ফতুর হওয়ার পর শেষ সুযোগ হিসেবে বানিয়েছি ‘গান্ডু’: কিউ (ভিডিও)

Send
বিনোদন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১২:০০, নভেম্বর ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:২০, নভেম্বর ১৩, ২০১৯

কিউ (ছবি-সাজ্জাদ হোসেন)কৌশিক মুখার্জি ও কিউ একই ব্যক্তি। তবুও দু’জন একই চরিত্র নন! কৌশিক মুখার্জি মধ্যবিত্ত বাঙালি। কলকাতায় থাকতেন। কিউ নিজেকে মধ্যবিত্ত ভাবেন না। বাঙালিও নয়! তিনি এখন থাকেন ভারতের গোয়ায়। তার নিজের কথায়, ‘কৌশিক মুখার্জি ফিল্মমেকার নন। আমার বানানো সব ছবিতে পরিচালকের নাম দেওয়া হয়েছে কিউ।’

পাসপোর্টে নামটা কৌশিক মুখার্জিই আছে। সেই নাম ছেড়ে ব্যক্তিটি কিউ হয়ে যাওয়ার পেছনে একটি সিনেমা অন্যতম কারণ। এর নাম ‘ভিজিটর কিউ’। তার কাছে এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ সিনেমা। এতে বলা হয়েছে– কোনও বিপ্লবই ভেতর থেকে আসা সম্ভব নয়, বাইরে থেকেই তা আসবে। বাইরে থেকে যে তৃতীয় পক্ষ কাজ করছে তার নামই কিউ। সেখান থেকেই কৌশিক মুখার্জি হয়ে ওঠেন কিউ। র্যা পার গান্ডু নামেও তার আরেকটা পরিচিতি আছে। নিজেকে তিনি এখন ড. গান্ডু পরিচয় দেন!

ঢাকা লিট ফেস্টের নবম আসর উপলক্ষে বাংলাদেশে এসেছেন কিউ। মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) বিকালে রাজধানীর পান্থপথে বাংলা ট্রিবিউন কার্যালয়ে এসে নামসহ অনেক কিছু আড্ডা দিয়েছেন তিনি। সঞ্চালনা করেছেন ফাতেমা আবেদীন নাজলা।

মধ্যবিত্ত জীবনের জন্য মূলধারায় কাজ করেন না কিউ। তার কাজগুলো অন্য ঘরানার। তিনি মনে করেন, ‘এটি গাড়ি চালানোর মতো। মাঝখানে থেকে আলাদা হওয়া সম্ভব নয়। তাই মধ্যবিত্ত জীবন থেকে সরে এসেছি। কারণ ব্যক্তি স্বাধীনতা, শিল্প স্বাধীনতা ও সিনেমার স্বাধীনতা মধ্যবিত্তের নেই। সেজন্যই সে মধ্যবিত্ত। আমাদের কী শেখানো হচ্ছে বা আমরা কী জানছি তার মধ্য থেকেই ধ্যান-ধারণা আকার পায়। আমি যদি নিজেকে বাঙালি পরিচয় দেই তাহলে কিছু জিনিস আপনাআপনি চলে আসে। কিন্তু আমি সেগুলো মানতে রাজি নই। যেমন আমার নামের শেষাংশ মুখার্জি মানেই উচ্চশ্রেণির হিন্দু বাঙালি। আমার তো নিজেকে দেখে কোনোভাবেই ব্রাক্ষ্মণ মনে হয় না। আইডেন্টিটি পলিটিক্স থেকেই মুখার্জিকে পরিত্যাগ করেছি।’

কিউ পরিচালিত প্রথম ছবি ‘লাভ ইন ইন্ডিয়া’। তার কথায়– “এটি ফিকশন ছবি নয়, একটি ডকুমেন্টারি। আমার জীবন ও কৃষ্ণের জীবন, আমার প্রেমিকা ও রাধাসহ খুবই অবান্তর প্রশ্ন করেছি এই সিনেমায়। এটি বানাতে বানাতে আমার ফিল্মমেকার সত্তার বিকাশ ঘটে। প্রতিটি ছবিতেই ঘরানা বদলাচ্ছি। এগুলো মানুষ কীভাবে নিচ্ছে তা পুরোপুরি তাদের ওপর নির্ভর করে। কারও হয়তো শুধুই ‘তাসের দেশ’ ভালো লেগেছে। আমার ছবি আমার কাছে প্রচণ্ড প্রাসঙ্গিক। বাকি মানুষের কাছে তা না-ও হতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, এগুলো সাধারণ দর্শকদের কাছে পৌঁছানোর কথা নয়। তাদের কাছে পৌঁছায়ও না। এখন নেটফ্লিক্সের কল্যাণে অবশ্য চিত্রটা বদলেছে।’

