পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সব ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে। পক্ষান্তরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারি সহায়তা নেই। উপরন্তু আছে ভ্যাট ও ট্যাক্স। তাই বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতা, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ (বিওটি), উপাচার্য এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি (এপিইউবি) প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে একটি অংশীদারত্বের পরামর্শ কাঠামো গঠন করা উচিত। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাস্তব পরিস্থিতি, পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জ এবং খাতনির্ভর বৈচিত্র্য উপেক্ষা করা হচ্ছে। এই বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের খরচ বাঁচানো এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ রাখতে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এই ট্যাক্স-ভ্যাট প্রত্যাহার জরুরি।
দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি কমানো, শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা নিয়ে এসব কথা বলেছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান মো. সবুর খান।
বাংলা ট্রিবিউন: বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কি নীতিমালা প্রণয়ন বা সংশোধনের আগে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরামর্শ করে?
সবুর খান: অতীতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) নীতিমালা প্রণয়নের সময় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে গঠনমূলক বা নিয়মিত পরামর্শের কোনও কাঠামোগত প্রক্রিয়া বজায় রাখেনি। মাঝে মাঝে কিছু সংলাপ বা আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও সেগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নীতিমালা প্রণয়নের পর, অথবা সীমিত পরিসরে হয়েছে। এ ধরনের চাপিয়ে দেওয়া পদ্ধতি প্রায়ই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাস্তব পরিস্থিতি, পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জ এবং খাতনির্ভর বৈচিত্র্য উপেক্ষা করে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির (এপিইউবি) সভাপতি হিসেবে আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ (বিওটি), উপাচার্য এবং এপিইউবি প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে একটি আবশ্যিক অংশীদার পরামর্শ কাঠামো গঠন করা উচিত।
কারণ অংশগ্রহণমূলক নীতি প্রণয়ন পদ্ধতি আরও বাস্তবসম্মত, প্রয়োগযোগ্য এবং উদ্ভাবনবান্ধব নির্দেশিকা নিশ্চিত করবে, যা খাতটিকে পিছিয়ে না রেখে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।
বাংলা ট্রিবিউন: যেহেতু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কোনও ধরনের সরকারি সহায়তা পায় না; তাহলে সরকার বা ইউজিসির কাছ থেকে আপনারা কী ধরনের সহায়তা আশা করেন?
সবুর খান: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কোনও ধরনের সরকারি অর্থায়ন বা জমি বরাদ্দ পায় না। কোনও গবেষণা অনুদান বা ভর্তুকিও পায় না। এছাড়া অবকাঠামোগত বা সরবরাহ সংক্রান্ত কোনও সরকারি সহায়তা, কোনও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বা কর অব্যাহতি পায় না। যদিও তারা জনসেবাই দিয়ে থাকে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা কিছু সহায়তার প্রস্তাব করছি। সেগুলো হলো— যোগ্যতাভিত্তিক প্রক্রিয়ায় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো জাতীয় গবেষণা অনুদান প্রাপ্তির সুযোগ। এখানে শিক্ষা সংক্রান্ত উপকরণ, যেমন- পাঠ্যবই, গবেষণাগার, সফটওয়্যার ইত্যাদির জন্য কর ও ভ্যাট ছাড়।
বিভাগীয় বা জেলা শহরগুলোতে জমি বরাদ্দের সহায়তা, যাতে উচ্চশিক্ষার বিস্তার সম্ভব হয়। শূন্য সুদে বা স্বল্প সুদে শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নের ঋণ। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সরকারি অ্যাকাডেমিক অনুদান ও পুরস্কারে অন্তর্ভুক্তির স্বীকৃতি।
এই ধরনের সহায়তা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তাদের স্বায়ত্তশাসন অক্ষুণ্ন রেখে মান উন্নয়ন ও প্রসারে সহায়তা করবে।
বাংলা ট্রিবিউন: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানদণ্ডের তারতম্য আছে। ইউজিসি’র কি কর্মদক্ষতাভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত?
