X
সকল বিভাগ
সকল বিভাগ

মুন্সীগঞ্জে ৯ প্রেক্ষাগৃহের মধ্যে টিকে আছে একমাত্র পান্না

আপডেট : ১৪ মে ২০২২, ১৪:৫৬

দেশে বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ছিল বন্ধু-স্বজন নিয়ে সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখা। বিশেষ করে উৎসব মানেই ছিলো নতুন সিনেমা মুক্তি আর প্রেক্ষাগৃহে দর্শক জোয়ার। যদিও সেসব এখন বিলুপ্ত। দর্শক শূন্যতায় ভুগে একের পর এক বন্ধ হয়ে গেছে হল। অনেক জেলাশহরে এখন একটি সিনেমা হল-ও নেই।

জানা যায়, ২০০০ সাল পর্যন্ত মুন্সীগঞ্জ শহরসহ আশপাশের এলাকায় ৯টি সিনেমা হল ছিল। শহরে ছবিঘর ও দর্পণা, মুক্তারপুরের পান্না সিনেমা হল, কমলাঘাটের মিনার্ভা ও আয়না, ধলাগাঁও বাজারের আঁখি, টঙ্গিবাড়ী উপজেলা সদরের পপি, বেতকা বাজারের স্বপ্নছায়া ও আলদী বাজারের শীতল হল।

এই ৯টি হলের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ৮টিই বন্ধ হয়ে গেছে। যার মধ্যে ছবিঘর ভেঙে হয়েছে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন, মিনার্ভা ভেঙে আবাসিক অঞ্চল, দর্পণা ও আয়না সিনেমা হল ভেঙে কমিউনিটি সেন্টার গড়ে উঠেছে। এছাড়া উপজেলার হলগুলোরও একই পরিণতি।

বর্তমানে মুক্তারপুরের একমাত্র পান্না সিনেমা হল চালু আছে। ঈদে এখানে মুক্তি পেয়েছে শাকিব খান-বুবলীর নতুন ছবি ‘বিদ্রোহী’। কিন্তু দর্শক না হওয়ায় এবং লোকসানের পাল্লা ভারি হওয়ায় এ হলটিও বন্ধ হওয়ার উপক্রম প্রায়। শিল্প অধ্যুষিত এ অঞ্চলের বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম পান্না হল একসময় জমজমাট ছিল। হলভর্তি দর্শকও ছিল। কিন্তু আজ এসব শুধুই অতীত। ফলে হল মালিক বিকল্প ব্যবসার কথা ভাবছেন।

হলটির মালিক আজগর হোসেন বলেন, ‘বছরে দুটি ঈদ আর নতুন ছবির ক্ষেত্রে শুধু শুক্রবার দর্শকের সমাগম হয়। বছরের বাকি সময় দর্শক শূন্য থাকে সিনেমা হল। ছবি চালিয়ে লোকসান গুনতে হচ্ছে। তাছাড়া প্রতিটি বাজারের চায়ের দোকানে ক্যাবল টিভির মাধ্যমে বিভিন্ন ছবি দেখানো হয়। যার ফলে মানুষ এখন হলে আসতে চায় না।’

এ প্রসঙ্গে মিরকাদিম নবোদ্বয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি মনিরুজ্জামান শরিফ বলেন, ‘সত্তরের দশকে সিনেমা পিপাসুদের চাহিদা পূরণে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় মিরকাদিম বন্দরের খুব কাছেই  গড়ে উঠে মিনার্ভা সিনেমা হলটি। এর নির্মাণশৈলী ও সিট ক্যাপাসিটি বেশি থাকায় এখানে শুরু থেকেই ঢাকার সাথে পাল্লা দিয়ে নতুন নতুন সিনেমা মুক্তি পেতো। নতুন সিনেমা মুক্তি পাওয়ার কারণে মুন্সীগঞ্জ থেকে অনেকেই এখানে ছবি দেখতে আসতো। পরে এর কিছু দূরে গড়ে উঠে আরেকটি সিনেমা হল আয়না। এই সিনেমা হলটি নির্মিত হয় আশির দশকে। আয়না সিনেমা হলের নাম পরিবর্তন করে পরে হয় শাপলা সিনেমা হল। নব্বইয়ের দশকে বাংলা সিনেমার ব্যাপক চাহিদা ছিলো মিরকাদিমে। বর্তমানে সেই পরিবেশ আর নেই ফলে হলগুলো থেকে এ জনপদের মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।’

