অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আকিব উল হককে শিক্ষা কার্যক্রম থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কলাভবনে তার কক্ষটি (৩০৪৯) সিলগালা করা হয়েছে। ঢাবি মনোবিজ্ঞান বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটি (এসি) বৃহস্পতিবার (৪ জানুয়ারি) এই সিদ্ধান্ত নেয়। বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. নাসরীন ওয়াদুদ বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আকিব উল হকের কক্ষের তালা ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের প্রভাষক উম্মে কাউসার লতাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আকিব উল হকের স্ত্রী তাহমিনা সুলতানা ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগটি দেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, এডুকেশনাল ও কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগ ও মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যানের কাছে। ‘ছুটির দিনে বিভাগীয় কক্ষে শিক্ষা চর্চার পরিবর্তে অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়া’র কারণ উল্লেখ করা হয় এতে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাবি মনোবিজ্ঞান বিভাগ কর্তৃপক্ষ এই ব্যবস্থা নিলো।
এর আগে গত ২ জানুয়ারি এডুকেশনাল ও কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগ কর্তৃপক্ষ উম্মে কাউসার লতাকে এক বছরের জন্য সব শিক্ষা কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়।
এসব বিষয়ে মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নাসরীন ওয়াদুদ বলেন, ‘অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার কারণে আমরা আকিবকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিভাগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে আমরা একটি নিন্দা প্রস্তাব পাঠাবো।’
অনির্দিষ্টকালের জন্য অব্যাহতি প্রসঙ্গে মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান বলেন, ‘আকিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কতদিন লাগে ভেবে আমরা অনির্দিষ্টকালের জন্য অব্যাহতি দিয়েছি।’
কিন্তু ঘটনার ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। এ প্রসঙ্গে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘প্রক্টরকে ঘটনার প্রতিবেদন দিতে বলেছি। এটি দিলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপাচার্যের মন্তব্যের সূত্র ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর কাছে জানতে চাওয়া হয়। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বললেন, ‘প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়টি চলমান রয়েছে। শিগগিরই এটি জমা পড়বে।’








