হওয়া ও সেচ ব্যবস্থা না থাকায় ধানে রোদে পুড়ে চিটা হয়ে যাওয়ায় আধা পাকা ধান কেটে বাড়িতে নিয়ে মাড়াই করা শুরু করেছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ৯ হাজার ৪১২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯ হাজার ৩৯৫ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ বেশি হয়েছে।
প্রান্তিক চাষিরা বলেছেন, পানির অভাবে প্রায় কয়েক শত একর ধানের চারা নষ্ট হতে বসেছে। এই সময়ে ধান গাছে ফুল এসেছে। কিন্তু পানির অভাবে এসব ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় ধানের চারা মরে গেছে। তারা বলেছেন, করোন মহামারির মধ্যেও তারা আশার বীজ বপন করেছিলেন। এখন তাদের সব স্বপ্ন ধুলায় মিশে যেতে বসেছে।
পশ্চিম ভাড়াউড়া গ্রামের আলমগীর মিয়া জানান, ধান ভালো হলেও সব ধান চিটা হয়ে গেছে। তার ৩০ শতাংশ জমিতে বোরো ধান পুড়ে চিটা হয়ে গেছে। যেখানে ১৬-১৮ মণ ধান পাওয়া যেত এখন ৮ মণ ধানও পাওয়া যাবে না।
একই গ্রামের মছদ্দর মিয়া বলেন, ‘করোনাভাইরাসে কাজ না থাকায় ঘরে এক সপ্তাহ ধরে খাবার নেই। ধানে রোগও দেখা দিয়েছে তাই কাঁচা ধান ঘরে তুলছি। ধান না কাটলে আমরা ছেলেমেয়ে নিয়া না খাইয়া মরতে হবে।’
পশ্চিমভাড়াউড়া গ্রামের কৃষক মানিক মিয়া চিটা হওয়ার তার ধান ক্ষেতে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে আশপাশের কৃষকরা এসে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত সোহেল রানা মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বলেন, স্থানীয় নদীতে পানি নেই। তারওপর বৃষ্টি না হওযায় ধানে কিছুটা চিটা হয়েছে। ধান গাছ কাইচ থোড় থাকে ফুল ফোটার সময়ে অতিরিক্ত ঠান্ডা ও গরম সহ্য করতে পারে না। ওই সময় বাতাসের তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে বা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে যায় তাহলে ধানে ব্যাপকভাবে চিটা দেখা দেয়। তারপরও চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলে বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে।