বন্ধ হয়ে যাওয়া দর্পণা সিনেমা হলের তৎকালীন ম্যানেজার মো. মনির হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, ‘আশির দশকে রাত ১২টার নাইট শো শেষ হওয়ার পরেও দর্শকদের অনুরোধে ছবি চালাতে হতো। দুই তিনজন টিকিট দিয়ে শেষ করতে পারতাম না। আর এখন ভালো ছবিও আসে না দর্শকও আসে না। পঁচিশ থেকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে একটা ছবি এনে এক সপ্তাহ চালালে অর্ধেক টাকাও উঠাতে পারি না। লাভ তো দূরের কথা স্টাফদের বেতনটাই দিতে পারি না। এভাবে দিনের পর দিন লোকসান গেছে। তাই হল বন্ধ করে দিয়েছি।’

মুন্সীগঞ্জে ৯ প্রেক্ষাগৃহের মধ্যে টিকে আছে একমাত্র পান্না রামপালের বাসিন্দা ব্যবসায়ী শেখ ফরিদ জানান, ৮০ দশকে সিনেমার স্বর্ণযুগে রামপাল ইউনিয়নে চালু হয় আঁখি সিনেমা হল। সেই সময়ে হলটিতে প্রতিযোগিতা করে বিভিন্ন সিনেমা  মুক্তি পেতো। বর্তমানে এ সিনেমা হলটি বন্ধ হয়ে গেছে। এক সময়ে এখানে মানুষের পদচারণায় গমগম থাকলেও বর্তমানে এটি ঝোপঝাড়ে ভরা।

সিনেমা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঘরে ঘরে সিনেমা দেখার ব্যবস্থা থাকায় হলে আর আগের মতো দর্শক যাচ্ছে না। ঘরে বসেই বিনোদনের সুযোগ নিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে মানুষ। হলে ছবি দেখার ক্ষেত্রে কেন এত বিমুখতা? এ বিষয়ে  সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের সাথে কথা বললে তারা বলেন, পরিবারের সকলকে নিয়ে হলে গিয়ে সিনেমা দেখার পরিবেশ নেই। তাছাড়া ঘুরে-শুয়ে-বসে মোবাইলে ছবি দেখা যায় আরাম করে। ফলে মানুষ আর আগের মতো সিনেমা হলে যাওয়ার আগ্রহ দেখায় না।

কলের গানের রেকর্ড সংগ্রাহক হিসেবে খ্যাত দরদী মাইক সার্ভিসের সত্ত্বাধিকারী নেসার আহম্মেদ হাজারী জানান, ‘আমাদের সময় সপ্তাহে দুটি করে সিনেমা মুক্তি পেতো ঢাকাতে। প্রতিযোগিতা করে সিনেমা চলতো । কার আগে কে এখানে নতুন সিনেমা আনবে তার প্রতিযোগিতা চলতো। সিনেমার গান, গল্প আর অভিনয়ে মন্ত্রমুগ্ধ থাকতো দর্শক। এখন আর সেই ধরনের ছবি বানাতে পারে না তাই দর্শকও নাই।’

মুন্সীগঞ্জ ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি তুষার রায় বলেন, ‘সিনেমা একজন মানুষের সৃজনশীল মনোভাব গঠনে ও বিকাশে ভূমিকা রাখে। আমরাই শেষ প্রজন্ম যারা হলে বসে সুন্দর পরিবেশে ছবি দেখার সুযোগ পেয়েছি। নতুন প্রজন্ম হলে বসে সিনেমা দেখার কথা ভাবতেও পারে না। পরিবেশের কারণে অভিভাবকরা শঙ্কায় থাকে তার সন্তানকে সিনেমা দেখতে পাঠাতে।’

মুন্সীগঞ্জের সন্তান নায়ক আশিক চৌধুরীর প্রত্যাশা, সিনেমা শিল্পকে বাঁচাতে সরকারের এগিয়ে আসা উচিত। প্রতিটি জেলায় আধুনিক সুবিধা সম্বলিত নতুন নতুন হল নির্মাণ করার প্রয়োজন বলেও মনে করেন এই তরুণ নায়ক।

/এএম/এমএম/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
সরকারের উন্নয়ন দেখে বিরোধী দলের মাথা নষ্ট: তাজুল ইসলাম
সরকারের উন্নয়ন দেখে বিরোধী দলের মাথা নষ্ট: তাজুল ইসলাম
ভিনিসিয়ুসের গোলে লিভারপুলকে হারিয়ে শিরোপা রিয়াল মাদ্রিদের
ভিনিসিয়ুসের গোলে লিভারপুলকে হারিয়ে শিরোপা রিয়াল মাদ্রিদের
‘মুক্তিযুদ্ধের সময়ও গুরুদায়িত্ব পালন করেন আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী’
‘মুক্তিযুদ্ধের সময়ও গুরুদায়িত্ব পালন করেন আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী’
কানে এবার সেরা কারা
কান উৎসব ২০২২কানে এবার সেরা কারা
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত