সিলেট মহানগরীর ছয়টি থানায় লাইসেন্সধারী আগ্নেয়াস্ত্র নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও জমা দেননি অনেকে। যারা আগ্নেয়াস্ত্র জমা দেননি ইতোমধ্যে তাদের তালিকা তৈরি করেছে পুলিশ।
মহানগর পুলিশের ছয়টি থানায় ৩৬ জন আগ্নেয়াস্ত্র জমা দেননি। যারা আগ্নেয়াস্ত্র জমা দেননি থানাভিত্তিক তালিকা যৌথ বাহিনীর কাছে পাঠানো হবে। পরে পুলিশের দেওয়া তালিকা অনুসারে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য অভিযান চালাবে যৌথ বাহিনী।
পুলিশ সূত্র জানায়, সিলেট মহানগরীতে ২৪৬টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ছিল। এর মধ্যে ১০ জন লাইসেন্স নিলেও তারা অস্ত্র কেনেননি। ব্যাংকের নিরাপত্তায় থাকা কিছু আগ্নেয়াস্ত্র জমা হয়নি। মহানগরীতে রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীসহ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাদের কাছে রক্ষিত জমা যোগ্য ১৯৩টি আগ্নেয়াস্ত্র থাকলেও জমা হয়েছে ১৫৭টি। সবমিলিয়ে ৩৬টি আগ্নেয়াস্ত্র জমা পড়েনি।
এদিকে, ৫ আগস্ট সিলেট মহানগরীর কয়েকটি থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালায় ছাত্র-জনতা। এ সময় পুলিশের ১০১টি বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়। পরে পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপে লুণ্ঠিত বিভিন্ন ধরনের ৮১টি আগ্নেয়াস্ত্র জমা দিলেও এখন পুলিশের ২১টি পাওয়া যায়নি।
বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এসব তথ্য বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেন সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, যারা আগ্নেয়াস্ত্র জমা দেননি তাদের তালিকা পুলিশ ইতিমধ্যে প্রস্তুত করেছে। অস্ত্র উদ্ধারের জন্য অভিযানে নামবে যৌথ বাহিনী। কারণ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অস্ত্র জমা না দেওয়ায় এগুলো এখন অবৈধ বলে বিবেচিত হবে।
সিলেট জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জানান, পুলিশ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য অভিযান চালাবে। সেজন্য পুলিশ তালিকা তৈরির কাজ করে যাচ্ছে। যারা অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়েছেন, তাদের অনেকের ভিডিও, ছবি আমরা সংগ্রহ করেছি। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ আইনি ব্যবস্থা নেবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত যাদের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, তাদের আগামী ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে গোলাবারুদসহ আগ্নেয়াস্ত্র সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দিতে হবে।
এরই মধ্যে গত রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বার্তায় জানানো হয়েছে, ৪ সেপ্টেম্বর থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে।