সবুর খান: নিশ্চয়ই। বর্তমানে যেভাবে একই নিয়ম সবার জন্য প্রয়োগ করা হয়, তা উচ্চমানসম্পন্ন ও নিয়ম মেনে চলা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে একই কাতারে ফেলে দেয়। এটি একদিকে যেমন অন্যায়, তেমনি অকার্যকর।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি (এপিইউবি) জোরালোভাবে একটি কর্মদক্ষতাভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছে। যেখানে কিছু সূচক বিবেচনায় নেওয়া হবে। যেমন- বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল (বিএসি), বিএইটিই, এবিইটি বা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। স্নাতক পর্যায়ে চাকরির হার। গবেষণার ফলাফল ও উদ্ধৃতির সংখ্যা। অবকাঠামো ও শিক্ষকদের মান। শিক্ষার্থীদের সন্তুষ্টি ও ধারাবাহিক উপস্থিতি।
ইউজিসি’র উচিত, উৎকৃষ্ট কর্মক্ষমতাসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দ্রুত অনুমোদন, সরকারি অনুদানে যোগ্যতা ও অ্যাকাডেমিক স্বায়ত্তশাসন দেওয়া। অনিয়মিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি কঠোর করা।
বাংলা ট্রিবিউন: উদীয়মান বিষয়গুলো, যেমন- অর্থনৈতিক প্রযুক্তি (ফিনটেক), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বায়োটেকনোলজি— এসব বিষয়ে অনুমোদনের ধীরগতি কি শিক্ষার অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে?
সবুর খান: অবশ্যই এবং সেটি খুবই মারাত্মকভাবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অর্থনৈতিক প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা বায়োটেকনোলজি, ডেটা সায়েন্স ইত্যাদি বিষয়ে প্রস্তাবিত পাঠক্রমগুলো অনেক ক্ষেত্রেই ১২ থেকে ২৪ মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। যদিও এসব বিষয়ে শিল্পক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক চাহিদা ও শিক্ষার্থীদের বিপুল আগ্রহ রয়েছে।
এ ধরনের দীর্ঘসূত্রতা চতুর্থ শিল্পবিপ্লব উপযোগী দক্ষতা তৈরির ক্ষেত্রে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গতিশীলতা নষ্ট করে দেয়।
ইউজিসি’র উচিত এই ধরনের বিশ্বব্যাপী প্রাসঙ্গিক ও শিল্পঘনিষ্ঠ অ্যাকাডেমিক প্রোগ্রামের জন্য একটি দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়া চালু করা, যাতে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে অনুমোদন প্রদান করা যায়।
বাংলা ট্রিবিউন: জিইডি (সাধারণ শিক্ষাগত উন্নয়ন সনদ)-কে স্নাতক (গ্র্যাজুয়েট) প্রোগ্রামের প্রবেশপথ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত কিনা?
সবুর খান: বিশ্বব্যাপী জিইডি সনদকে উচ্চ মাধ্যমিক সমমান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বাংলাদেশও এই মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। যেমন- জিইডি গ্র্যাজুয়েটদের স্নাতক (অ্যান্ডার গ্রাজুয়েট) প্রোগ্রামে আবেদন করার সুযোগ দেওয়া। প্রয়োজন হলে প্রস্তুতিমূলক কোর্স (ব্রিজ) বা ফাউন্ডেশন কোর্স চালু করে প্রস্তুতি নিশ্চিত করা। কঠোর ভর্তি শর্তের কারণে শিক্ষার্থীদের বর্জনের ঝুঁকি কমানো।
এতে অপ্রচলিত শিক্ষার্থী এবং প্রবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা আরও সুলভ এবং গ্রহণযোগ্য হবে।
বাংলা ট্রিবিউন: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে পিএইচডি, গবেষণা এবং পোস্ট-ডক্টরাল শিক্ষা উন্নত করতে পারে?
