মমতাজউদদীন আহমদ নাট্যজন পুরস্কার পাচ্ছেন আসাদুজ্জামান নূর

Send
বিনোদন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:৫১, জানুয়ারি ১৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:০২, জানুয়ারি ১৫, ২০২০

মমতাজউদদীন আহমদ ও আসাদুজ্জামান নূরগত বছর (২০১৯) ১৮ জানুয়ারি ছিল নাট্যজন অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদের ৮৫তম জন্মদিন। সেদিন তারই উপস্থিতিতে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি ঘোষণা দেওয়া হয়। জানানো হয়, প্রতিবছর নাটকে বিশেষ অবদানের জন্য ‘অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ নাট্যজন পুরস্কার’ প্রদান করা হবে।
ঘোষণাটি শুনে গেলেন, কিন্তু বাস্তবায়ন নিজ চোখে আর দেখে যেতে পারলেন না প্রখ্যাত এই নাট্যকার-নির্দেশক-অভিনেতা। একই বছর ২ জুন তিনি চলে যান না ফেরার দেশে।
তবে মমতাজউদদীন আহমদের পরিবার কথা রেখেছে। মৃত্যুর পর প্রথম জন্মদিনেই (১৮ জানুয়ারি, ২০২০) প্রদান করা হচ্ছে সেই পুরস্কার।
প্রথম আয়োজনে নাটক ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য ‘অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ নাট্যজন পুরস্কার- ২০১৯’ পদক পাচ্ছেন আসাদুজ্জামান নূর। ‘অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ ৮৬তম জন্মদিন উদযাপন জাতীয় পর্ষদ’-এর সদস্য সচিব গোলাম কুদ্দুছ বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আগামী ১৮ জানুয়ারি এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নাট্যজন আসাদুজ্জামান নূরের হাতে এই সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হবে। উক্ত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি থাকছেন আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি এ.বি.এম খায়রুল হক। পুরো আয়োজনটি হবে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে।
একই দিন ‘স্মারক গ্রন্থের মোড়ক’ উন্মোচন করা হবে।
মমতাজউদদীন আহমদ পরিবারের সদস্য শাহরিয়ার মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত বছর পরিবারের পক্ষ থেকে এ পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। দেশের শীর্ষ সংস্কৃতিসম্পৃক্ত ব্যক্তিত্বদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয় সেই লক্ষ্যে। কমিটির সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেন এবারের সম্মাননা দেওয়া হবে নাট্যজন আসাদুজ্জামান নূরকে। আমরা এর জন্য আনন্দিত।’
উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকার কথা রয়েছে বিশ্বনন্দিত চিত্রশিল্পী, মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুদ্দিন আহমেদ। পুরো আয়োজনে সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী।
অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতা ও ভাষাসৈনিক। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ তিনি। এক অঙ্কের নাটক লেখায় বিশেষ পারদর্শিতার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। ১৯৯৭ সালে নাট্যকার হিসেবে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।
তিনি ভারতের দিল্লি, জয়পুর এবং কলকাতায় নাট্যদলের নেতা হিসেবে ভ্রমণ ও নাট্য মঞ্চায়ন করেন। তার লেখা নাটক ‘কী চাহ শঙ্খ চিল’ এবং ‘রাজা অনুস্বরের পালা’ রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে তালিকাভুক্ত হয়েছে।
জগন্নাথ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি কলেজে ৩২ বছর বাংলা ভাষা সাহিত্য এবং বাংলা ও ইউরোপীয় নাট্য বিষয়ে শিক্ষকতা করেন। তিনি ১৯৭৬-৭৮ সাল পর্যন্ত জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়নে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেন।
১৯৭৭-৮০ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক ছিলেন।

/ইউআই/এমএম/এমওএফ/

লাইভ

টপ
X