‘লাভ ইন ইন্ডিয়া’ টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবসহ আন্তর্জাতিক আঙিনায় প্রশংসিত হয়েছে। এরপর একটি তথ্যচিত্রে অনেক বিনিয়োগ করেন কিউ। ওই ছবির জন্য তার ফ্রান্স যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভিসা না পাওয়ায় সব ভেস্তে যায়। এ কারণে তিনি ফতুর হয়ে যান বলা চলে। সেই স্মৃতি হাতড়ে কিউ বললেন, “তখন ভাবছিলাম, কে গান্ডু! আমি গান্ডু? নাকি ফরাসি দূতাবাস গান্ডু? মনে হলো, শেষবারের মতো একটা কিছু করি। সেই ভাবনা থেকে এসেছে ‘গান্ডু’। এটা আমার কাছে প্রেমের ছবি। তবে একটু অন্য ধরনের প্রেম। এখানে নারীদের নয়, বরং পুরুষকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছি।”

কিউ (ছবি-সাজ্জাদ হোসেন)‘গান্ডু’র সুবাদে কিউকে সবাই চেনে। এই ছবিই তাকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দিয়েছে। অথচ কলকাতাতেই এটি মুক্তি দিতে পারেননি তিনি। ২০১১ সালের নভেম্বরে কালীপূজার রাতে এই ছবি অনলাইনে ফাঁস হয়ে যায়। তখন ভাইরাল শব্দটির প্রচলন ছিল না।

কলকাতা ছাড়ার আগে লেখক নবারুন ভট্টাচার্যের ওপর একটি কাজ শেষ করেন কিউ। তার জীবনের শেষ দেড় বছর নিয়ে এটি সাজানো। নাম ‘নবারুন’। কিউ বলেন, ‘এটা অনেকটা ফ্যানবয় ধরনের সিনেমা। নবারুনদা আমার ভীষণ পছন্দের। এটি কিছুটা না-সিনেমা, না-ফিকশন। মাঝামাঝি একটা ব্যাপার রাখতে চেয়েছি।’

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘তাসের দেশ’ নিজের মতো করে উপস্থাপন করেছেন কিউ। এতে বাংলাদেশের সংগীতশিল্পী আনুশেহ আনাদিল গান করেছেন। এবার ঢাকায় এসে তার বাসাতেই উঠেছেন তিনি। আনুশেহর ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র বানাতে গিয়ে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে তার।

একসময় গানের চর্চা করতেন কিউ। ‘তাসের দেশ’ ছবির জন্য গেয়েছেনও। এটা তার কাছে অনেকটা শোধ! ছোটবেলায় কলকাতার সাউথ পয়েন্ট হাই স্কুলে পড়তেন। তখন ‘তাসের দেশ’ নিয়ে একটি কাজ হয়েছিল। কিন্তু তাকে সুযোগ দেওয়া হয়নি। যদিও তার প্রত্যাশা ছিল, ভালো গায়কীর জন্য ডাক পড়বে। ‘গান্ডু’র মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়ার পরই তিনি ঠিক করেন, এবার শোধ নেওয়ার পালা! রবীন্দ্রসংগীত নিয়ে যেসব ধ্যান-ধারণা প্রচলিত আছে সেগুলোর বারোটা বাজিয়ে দেখাবেন!

সম্প্রতি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘তারানাথ তান্ত্রিক’ নামে ওয়েব সিরিজ বানিয়েছেন কিউ। তার ধারণা, ধনী হলে এসব ছবি করতে পারতেন না! তাহলে চলচ্চিত্র নির্মাণের পুঁজি আসবে কোত্থেকে? তার সাদাসিধে উত্তর, ‘কোনোমতে। ভিক্ষা করে! আমাকেও দিনমজুরের মতো কাজ করতে হয়। আমি হলাম ফিল্ম জকি। চলচ্চিত্র শ্রমিক।’

/জেএইচ/

লাইভ

টপ