কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক নৃত্য উৎসবের সমাপ্তি

Send
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১২:১১, নভেম্বর ২৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৫৫, নভেম্বর ২৬, ২০১৯

বর্ণিল আয়োজনের মধ্যদিয়ে কক্সবাজারে অনুষ্ঠেয় ৪ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক নৃত্য উৎসবের সমাপ্তি ঘটলো। সোমবার (২৫ নভেম্বর) শহরের কার্নিভাল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন।
ওয়ার্ল্ড ড্যান্স অ্যালায়েন্স, এশিয়া প্যাসিফিকের (ডব্লিউডিএ, এপি) বাংলাদেশ শাখা নৃত্যযোগের আয়োজনে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আয়োজিত হয় এই আন্তর্জাতিক নৃত্য উৎসব- ‘ওশান ডান্স ফেস্টিভ্যাল-২০১৯’।
উৎসবের ভেন্যু কক্সবাজার হওয়ায় আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল বলেন, ‘এই উৎসব কক্সবাজার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ করে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে পর্যটন শিল্প বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। আগামী দিনে এই ধরণের অনুষ্ঠান কক্সবাজারে আয়োজন করার জন্য আয়োজকদের আহ্বান জানাই।’
সমাপ্তি দিনে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান চলে। এতে ‘আলী বাবা চল্লিশ চোর’ ছাড়াও কক্স কার্নিভাল মিলনায়তনে তাইওয়ানের সুটে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিয়া ইয়ু সু পরিবেশন করেন ‘ব্লোসম’, হংকংয়ের ওয়েই মিং প্যাকের ‘টয়লেট পাম্প’, ভারতের সুমেধা ভট্টাচার্যের ‘সি দ্য সাউন্ড’, যুক্তরাষ্ট্রের মেগান থমসনের ‘থ্রেসহোল্ডস ক্রসড রিকনসিডারেশন’, বাংলাদেশের শাম্মী আখতারের ‘মাইন’, সাধনা ও নাইম খান ডান্স কোম্পানির ‘আলট্রাভায়োলেট’, ইয়াসিন আরাফাতের ‘ডেমোক্রেসি’, ভারত ও বাংলাদেশের শিল্পী অনীল কুমার সিং ও মোফাস্সাল আলিফের ‘আই অ্যান্ড মাইসেল্ফ’।
এর আগে সকালে কক্সবাজারের মারমেইড ক্যাফেতে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে আলোচনায় অংশ নেন দেশ-বিদেশের গবেষকেরা। এক অধিবেশনে ওশান ডান্স ফেস্টিভালের প্রধান কিউরেটর লুবনা মারিয়াম বলেন, ‘এখনই ঠিক করতে হবে কে কি করতে চাই। বিশেষ করে নতুনদের ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।’
সেমিনারে ‘সম্পূর্ণতা’ শিরোনামে এক ধারণাপত্রে সোহিনী চক্রবর্তী কথা বলেন ডান্স থেরাপি নিয়ে। সাবিহা ভাসেল কথা বলেন বয়স্ক মানুষদের নিঃসঙ্গতা দূর করতে ডান্স থেরাপির কার্যকারিতা নিয়ে। পেঁচাকুচা নামের এক অধিবেশনে দু’জন তরুণ নৃত্যশিল্পী ভাগাভাগি করেন তাদের নৃত্যে আসা ও টিকে থাকার অভিজ্ঞতা। নাচ শিখতে আসা বেশিরভাগ শিশু কীভাবে ঝরে পড়ে, বঞ্চিত হয় নৃত্যের মূল আনন্দ থেকে— এসব নিয়েও আলোচনা হয় সেখানে।
মঞ্জুলিকা তারা এক কর্মশালায় নাচ নিয়ে গবেষণা ও লেখালেখি সংক্রান্ত নানা ধারণা ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, গত ২২ নভেম্বর কক্সবাজারে শুরু হয় আন্তর্জাতিক এ উৎসব। উৎসবের চার দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মারমেইড ইকো রিসোর্টে সেমিনার, প্রবন্ধ পাঠ, ধারণাপত্র উপস্থাপন ও বিভিন্ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে যোগ দেন বাংলাদেশসহ ১৫টি দেশের দুই শতাধিক শিল্পী, শিক্ষক, গবেষক ও কোরিওগ্রাফার। এছাড়া এবছর ডব্লিউডিএ, এপি’র বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশে। আগামী বছর এ সভা অনুষ্ঠিত হবে হংকং বা চীনে।

/এমএম/

লাইভ

টপ