বৃত্তি-উপবৃত্তিতে ‘সমতা’ নয়, প্রয়োজনের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার: ববি হাজ্জাজ

বাংলা ট্রিবিউন রি‌পোর্ট
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:১১আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:১১

বৃত্তি ও উপবৃত্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রচলিত সমতার ধারণার পরিবর্তে শিক্ষার্থীর প্রকৃত আর্থিক প্রয়োজন ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, সরকারি সহায়তার প্রতিটি টাকা এমন শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে, যার শিক্ষা অব্যাহত রাখতে এই সহায়তা সত্যিকার অর্থে প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর, পিপিআরসি ও ইউনিসেফ আয়োজিত ‘প্রমাণ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ: বিদ্যালয় পর্যায়ের উন্নয়ন পরিকল্পনা (স্লিপ)-এর কার্যকারিতা বিষয়ক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সব শিক্ষার্থীকে সমানভাবে সহায়তা করলেই শিক্ষায় প্রকৃত সমতা নিশ্চিত হয় না। যার প্রয়োজন বেশি, তাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়াই প্রকৃত ন্যায্যতা।’

দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিশুদের জন্য সামান্য আর্থিক সহায়তাও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি এবং শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বৃত্তি-উপবৃত্তির নীতিতে পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা, শিশুর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি এবং শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দেন ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আর্থিকভাবে সক্ষম কোনও পরিবার সন্তানকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে ওই পরিবারের জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে বিবেচনা করা যেতে পারে। অন্যদিকে, যে পরিবার সন্তানের শিক্ষা ব্যয় বহনে হিমশিম খাচ্ছে, তাদের শিশুকে সহায়তায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু বিদ্যালয়ে শিশুর ভর্তি নিশ্চিত করা নয়; দারিদ্র্য, আর্থিক সংকট বা অন্য কোনও বাধার কারণে কোনও শিশু যেন শিক্ষা থেকে ছিটকে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা। এ জন্য বৃত্তি, উপবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ ও স্কুল ফিডিংসহ সব সহায়তা কর্মসূচিকে আরও সমন্বিত ও লক্ষ্যভিত্তিক করতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জীবনরক্ষাকারী দক্ষতা হিসেবে সাঁতার শেখানোর ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিশুরা জলাশয়, নদী ও পানিবেষ্টিত পরিবেশের সঙ্গে বসবাস করে। তাই সাঁতারকে শুধু ক্রীড়া হিসেবে না দেখে জীবনদক্ষতা ও নিরাপত্তার অংশ হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন ইউনিসেফের শিক্ষা বিশেষজ্ঞ জয় মিলান মালে। গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। আলোচনায় অংশ নেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব এডুকেশন দীপা শংকর ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী। এছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/এসএমএ/এম/
সম্পর্কিত
শ্যামলীর টিবি হাসপাতালকে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ ইনস্টিটিউট করা হবে: ববি হাজ্জাজ
বাংলা-ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে সামঞ্জস্য আনা হবে: ববি হাজ্জাজ
স্কুল ফিডিং শুধু পুষ্টি নয়, সুশাসনেরও পরীক্ষা: ববি হাজ্জাজ
সর্বশেষ খবর
ড্রোন ছিনতাইয়ের চেষ্টা ব্যর্থ করে ইরানের দুটি নৌযান ধ্বংস করলো যুক্তরাষ্ট্র
ড্রোন ছিনতাইয়ের চেষ্টা ব্যর্থ করে ইরানের দুটি নৌযান ধ্বংস করলো যুক্তরাষ্ট্র
১০ গোলের ম্যাচে মারিয়ারা শিখেছেন অনেক কিছু
১০ গোলের ম্যাচে মারিয়ারা শিখেছেন অনেক কিছু
মার্কিন ঘাঁটিতেও ঠেকানো যাচ্ছে না ইরানকে, বিকল্প খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো
মার্কিন ঘাঁটিতেও ঠেকানো যাচ্ছে না ইরানকে, বিকল্প খুঁজছে উপসাগরীয় দেশগুলো
কোচিং সেন্টারে শিক্ষার্থীদের আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে তোলপাড়, ঘটনাস্থলে ইউএনও-ওসি
কোচিং সেন্টারে শিক্ষার্থীদের আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে তোলপাড়, ঘটনাস্থলে ইউএনও-ওসি
সর্বাধিক পঠিত
জেলের জালে একসঙ্গে ধরা পড়লো ২৬ লাখ টাকার ইলিশ
জেলের জালে একসঙ্গে ধরা পড়লো ২৬ লাখ টাকার ইলিশ
একদিনের ছুটি নিতে পারলেই একটানা মিলবে ৫ দিনের ছুটি
একদিনের ছুটি নিতে পারলেই একটানা মিলবে ৫ দিনের ছুটি
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, জিএম প্রত্যাহার
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, জিএম প্রত্যাহার
পুলিশের খাবার পৌঁছানোর দৃশ্য বদলে দিলো নতুন ভ্যান
পুলিশের খাবার পৌঁছানোর দৃশ্য বদলে দিলো নতুন ভ্যান
যুক্তরাজ্য ভেঙে দিতে চায় তিন দেশ, হলো চুক্তি
যুক্তরাজ্য ভেঙে দিতে চায় তিন দেশ, হলো চুক্তি