মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার দত্তগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক মুজিব আলীর (২০) মরদেহ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় পুলিশ ও বিএসএফ।
শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার চাতলাপুর চেকপোস্টে উভয় দেশের পুলিশ, বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যদের উপস্থিতিতে মরদেহটি বাংলাদেশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এসময় নিহতের স্বজনরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত শুক্রবার (১২ জুন) বিকালে দত্তগ্রাম সীমান্ত সংলগ্ন ভারতের অভ্যন্তরে লখাইরচর এলাকায় বিএসএফের গুলিতে নিহত হন মুজিব। তিনি দত্তগ্রাম এলাকার মৃত অজিবুর আলীর ছেলে।
শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের (৪৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ জানান, এই হত্যাকাণ্ডের পর বিজিবির পক্ষ থেকে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে যোগাযোগের মাধ্যমে বিএসএফ কমান্ড্যান্টকে শক্ত প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি লিখিতভাবে জোড়ালো প্রতিবাদ লিপি পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া কোম্পানি ও বিওপি কমান্ডার পর্যায়ে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফকে শক্ত প্রতিবাদ জানানো হয়। বিজিবি’র সার্বিক প্রচেষ্টা ও পর্যাপ্ত সমন্বয়ের পর চাতলাপুর আইসিপি (চেকপোস্ট) দিয়ে ভারতীয় পুলিশ বাংলাদেশ পুলিশের নিকট লাশ হস্তান্তর করে। কুলাউড়া থানা পুলিশ লাশ বুঝে নেওয়ার পর স্থানীয় শরীফপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জয়নুল ইসলামের উপস্থিতিতে নিহত মুজিবের আপন চাচা মো. ফজির আলীর নিকট মরদেহটি হস্তান্তর করা হয়েছে।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না বিএসএফ কর্তৃক মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে ঘটনার পর শুক্রবার রাতে ৪৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুলাউড়ার দত্তগ্রাম সীমান্ত এলাকা দিয়ে ৬-৭ জনের একটি বাংলাদেশি চোরাকারবারি দল ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহায়তায় মালামাল আনার জন্য সীমান্ত পিলার ১৮৫২/৫-এস থেকে ৫০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে লখাইরচরে প্রবেশ করে। এসময় ১৯৯ ব্যাটালিয়নের লাঠিয়াপুড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের বাধা দিলে চোরাকারবারিরা বিএসএফ সদস্যদের ওপর আক্রমণের চেষ্টা করে। বিজিবি জানায়, বিএসএফ সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই মুজিব আলী মারা যান এবং বাকিরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পালিয়ে এসে আত্মগোপন করেন।









