বেশ কিছুদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে বলিউড অভিনেতা আয়ুষ্মান বলেন , ‘একটি সিনেমায় এখন কতজন বড় তারকা রয়েছেন, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো গল্পটি কতটা শক্তিশালী এবং চিত্রনাট্য কতটা ভালোভাবে বাঁধা। দর্শককে সিনেমার সঙ্গে যুক্ত করতে শেষ পর্যন্ত গল্পের শক্তিই বড় ভূমিকা রাখে।’
বলিউডে সাম্প্রতিক সময়ে কম বাজেটে নির্মিত কিন্তু আয়ের দিকে এগিয়ে থাকা দুটি সিনেমা সেটিই আবার প্রমাণ করলো। সিনেমা দুটি হলো-মনোজ কুমারের পরিচালনায় ‘প্রেমাদা ওরালি’ ও ড. বিশাল চতুর্বেদী পরিচালিত ‘হনুমান অংশ’।
মাত্র আড়াই কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত কন্নড় সিনেমা প্রেমাদা ওরালি মুক্তির ১৮ দিনের মধ্যে আয় করেছে ৫৯ কোটি রুপি। সিনেমাটির এই সাফল্য এখন আলোচনায়।
ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী নির্মাতা মনোজ কুমারের পরিচালনায় সিনেমাটি শুরুতে দর্শক টানতে না পারলেও পরে মুখে মুখে প্রচারের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পায়। স্যাকনিল্কের হিসাব অনুযায়ী, মুক্তির প্রথম দিনে সিনেমাটি ৬০টি প্রদর্শনী থেকে আয় করেছিল প্রায় ৯ লাখ রুপি। তবে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে দর্শক ও প্রদর্শনীর সংখ্যা।
মুক্তির ১৮তম দিনে সিনেমাটির আয় হয় প্রায় ৫ কোটি রুপি। এই দিন পর্যন্ত ভারতে এর মোট নেট আয় দাঁড়িয়েছে ৫৯ কোটি রুপি। এটি মুক্তি পেয়েছে গত ২৫ সেপ্টেম্বর। এতে অভিনয় করেছেন রঙ্গায়না রঘু, রামিকা শিবু ও তপস্বিনী পুনাচ্চাসহ অনেকে।
সিনেমাটি মুক্তির আগের দিনও পরিচালক মনোজ কুমার আশঙ্কা করছিলেন, সিনেমাটি হয়তো দর্শক পাবে না। প্রচারের জন্য অর্থও ছিল সীমিত। তাই দর্শককে হলে টানতে অভিনব এক উদ্যোগ নেয় সিনেমাটির দল। বিয়ের দাওয়াতের মতো দেখতে কার্ড ছাপিয়ে বাসে বাসে ঘুরে অপরিচিত মানুষের হাতে সেগুলো তুলে দেন তারা।
তাদের এই প্রচেষ্টার সঙ্গে দর্শকের ইতিবাচক আলোচনা যোগ হওয়ায় ধীরে ধীরে সিনেমাটির প্রতি আগ্রহ বাড়ে।
কম বাজেটে তৈরি প্রেমাদা ওরালির আয় এখন নির্মাণব্যয়ের চেয়ে বেশ বেশি। এ কারণে কন্নড় সিনেমার অন্যতম লাভজনক সিনেমা হিসেবে আলোচনায় এসেছে এটি।
এদিকে কম বাজেটে নির্মিত হয়েও বক্স অফিসে বড় আয় করছে ‘হনুমান অংশ’। মাত্র ২ কোটি টাকা বাজেটের এই ছবিটি মুক্তির ৬৭ দিন পরেও প্রেক্ষাগৃহে চলছে । ছবিটি বর্তমানে মোট ২১৬টি শোয়ে প্রদর্শিত হচ্ছে। স্যাকনিল্ক এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী মোট প্রায় ৪৩৬ দশমিক ৮৩ কোটি ভারতীয় রুপি আয় করেছে।
এ ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন শোভিনাও সত্যা এবং চন্দন আনন্দ।
রোমান্টিকের বাইরে চরিত্র খুঁজছেন তটিনী