হলিউডে এখন বড় প্রশ্ন—শিল্প কি ধীরে ধীরে অল্প কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে? এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুই শক্তিশালী বিনোদন প্রতিষ্ঠান—প্যারামাউন্ট গ্লোবাল এবং ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকেই এই দুই স্টুডিওর মধ্যে এক ধরনের একীভূতকরণ বা ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা চলছে। এই সম্ভাবনার খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই হলিউডে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
শিল্পীদের আশঙ্কা, বড় দুটি প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে বা এক ছাতার নিচে চলে এলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত সংখ্যক মানুষের হাতে চলে যাবে। এতে নতুন নির্মাতা, ভিন্নধর্মী গল্প এবং ছোট প্রোডাকশনের সুযোগ কমে যেতে পারে।
এই উদ্বেগের প্রতিফলন ইতোমধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে। এক হাজারের বেশি নির্মাতা, অভিনেতা ও কলাকুশলী একত্র হয়ে এই ধরনের কর্পোরেট একীভূতকরণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
অভিনেত্রী মেরিল স্ট্রিপ বলেন, “হলিউড শুধু ব্যবসা নয়, এটি গল্প বলার জায়গা। সবকিছু যদি কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে যায়, তাহলে সেই স্বাধীনতা কমে যেতে পারে।”
অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও বলেন, “নতুন নির্মাতা ও ভিন্নধর্মী গল্পের জন্য সুযোগ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
অভিনেত্রী স্কারলেট জোহানসন বলেন, “সব সিদ্ধান্ত যদি অল্প কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকে, তাহলে শিল্পের বৈচিত্র্য কমে যেতে পারে।”
তবে এখন পর্যন্ত এই বিরোধিতা মূলত বিবৃতি, খোলা চিঠি এবং সংগঠিত অবস্থানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। রাস্তায় নেমে বড় ধরনের কোনো আন্দোলন বা বিক্ষোভ হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, বাড়তি প্রযোজনা খরচ, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের প্রতিযোগিতা এবং বিশ্ববাজারে টিকে থাকার চাপ—এই সব কারণেই বড় স্টুডিওগুলো এক হওয়ার দিকে ঝুঁকছে। তবে এতে করে ইন্ডাস্ট্রির ক্ষমতা অল্প কিছু প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
সব মিলিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে—হলিউড কি সত্যিই অল্প কয়েকটি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে, নাকি এটি কেবল ইন্ডাস্ট্রির স্বাভাবিক ব্যবসায়িক পরিবর্তন?





