নির্বাচনের আগেই ফলাফল নির্ধারণ!

Send
ওয়ালিউল মুক্তা
প্রকাশিত : ১৮:০১, মে ২২, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫৫, মে ২৩, ২০১৬

দুই প্রযোজককে (আজিজ-খসরু) সমঝোতার টেবিলে বসান ফরিদুর রেজা সাগর (মাঝে)।পেশিশক্তি, লোকবল, অস্ত্র প্রদর্শনের চিত্রনাট্যের ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতি’র নির্বাচন নতুন কাহিনিতে রূপ নিচ্ছে।
২৮ মে এ সমিতির নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু তার আগেই যেন ফলাফল নির্ধারণ করে ফেলেছেন ‌'সর্বপক্ষ'। নির্বাচনী মাঠে তুলোধুনো করা দুই সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থী আবদুল আজিজ ও খোরশেদ আলম খসরু তো বটেই খোদ নির্বাচন কমিশনও এই সমঝোতার পক্ষে!
তাদের মতে ভোট হবে, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদ- সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আগেই নির্ধারণ করা হবে।
তথ্য মতে, খসরু ও আজিজ আলাদা দুটি প্যানেল হলেও ইতোমধ্যে মৌখিকভাবে দু’পক্ষই ক্ষমতার ভাগাভাগি বিষয়ে সমঝোতা চূড়ান্ত করেছেন। এতে সিদ্ধান্ত হয়েছে প্রথম বছর সভাপতি হবেন আবদুল আজিজ এবং পরের বছর খোরশেদ আলম খসরু।
পদটির মেয়াদ মোট দুই বছর। তাই এভাবেই নিজেদের মধ্যে ক্ষমতার ভাগবাটোয়ারা করা।
বিষয়টি স্বীকারও করেছেন সভাপতি প্রার্থী আবদুল আজিজ। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চলচ্চিত্রের উন্নয়নের স্বার্থে আমরা এটা করতে চাই। যেন কোনও মামলা, হয়রানি কিংবা কোনও প্রকার ঝামেলা না হয়। সুস্থ চলচ্চিত্রের প্রসারের জন্য এ ঝামেলাগুলো এড়ানো জরুরি।'
তিনি জানান ইমপ্রেস টেলিফিল্মের চেয়ারম্যান ফরিদুর রেজা সাগর এ সমঝোতার উদ্যোক্তা। চ্যানেল আইয়ের অফিসে দু'একদিনের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তিনামা স্বাক্ষর হবে।
নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক খন্দকার রুহুল আমিন, সদস্য হিসেবে আছেন মীর্জা সাখাওয়াত ও আবদুল আলিম। আপিল কমিটির সভাপতি এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক মোতালেব হোসেন, সদস্য হিসেবে আছেন পরিচালক সমিতির সহ-সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান ও প্রদর্শক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম।
এদের মধ্যে পরিচালক সোহান বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলেন। তার ভাষ্য, 'এটা করার সুযোগ থেকেই যায়। কারণ ইসির সদস্যদের আগে নির্বাচন হবে। নির্বাচিতরা আবার ভোটে অংশ নেওয়ার কথা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদটি চূড়ান্ত করার জন্য। তাই ইসি সদস্যদের হাতেই মূলত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদটি। সদস্যরাই এ সমঝোতার মধ্যে আছেন। তারা যেহেতু চাচ্ছেন, তাই এ দুজনকে আগেই চূড়ান্ত করা সম্ভব। আবার ইসি কমিটির সদস্যদের জন্য ২৮ মে'র নির্বাচন ঠিকই হবে।'
এদিকে নির্বাচন নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে অনেকেরই। তাদের মতে সমঝোতা যদি আগেই করা হয়, তাহলে নির্বাচনের দরকার কী বা এত সময় ও নানা ধরনের শক্তি প্রদর্শনের প্রয়োজনটা কোথায়? তাছাড়া যে ইসি কমিটির সদস্যদের ভোটে সভাপতি পদটি নির্বাচিত হবে- তারাই তো এখনও অ-নির্বাচিত।
প্রার্থীদের অনেকেই জানান, যেহেতু তফসিল ঘোষণা হয়ে গেছে, তাই নির্বাচন করা হচ্ছে। সমঝোতা আগে হলে হয়তো এ নির্বাচনও হতো না।
/এম/এমএম/

লাইভ

টপ