সুচিত্রা সেন: প্রস্থানের ৪ বছর, পাবনায় স্মরণসভা

Send
ইমরোজ খোন্দকার বাপ্পি, পাবনা
প্রকাশিত : ০০:০৩, জানুয়ারি ১৭, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:৩৫, জানুয়ারি ১৭, ২০১৮

সুচিত্রা সেনবাংলা ছবির মহানায়িকা সুচিত্রা সেন প্রয়াণের চার বছর আজ। ২০১৪ সালের এই দিনে (১৭ জানুয়ারি) না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তিনি জন্মেছিলেন পাবনা জেলায়। তাই তাকে নিয়ে স্মরণসভা আয়োজন করা হয়েছে পাবনা টাউন গালর্স হাইস্কুল প্রাঙ্গণে, একই দিনে।

আগে এর নাম ছিল তৎকালীন মহাকালী পাঠশালা। এখানেই শৈশবে পড়াশোনা করেছিলেন সুচিত্রা।

স্মরণসভা আয়োজন করছে সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ। সহযোগিতা করছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও পাবনা জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স। স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি থাকবেন যথাক্রমে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রেজাউল রহিম লাল, পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির পিপিএম ও পাবনা প্রেসক্লাব সভাপতি প্রফেসর শিবজিত নাগ। স্বাগত বক্তব্য দেবেন সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সহ-সভাপতি ডা. রামদুলাল ভৌমিক।

সুচিত্রা সেনের পৈত্রিক বাড়ির সামনের অংশসুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সদস্যরা বলেন, ‘মহানায়িকা সুচিত্রা সেন বিস্ময়কর এক ইতিহাসের নাম। তিনি ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের আইকন। বাংলা চলচ্চিত্রের রোমান্টিক জনপ্রিয় ধারার পথিকৃৎ ভাবা হয় তাকে। তিনি উপমহাদেশের নায়ক-নায়িকা ও অভিনয়শিল্পীদের আদর্শ, বাঙালির গর্ব। তার সততা, নিষ্ঠা, একাগ্রতা স্মরণীয় ও শিক্ষণীয়। একজন সফল নায়িকা হিসেবে তিনি জীবনের জয়গান গেয়েছেন সর্বত্র। তার মতো নায়িকা হাজার বছরে জন্মায়। অভিনয়শৈলী ও দক্ষতার মাধ্যমে বাংলা ও হিন্দি ছবিকে সমৃদ্ধ করেছেন সুচিত্রা সেন।’

১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল তৎকালীন বৃহত্তর পাবনা জেলার (বর্তমান সিরাজগঞ্জ জেলা) বেলকুচির সেনভাঙার জমিদার বাড়িতে জন্ম নেন রমা দাশগুপ্ত। পরবর্তী সময়ে সুচিত্রা সেন নামে পরিচিত হন তিনি। বন্ধুরা তাকে চিনতো কৃষ্ণা দাশগুপ্ত নামেও। পরে পাবনা শহরের দিলালপুরের বাড়িতে কেটেছে তার শৈশব ও কৈশোর। সুচিত্রা সেন মহাকালী পাঠশালার ছাত্রী ছিলেন। পরে পশ্চিমবঙ্গে চলে যান পরিবারের সঙ্গে।

সুচিত্রা সেনের বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত ছিলেন তৎকালের পৌরসভার ট্যাক্স কালেক্টর। আর মা ইন্দিরা দাশগুপ্ত ছিলেন গৃহিণী। বাবা-মায়ের পঞ্চম সন্তান ও তৃতীয় কন্যা ছিলেন তিনি। ১৯৪৭ সালে শিল্পপতি দিবানাথ সেনের সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে জড়ান সুচিত্রা সেন। ১৯৫২ সালে ‘শেষ কোথায়’ ছবির মাধ্যমে তার রূপালি যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি আলোর মুখ দেখেনি। তার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলা ছবি ‘সাত নম্বর কয়েদি’ (১৯৫৩)। ওই বছরেই উত্তম কুমারের সঙ্গে তার প্রথম ছবি ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ মুক্তি পায়। বাংলা ছবির অবিসংবাদিত জুটি হিসেবে পরবর্তী ২০ বছরে উত্তম-সুচিত্রা হয়ে ওঠেন আইকন। তাদের একসঙ্গে শেষ ছবি হীরেন নাগ পরিচালিত ‘প্রিয় বান্ধবী’ মুক্তি পায় ১৯৭৫ সালে।

১৯৫৫ সালে হিন্দি ভাষায় নির্মিত ‘দেবদাস’ ছবিতে অভিনয় করেন সুচিত্রা সেন। ১৯৭৪ সালে ‘আঁধি’ নামে আরেকটি হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। এতে একজন রাজনীতিকের ভূমিকায় দেখা গেছে তাকে। তিনি মোট ৭টি হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেন। এছাড়া একটি তামিল ছবিতেও দেখা যায় তাকে। ১৯৭৮ সালে সুদীর্ঘ ২৫ বছর অভিনয়ের পর চলচ্চিত্র থেকে স্বেচ্ছা অন্তরালে চলে যান তিনি।

সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা‘সাত পাকে বাঁধা’ ছবির মাধ্যমে প্রথম ভারতীয় অভিনেত্রী হিসেবে ১৯৬৩ সালে মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার পান সুচিত্রা সেন। ভারত সরকার তাকে ১৯৭২ সালে ‘পদ্মশ্রী’ পুরস্কারে ভূষিত করেন এবং ২০০৫ সালে তাকে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। কিন্তু তিনি ওই পুরস্কার নিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য ২০১২ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাকে বঙ্গবিভূষণ পুরস্কারে ভূষিত করে। তবে তিনি সশরীরে আসেননি। তার পক্ষে মেয়ে মুনমুন সেন মায়ের পুরস্কার গ্রহণ করেন। লোকচক্ষুর অন্তরালে যাওয়ার পর মাঝে মহানায়ক উত্তম কুমারের মৃত্যুর পর তাকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলেন তিনি।

মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের পৈতৃক ভিটা পাবনা শহরের হীমসাগর লেনের বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতে ইসলামী পরিচালিত ইমাম গাযযালী ট্রাস্ট দখল করেছিল। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর ২০১৫ সালের দিকে বাড়িটি জেলা প্রশাসন দখলমুক্ত করে। পরে বাড়িটিকে সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংগ্রহশালা করা হয়েছে। তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের একটি ছাত্রী হলের নামকরণ করা হয়েছে ‘সুচিত্রা সেন হল’।সুচিত্রা উত্তমস

/জেএইচ/এমএম/

লাইভ

টপ