সবুর খান: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা এবং পিএইচডি প্রোগ্রাম বৃদ্ধি করতে আগ্রহী হলেও বড় বাধার সম্মুখীন হয়। যেমন- অনেক পিএইচডি প্রোগ্রামের অনুমোদন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) অপেক্ষমাণে। জাতীয় গবেষণা অনুদান বা অর্থায়ন না পাওয়া। পোস্ট-ডক্টরাল ফেলোশিপের অভাব।
এসব সমস্যা সমাধানের জন্য করণীয় হলো— ইউজিসি তাৎক্ষণিকভাবে যোগ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পিএইচডি প্রোগ্রাম অনুমোদন দিতে হবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গবেষণা অনুদানের ব্যবস্থা করতে হবে। শিল্প ও সরকার যৌথভাবে পোস্ট-ডক্টরাল ফেলোশিপ ও উদ্ভাবনী কেন্দ্র অর্থায়ন করতে হবে। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতামূলক পিএইচডি প্রোগ্রামের সুযোগ ইউজিসি’র তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
বাংলা ট্রিবিউন: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জনসেবা দেওয়া সত্ত্বেও পূর্ণ পরিমাণে ভ্যাট বা কর প্রদান করে। এ বিষয়ে এপিইউবি’র অবস্থান কী?
সবুর খান: এটি একটি গুরুতর অসাম্য। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ১৫ শতাংশ করে ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) দেয় ভাড়া, আসবাবপত্র, আইটি সরঞ্জাম, গবেষণাগার সরঞ্জাম ইত্যাদিতে। ১০ শতাংশ আয়কর টিউশন ফিতে এবং জমি ও ইউটিলিটিজে পূর্ণ বাণিজ্যিক কর হার প্রদান করে। অপরদিকে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো করদাতাদের সম্পূর্ণ ভর্তুকি পায়। এপিবিউবি একটি বিস্তৃত শ্বেতপত্র প্রস্তুত করছে, যাতে আবেদন করা হয়েছে— শিক্ষা সংক্রান্ত পরিষেবায় ভ্যাট ও কর অব্যাহতি প্রদান করা হোক। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে অলাভজনক (নন-প্রফিট) জনসেবা সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনডিআর) সঙ্গে নীতিগত সংলাপ প্রতিষ্ঠা করা।
আমাদের বিশ্বাস, এই আর্থিক রেহাই সরাসরি শিক্ষার্থীদের উপকারে আসবে। যেমন- টিউশন খরচ কমবে এবং শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।
বাংলা ট্রিবিউন: একটি স্থায়ী ইউজিসি-এপিইউবি কর্মদল উচ্চশিক্ষার উন্নয়নে সহায়ক হবে কি?
সবুর খান: হ্যাঁ, এপিইউবি সরকারিভাবে এই প্রস্তাব রেখেছে। প্রস্তাবে একটি যৌথ কর্মদল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসি’র মধ্যে নিয়মিত সংলাপ সহজ করবে। নীতিমালা বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করবে। প্রোগ্রাম অনুমোদনে দেরি বা বিধি বিভ্রান্তি সমাধান করবে এবং অ্যাকাডেমিক উদ্ভাবন ও মান নিশ্চিতকরণ প্রচার করবে
এই মডেলটি ভারত (এআই সিটিই-বেসরকারি খাত টাস্কফোর্স) ও মালয়েশিয়ায় কার্যকর হয়েছে। আমরা ইউজিসি’র প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি— ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে এই সহযোগিতা আনুষ্ঠানিকীকরণ করতে হবে।
বাংলা ট্রিবিউন: পাঠক ও নীতিনির্ধারকদের জন্য আপনার কিছু বলবেন?
