এমপিওভুক্তি: সুখবর পাচ্ছে গ্রাম পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

এস এম আববাস
০২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৮:৫৬ আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৮:৫৬

শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২০১৮ সালের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে যেসব শর্ত ছিল তা শিথিল করছে সরকার। গ্রাম এবং শহর এলাকার সব প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে শর্ত শিথিল করা হচ্ছে। বিদ্যমান নীতিমালায় শহর ও গ্রামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য একই শর্ত থাকলেও এবার গ্রামের অনগ্রসর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য শর্ত আরও বেশি শিথিল করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২০১৮ সালের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা সংশোধন করে এই শর্ত শিথিল করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নীতিমালা সংশোধনের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণে যা কিছু প্রয়োজন সরকার তা-ই করে যাচ্ছে এবং করে যাবে। এ কারণেই নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে। নীতিমালায় যে অসঙ্গতি রয়েছে তা নিরসনের জন্য কাজ করা হচ্ছে। এতে শিক্ষকদের চলমান সমস্যা সমাধান হবে।’
২০১৮ সালের এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিতে চারটি শর্ত পূরণ করতে হতো। চারটি শর্তের মধ্যে ছিল—প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতির বয়স, শিক্ষার্থী সংখ্যা, পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এবং পাসের হার। ওই নীতিমালায় রাজধানীসহ দেশের শহর ও গ্রামে একই শর্ত প্রযোজ্য ছিল। যা নিয়ে তীব্র আপত্তি ছিল শিক্ষকদের। তাদের দাবি ছিল অনগ্রসর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য শর্ত শিথিল করতে হবে। অবশেষে তাদের সে দাবি পূরণ হতে যাচ্ছে।

‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮’ অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির চারটি শর্তের প্রতিটির মান ২৫ নম্বর। এই ১০০ নম্বরের মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হওয়া সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। নীতিমালার ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এমপিও পেতে প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি থাকার জন্য নম্বর ২৫। অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতির ক্ষেত্রে প্রতি দুই বছরের জন্য ৫ নম্বর এবং ১০ বা এর চেয়ে বেশি বছর হলে পাবে পূর্ণ ২৫ নম্বর।
শিক্ষার্থী সংখ্যার জন্য রয়েছে ২৫ নম্বর। কাম্যসংখ্যক শিক্ষার্থী থাকলে ওই প্রতিষ্ঠান পাবে ১৫ নম্বর এবং এর পরবর্তী ১০ শতাংশ বৃদ্ধির জন্য পাবে ৫ নম্বর করে।
পরীক্ষার্থীর সংখ্যায়ও রয়েছে ২৫ নম্বর। কাম্যসংখ্যক পরীক্ষার্থীর জন্য ১৫ নম্বর, কাম্যসংখ্যার পরবর্তী প্রতি ১০ জনের জন্য পাবে ৫ নম্বর করে।
পাবলিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণের পরিসংখ্যানেও স্বীকৃত পাওয়ার নম্বর ২৫। এরমধ্যে কাম্যহার অর্জনের ক্ষেত্রে ১৫ নম্বর, পরবর্তী প্রতি ১০ শতাংশের জন্য পাবে ৫ নম্বর।
এই নীতি অনুসরণ করে ২০১৯ সালে ২ হাজার ৭৩৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির তালিকা তৈরি হয়। এরমধ্যে দু-একটি প্রতিষ্ঠান বাদ পড়েছে বিভিন্ন সমস্যার কারণে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিদ্যমান নীতিমালা সংশোধন সংক্রান্ত বৈঠকে এমপিওভুক্তির জন্য নীতিমালার এই শর্ত শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেওয় হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্রাম পর্যায়ের অনগ্রসর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে বেশি সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সংশোধিত নীতিমালায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে তিন এলাকায় বিভক্ত করা হয়েছে। যথাক্রমে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও মফস্বল এলাকা। নিম্ন মাধ্যমিক স্তরের (ষষ্ঠ থেকে অষ্টম) প্রতিটি শ্রেণিতে ৪০ জন করে শিক্ষার্থী থাকতে হবে। একটি শ্রেণিতে ৮০ জন শিক্ষার্থী হলে নতুন শাখা খুলতে পারবে। মাধ্যমিক স্তরে প্রতি শ্রেণিতে ৪০ জন করে শিক্ষার্থী থাকতে হবে। সিটি করপোরেশন এলাকার উচ্চমাধ্যমিক স্তরে তথা একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষার প্রতি বিভাগে ৫০ জন করে মোট ১০০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। একই স্তরের মফস্বল এলাকায় প্রতি শ্রেণিতে ৪০ জন করে মোট ৮০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। পাবলিক পরীক্ষায় ৩৫ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করতে হবে। মফস্বল এলাকার বিজ্ঞান বিভাগে প্রতি শ্রেণিতে ৩০ জন করে শিক্ষার্থী থাকতে হবে।
সিটি করপোরেশন এলাকায় নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্তরে পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশ, পৌর এলাকায় ৬০ ও মফস্বল এলাকার প্রতিষ্ঠানে ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করতে হবে। সিটি করপোরেশন এলাকায় উচ্চমাধ্যমিক স্তরে পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ৬৫ শতাংশ, পৌর এলাকায় ৬০ ও মফস্বল এলাকার প্রতিষ্ঠানে ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করতে হবে। আর ডিগ্রি স্তরে সিটি করপোরেশেন এলকায় ৫৫ শতাংশ, পৌর এলাকায় ৫০ শতাংশ ও মফস্বল এলাকায় ৪৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করতে হবে। ভাড়া বাসা-বাড়িতে পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে না।

