সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার মেয়র প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা সবসময় শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে বিশ্বাসী। প্রত্যেক কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের শত শত স্থানীয় নেতাকর্মী থাকবে, সেখানে বহিরাগত আনার কোনও প্রশ্নই আসে না।’
তিনি বলেন, ‘মূল বিষয় হচ্ছে জনগণের সম্পৃক্ততা থাকতে হবে। নির্বাচনে দাঁড়ালাম জনগণ সঙ্গে নেই, তাহলে মনে তো আতঙ্ক থাকবেই। বহিরাগত নিয়ে আসার বিষয়টি অন্য চিন্তা-চেতনা থেকে বলেছেন কোনও কোনও প্রার্থী। তারা এলোমেলো কথাবার্তা বলছেন।’
মঙ্গলবার (২০ জুন) বিকালে নগরের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুলের বহিরাগত নিয়ে আসার অভিযোগের বিষয়ে এসব কথা বলেন আনোয়ারুজ্জামান।
তিনি বলেন, আমি দলের নেতাকর্মীকে অনুরোধ করেছি, গায়ে হাত দিলেও আমাদের কেউ পাল্টা জবাব দেবে না। তাই প্রশ্নই ওঠে না এসব করার। আমরা সুষ্ঠু, সুন্দর ও সুশৃঙ্খল একটা নির্বাচন চাই। স্পষ্ট করে জানাতে চাই, আমাদের কোনও নেতাকর্মী টু-শব্দও করতে পারবে না।’
জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী উল্লেখ করে নৌকা প্রতীকের এই প্রার্থী বলেন, ‘কারণ এখানে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ। আমি ১৫ বছর বয়স থেকে দলের রাজনীতিতে যুক্ত। অতীতে এখানে আওয়ামী লীগকে এতটা ঐক্যবদ্ধ দেখিনি। দলের তরুণ নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সিনিয়র নেতৃবৃন্দ প্রত্যেক ভোটারের বাসাবাড়িতে গিয়েছেন। একবার নয়, পাঁচবার করে গিয়েছেন তারা। কাজেই জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’
জাপার প্রার্থী অভিযোগ করেছেন তার এজেন্টদের কেন্দ্রে না যেতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি আসলে কোনও প্রার্থীর নাম নিয়ে সমালোচনা করতে চাই না। এটা আগেই বলেছি। মূলত উনার এজেন্ট সংকট রয়েছে। তাই আগেই এসব বলা শুরু করেছেন। এটা ভৌতিক বিষয়।’
সিলেট সিটিতে পঞ্চমবারের মতো নির্বাচন হচ্ছে বুধবার। আট মেয়র প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী এবং জাতীয় পার্টি মনোনীত নজরুল ইসলাম বাবুলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৮৭ হাজার ৭৫৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ দুই লাখ ৫৪ হাজার ৩৬০ এবং নারী দুই লাখ ৩৩ হাজার ৩৮৭ জন। মেয়র পদে আট, সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ২৭৩ এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৮৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
মেয়র পদে আট প্রার্থী হলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী (নৌকা); জাতীয় পার্টির প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুল (লাঙ্গল); ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান (হাতপাখা); জাকের পার্টির মো. জহিরুল আলম (গোলাপ ফুল) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবদুল হানিফ কুটু (ঘোড়া); মো. ছালাহ উদ্দিন রিমন (ক্রিকেট ব্যাট); মো. শাহজাহান মিয়া (বাস) ও মোশতাক আহমেদ রউফ মোস্তফা (হরিণ)।