সবুর খান: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বর্তমানে চার লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীকে শিক্ষাদান করছে। লক্ষাধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে এবং গবেষণা, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এরা কোনও ধরনের সরকারি ভর্তুকি ছাড়াই জনকল্যাণমূলক কাজ করছে। এখন সময় এসেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ন্ত্রণভিত্তিক শাসনব্যবস্থা থেকে সক্ষমতাভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় রূপান্তর করার।
এপিইউবি জবাবদিহি, উদ্ভাবন এবং মানোন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আর সঠিকভাবে ইউজিসি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আমরা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে সামগ্রিকভাবে উন্নীত করতে পারি।
শেষ কথায় আমি কিছু অতিরিক্ত বিষয়ে জোর দিতে চাই। যেমন- মাননিয়ন্ত্রণ ও স্বীকৃতিদানে জোর দেওয়া: যদিও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে, এখন সবচেয়ে জরুরি হলো মানের ওপর কঠোর মনোযোগ দেওয়া। একটি শক্তিশালী, স্বাধীন স্বীকৃতিদান সংস্থা গঠন করা প্রয়োজন, যা ইউজিসির তত্ত্বাবধানে থেকে শিল্প ও শিক্ষাবিদদের প্রতিনিধিত্ব করবে। এটি জবাবদিহি নিশ্চিত এবং অব্যাহত মানোন্নয়নে সহায়তা করবে।
শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার: কোভিড-১৯ মহামারি শিক্ষা খাতে প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরেছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ডিজিটাল লার্নিং প্ল্যাটফর্ম গ্রহণে অগ্রগামী।
সরকার ও ইউজিসিকে ডিজিটাল অবকাঠামো এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণসহ শিক্ষা বিষয়ক প্রযুক্তিতে আরও বিনিয়োগে উৎসাহ ও সহায়তা করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং শিক্ষার মান উন্নয়ন করা যায়।
দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান যোগ্যতা: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিল্প খাতের চাহিদার প্রতি দ্রুত সাড়া দিতে পারে এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে সক্ষম। ইন্টার্নশিপ, যৌথ গবেষণা এবং পাঠ্যক্রম উন্নয়নে শিল্প খাতের সঙ্গে বৃহত্তর অংশীদারত্ব গড়ে তোলা উচিত।
এর ফলে আমাদের স্নাতকরা আরও কর্মবন্ধব এবং দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি অবদান রাখতে পারবে।
নৈতিকতা ও মূল্যবোধের বিকাশ: শুধু অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষই নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং নাগরিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দায়িত্বশীল নাগরিক ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্বায়নের সংযুক্তি: আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময় এবং যৌথ গবেষণা উদ্যোগে উৎসাহ প্রদান করলে বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে এবং শিক্ষার্থীরা বৈচিত্র্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করবে।
বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খাত জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার একটি শক্তিশালী স্তম্ভ। সহযোগিতামূলক নীতিমালা, অংশীদারত্বমূলক নিয়ন্ত্রণ কাঠামো এবং মানভিত্তিক অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারি। আমাদের তরুণ প্রজন্মকে ক্ষমতায়িত করতে পারি এবং দেশের টেকসই উন্নয়নে বলিষ্ঠ অবদান রাখতে পারি।
দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি কমানো, শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা নিয়ে এসব কথা বলেছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান মো. সবুর খান।
বাংলা ট্রিবিউন: বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কি নীতিমালা প্রণয়ন বা সংশোধনের আগে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরামর্শ করে?
সবুর খান: অতীতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) নীতিমালা প্রণয়নের সময় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে গঠনমূলক বা নিয়মিত পরামর্শের কোনও কাঠামোগত প্রক্রিয়া বজায় রাখেনি। মাঝে মাঝে কিছু সংলাপ বা আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও সেগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নীতিমালা প্রণয়নের পর, অথবা সীমিত পরিসরে হয়েছে। এ ধরনের চাপিয়ে দেওয়া পদ্ধতি প্রায়ই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাস্তব পরিস্থিতি, পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জ এবং খাতনির্ভর বৈচিত্র্য উপেক্ষা করে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির (এপিইউবি) সভাপতি হিসেবে আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, বোর্ড অব ট্রাস্টিজ (বিওটি), উপাচার্য এবং এপিইউবি প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে একটি আবশ্যিক অংশীদার পরামর্শ কাঠামো গঠন করা উচিত।
কারণ অংশগ্রহণমূলক নীতি প্রণয়ন পদ্ধতি আরও বাস্তবসম্মত, প্রয়োগযোগ্য এবং উদ্ভাবনবান্ধব নির্দেশিকা নিশ্চিত করবে, যা খাতটিকে পিছিয়ে না রেখে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।
বাংলা ট্রিবিউন: যেহেতু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কোনও ধরনের সরকারি সহায়তা পায় না; তাহলে সরকার বা ইউজিসির কাছ থেকে আপনারা কী ধরনের সহায়তা আশা করেন?