/এমআর/
সম্পর্কিত
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১০ দিনের ছুটি শুরু, কোথায় কত দিন বন্ধ
একাদশে ভর্তির প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন নির্দেশনা
রাজশাহীতে যে কারণে কোচিং সেন্টার বন্ধের নির্দেশ জেলা প্রশাসনের
সর্বশেষ খবর
আজ কমবে তাপমাত্রা, আবহাওয়া থাকবে শুষ্ক
আজ কমবে তাপমাত্রা, আবহাওয়া থাকবে শুষ্ক
এমবাপ্পের জোড়া গোলে রিয়ালের বড় জয়
এমবাপ্পের জোড়া গোলে রিয়ালের বড় জয়
টিভিতে আজকের খেলা (১৯ অক্টোবর, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা (১৯ অক্টোবর, ২০২৬)
আহ্বায়কের বাসায় হামলার ঘটনায় একই কমিটির সদস্যসচিব গ্রেফতার
আহ্বায়কের বাসায় হামলার ঘটনায় একই কমিটির সদস্যসচিব গ্রেফতার
সর্বাধিক পঠিত
সৌদিতে নজরুলের মৃত্যুদণ্ডের খবর শুনে ফুফুর মৃত্যু, কী ঘটেছিল জানালেন বাবা-মা
সৌদিতে নজরুলের মৃত্যুদণ্ডের খবর শুনে ফুফুর মৃত্যু, কী ঘটেছিল জানালেন বাবা-মা
শাহজালাল বিমানবন্দরের এমন রূপ কেউ কখনও দেখেননি আগে 
শাহজালাল বিমানবন্দরের এমন রূপ কেউ কখনও দেখেননি আগে 
সেনা সদস্যদের জীবনমান আরও উন্নত করতে ‘ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন
সাভার ক্যান্টনমেন্টে প্রধানমন্ত্রী  সেনা সদস্যদের জীবনমান আরও উন্নত করতে ‘ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পেনশন’ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন
‘আমি সাধারণ বিদেশি নই’: দেশ ছাড়ার নোটিশকে চ্যালেঞ্জ নায়ক ইমরান খানের
‘আমি সাধারণ বিদেশি নই’: দেশ ছাড়ার নোটিশকে চ্যালেঞ্জ নায়ক ইমরান খানের
মধ্যরাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের স্ট্যাটাস, কথা বলেছেন পদত্যাগ নিয়ে
মধ্যরাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের স্ট্যাটাস, কথা বলেছেন পদত্যাগ নিয়ে