সবুর খান: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কোনও ধরনের সরকারি অর্থায়ন বা জমি বরাদ্দ পায় না। কোনও গবেষণা অনুদান বা ভর্তুকিও পায় না। এছাড়া অবকাঠামোগত বা সরবরাহ সংক্রান্ত কোনও সরকারি সহায়তা, কোনও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বা কর অব্যাহতি পায় না। যদিও তারা জনসেবাই দিয়ে থাকে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা কিছু সহায়তার প্রস্তাব করছি। সেগুলো হলো— যোগ্যতাভিত্তিক প্রক্রিয়ায় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো জাতীয় গবেষণা অনুদান প্রাপ্তির সুযোগ। এখানে শিক্ষা সংক্রান্ত উপকরণ, যেমন- পাঠ্যবই, গবেষণাগার, সফটওয়্যার ইত্যাদির জন্য কর ও ভ্যাট ছাড়।
বিভাগীয় বা জেলা শহরগুলোতে জমি বরাদ্দের সহায়তা, যাতে উচ্চশিক্ষার বিস্তার সম্ভব হয়। শূন্য সুদে বা স্বল্প সুদে শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নের ঋণ। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সরকারি অ্যাকাডেমিক অনুদান ও পুরস্কারে অন্তর্ভুক্তির স্বীকৃতি।
এই ধরনের সহায়তা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তাদের স্বায়ত্তশাসন অক্ষুণ্ন রেখে মান উন্নয়ন ও প্রসারে সহায়তা করবে।
বাংলা ট্রিবিউন: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানদণ্ডের তারতম্য আছে। ইউজিসি’র কি কর্মদক্ষতাভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত?
সবুর খান: নিশ্চয়ই। বর্তমানে যেভাবে একই নিয়ম সবার জন্য প্রয়োগ করা হয়, তা উচ্চমানসম্পন্ন ও নিয়ম মেনে চলা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে একই কাতারে ফেলে দেয়। এটি একদিকে যেমন অন্যায়, তেমনি অকার্যকর।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি (এপিইউবি) জোরালোভাবে একটি কর্মদক্ষতাভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছে। যেখানে কিছু সূচক বিবেচনায় নেওয়া হবে। যেমন- বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল (বিএসি), বিএইটিই, এবিইটি বা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। স্নাতক পর্যায়ে চাকরির হার। গবেষণার ফলাফল ও উদ্ধৃতির সংখ্যা। অবকাঠামো ও শিক্ষকদের মান। শিক্ষার্থীদের সন্তুষ্টি ও ধারাবাহিক উপস্থিতি।
ইউজিসি’র উচিত, উৎকৃষ্ট কর্মক্ষমতাসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দ্রুত অনুমোদন, সরকারি অনুদানে যোগ্যতা ও অ্যাকাডেমিক স্বায়ত্তশাসন দেওয়া। অনিয়মিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি কঠোর করা।
বাংলা ট্রিবিউন: উদীয়মান বিষয়গুলো, যেমন- অর্থনৈতিক প্রযুক্তি (ফিনটেক), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বায়োটেকনোলজি— এসব বিষয়ে অনুমোদনের ধীরগতি কি শিক্ষার অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে?
সবুর খান: অবশ্যই এবং সেটি খুবই মারাত্মকভাবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অর্থনৈতিক প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা বায়োটেকনোলজি, ডেটা সায়েন্স ইত্যাদি বিষয়ে প্রস্তাবিত পাঠক্রমগুলো অনেক ক্ষেত্রেই ১২ থেকে ২৪ মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষমাণ রয়েছে। যদিও এসব বিষয়ে শিল্পক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক চাহিদা ও শিক্ষার্থীদের বিপুল আগ্রহ রয়েছে।
এ ধরনের দীর্ঘসূত্রতা চতুর্থ শিল্পবিপ্লব উপযোগী দক্ষতা তৈরির ক্ষেত্রে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গতিশীলতা নষ্ট করে দেয়।
ইউজিসি’র উচিত এই ধরনের বিশ্বব্যাপী প্রাসঙ্গিক ও শিল্পঘনিষ্ঠ অ্যাকাডেমিক প্রোগ্রামের জন্য একটি দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়া চালু করা, যাতে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে অনুমোদন প্রদান করা যায়।
বাংলা ট্রিবিউন: জিইডি (সাধারণ শিক্ষাগত উন্নয়ন সনদ)-কে স্নাতক (গ্র্যাজুয়েট) প্রোগ্রামের প্রবেশপথ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত কিনা?
সবুর খান: বিশ্বব্যাপী জিইডি সনদকে উচ্চ মাধ্যমিক সমমান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বাংলাদেশও এই মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। যেমন- জিইডি গ্র্যাজুয়েটদের স্নাতক (অ্যান্ডার গ্রাজুয়েট) প্রোগ্রামে আবেদন করার সুযোগ দেওয়া। প্রয়োজন হলে প্রস্তুতিমূলক কোর্স (ব্রিজ) বা ফাউন্ডেশন কোর্স চালু করে প্রস্তুতি নিশ্চিত করা। কঠোর ভর্তি শর্তের কারণে শিক্ষার্থীদের বর্জনের ঝুঁকি কমানো।
এতে অপ্রচলিত শিক্ষার্থী এবং প্রবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা আরও সুলভ এবং গ্রহণযোগ্য হবে।
বাংলা ট্রিবিউন: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে পিএইচডি, গবেষণা এবং পোস্ট-ডক্টরাল শিক্ষা উন্নত করতে পারে?
সবুর খান: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা এবং পিএইচডি প্রোগ্রাম বৃদ্ধি করতে আগ্রহী হলেও বড় বাধার সম্মুখীন হয়। যেমন- অনেক পিএইচডি প্রোগ্রামের অনুমোদন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) অপেক্ষমাণে। জাতীয় গবেষণা অনুদান বা অর্থায়ন না পাওয়া। পোস্ট-ডক্টরাল ফেলোশিপের অভাব।
এসব সমস্যা সমাধানের জন্য করণীয় হলো— ইউজিসি তাৎক্ষণিকভাবে যোগ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পিএইচডি প্রোগ্রাম অনুমোদন দিতে হবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গবেষণা অনুদানের ব্যবস্থা করতে হবে। শিল্প ও সরকার যৌথভাবে পোস্ট-ডক্টরাল ফেলোশিপ ও উদ্ভাবনী কেন্দ্র অর্থায়ন করতে হবে। বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতামূলক পিএইচডি প্রোগ্রামের সুযোগ ইউজিসি’র তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
বাংলা ট্রিবিউন: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জনসেবা দেওয়া সত্ত্বেও পূর্ণ পরিমাণে ভ্যাট বা কর প্রদান করে। এ বিষয়ে এপিইউবি’র অবস্থান কী?
সবুর খান: এটি একটি গুরুতর অসাম্য। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ১৫ শতাংশ করে ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) দেয় ভাড়া, আসবাবপত্র, আইটি সরঞ্জাম, গবেষণাগার সরঞ্জাম ইত্যাদিতে। ১০ শতাংশ আয়কর টিউশন ফিতে এবং জমি ও ইউটিলিটিজে পূর্ণ বাণিজ্যিক কর হার প্রদান করে। অপরদিকে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো করদাতাদের সম্পূর্ণ ভর্তুকি পায়। এপিবিউবি একটি বিস্তৃত শ্বেতপত্র প্রস্তুত করছে, যাতে আবেদন করা হয়েছে— শিক্ষা সংক্রান্ত পরিষেবায় ভ্যাট ও কর অব্যাহতি প্রদান করা হোক। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে অলাভজনক (নন-প্রফিট) জনসেবা সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনডিআর) সঙ্গে নীতিগত সংলাপ প্রতিষ্ঠা করা।
আমাদের বিশ্বাস, এই আর্থিক রেহাই সরাসরি শিক্ষার্থীদের উপকারে আসবে। যেমন- টিউশন খরচ কমবে এবং শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।
বাংলা ট্রিবিউন: একটি স্থায়ী ইউজিসি-এপিইউবি কর্মদল উচ্চশিক্ষার উন্নয়নে সহায়ক হবে কি?
সবুর খান: হ্যাঁ, এপিইউবি সরকারিভাবে এই প্রস্তাব রেখেছে। প্রস্তাবে একটি যৌথ কর্মদল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসি’র মধ্যে নিয়মিত সংলাপ সহজ করবে। নীতিমালা বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করবে। প্রোগ্রাম অনুমোদনে দেরি বা বিধি বিভ্রান্তি সমাধান করবে এবং অ্যাকাডেমিক উদ্ভাবন ও মান নিশ্চিতকরণ প্রচার করবে
এই মডেলটি ভারত (এআই সিটিই-বেসরকারি খাত টাস্কফোর্স) ও মালয়েশিয়ায় কার্যকর হয়েছে। আমরা ইউজিসি’র প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি— ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে এই সহযোগিতা আনুষ্ঠানিকীকরণ করতে হবে।
বাংলা ট্রিবিউন: পাঠক ও নীতিনির্ধারকদের জন্য আপনার কিছু বলবেন?
সবুর খান: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বর্তমানে চার লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীকে শিক্ষাদান করছে। লক্ষাধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে এবং গবেষণা, উদ্ভাবন ও আন্তর্জাতিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এরা কোনও ধরনের সরকারি ভর্তুকি ছাড়াই জনকল্যাণমূলক কাজ করছে। এখন সময় এসেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ন্ত্রণভিত্তিক শাসনব্যবস্থা থেকে সক্ষমতাভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় রূপান্তর করার।
এপিইউবি জবাবদিহি, উদ্ভাবন এবং মানোন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আর সঠিকভাবে ইউজিসি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আমরা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে সামগ্রিকভাবে উন্নীত করতে পারি।
শেষ কথায় আমি কিছু অতিরিক্ত বিষয়ে জোর দিতে চাই। যেমন- মাননিয়ন্ত্রণ ও স্বীকৃতিদানে জোর দেওয়া: যদিও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে, এখন সবচেয়ে জরুরি হলো মানের ওপর কঠোর মনোযোগ দেওয়া। একটি শক্তিশালী, স্বাধীন স্বীকৃতিদান সংস্থা গঠন করা প্রয়োজন, যা ইউজিসির তত্ত্বাবধানে থেকে শিল্প ও শিক্ষাবিদদের প্রতিনিধিত্ব করবে। এটি জবাবদিহি নিশ্চিত এবং অব্যাহত মানোন্নয়নে সহায়তা করবে।
শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার: কোভিড-১৯ মহামারি শিক্ষা খাতে প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরেছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ডিজিটাল লার্নিং প্ল্যাটফর্ম গ্রহণে অগ্রগামী।
সরকার ও ইউজিসিকে ডিজিটাল অবকাঠামো এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণসহ শিক্ষা বিষয়ক প্রযুক্তিতে আরও বিনিয়োগে উৎসাহ ও সহায়তা করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং শিক্ষার মান উন্নয়ন করা যায়।
দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান যোগ্যতা: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিল্প খাতের চাহিদার প্রতি দ্রুত সাড়া দিতে পারে এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে সক্ষম। ইন্টার্নশিপ, যৌথ গবেষণা এবং পাঠ্যক্রম উন্নয়নে শিল্প খাতের সঙ্গে বৃহত্তর অংশীদারত্ব গড়ে তোলা উচিত।
এর ফলে আমাদের স্নাতকরা আরও কর্মবন্ধব এবং দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি অবদান রাখতে পারবে।
নৈতিকতা ও মূল্যবোধের বিকাশ: শুধু অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষই নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং নাগরিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দায়িত্বশীল নাগরিক ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্বায়নের সংযুক্তি: আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময় এবং যৌথ গবেষণা উদ্যোগে উৎসাহ প্রদান করলে বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে এবং শিক্ষার্থীরা বৈচিত্র্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করবে।
বাংলাদেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খাত জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার একটি শক্তিশালী স্তম্ভ। সহযোগিতামূলক নীতিমালা, অংশীদারত্বমূলক নিয়ন্ত্রণ কাঠামো এবং মানভিত্তিক অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারি। আমাদের তরুণ প্রজন্মকে ক্ষমতায়িত করতে পারি এবং দেশের টেকসই উন্নয়নে বলিষ্ঠ অবদান রাখতে পারি।









