সিনেমা সমালোচনাকাঠবিড়ালী: ছবিটির নাম হতে পারতো ‘কাঠঠোকরা’

Send
মাহফুজুর রহমান
প্রকাশিত : ১৪:২৪, জানুয়ারি ২৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:১৭, জানুয়ারি ২৫, ২০২০

‘কাঠবিড়ালী’ নামটি সার্থক নয়, বরং ছবিটির নাম হতে পারতো ‘কাঠঠোকরা’। একটা সরল, সতেজ ভালোবাসার সম্পর্ককে পরকীয়া নামক কাঠঠোকরার খুঁটে খুঁটে নষ্ট করে ফেলার গল্প ‘কাঠবিড়ালী’।
এ ছবি প্রযুক্তি-বর্জিত বাংলার কোনও এক গ্রামের এক জোড়া মানুষের গল্প। এ গল্পে নৌকা আছে, ঢেউ আছে, নদী আছে, দু’কূল ভাসিয়ে তার বয়ে চলা আছে। জলের বুকে জাল ফেলে মাছ ধরা আছে। চোখ জুড়ানো সবুজ ক্ষেত আছে। ক্ষেতের শুকনো আইল ধরে ছুটে চলা আছে।
আরও আছে এক জোড়া চঞ্চল মন- হাসু আর কাজল! যারা রেললাইনে উড়ে বেড়ায় ডানা ছড়িয়ে। কাঠের পাটাতনের সেতুর নিচে দাঁড়িয়ে নাকে নাক ঘষে। পাটক্ষেতের নাভিতে বিছানা সাজিয়ে স্বপ্ন দেখে বাসরের। হাসু আর কাজলের প্রেমের বাগানে একটাই ছিল চোরকাঁটা, হাসুর সরলতা। কুলহীন, ধনহীন হাসু বড্ড বোকা। নিজের সামান্য জমিটুকুও কথার চিড়েতে ভিজে তুলে দেয় প্রতিবেশীর হাতে। রাত-বিরেতে গ্রামের পথে বিড়ি টেনে ঘুরে বেড়ায়। একমাত্র বন্ধু আনিসকে নিয়ে গ্রামের ঘিঞ্জি থিয়েটারে রগরগে সিনেমা দেখে। তার চালচুলোহীন জীবনে একমাত্র পুঁজি বলতে রূপসী কাজলের প্রেম।
তার দিকেও চোখ পড়েছিলো মাতবরের সবেধন পুত্রমণি আসগরের। বাবা কৌশলে তাকে সৌদি আরব পাঠিয়ে দিলে হাসু আর কাজলের সংসার সাজাতে আর কোনও বাধাই থাকে না। কাজল সুন্দরী হলেও লোভী নয়। মাকে নিয়ে তার অভাবের সংসার। গরিব, অপরিচ্ছন্ন, এমনকি ট্যারা হাসুকে বিয়ে করতে তার মন আটকায় না। সে পারতো আসগরের মতো লম্পটকে বিয়ে করে পায়ের ওপর পা তুলে খেতে। সে বেছে নিয়েছিলো ঘুঁটে কুড়োনির জীবন। ভেবেছিলো হাসুর ভালোবাসার জোয়ারে তার যৌবনের দু’কূল ভাসবে।
ভুল চোখে স্বপ্ন এঁকেছিলো কাজল। হাসু শুধু বৈষয়িক দিক থেকেই দেউলিয়া নয়, যৌবনের প্রারম্ভেই সে হারিয়ে ফেলেছে তার সামর্থ্য। নববিবাহিত স্ত্রীকে হাসু পরম আকর্ষণে জড়িয়ে ধরলেও তাতে কাজলের ‘রাতের ঘুম শেষ’ হয়ে যায়। হাসু বাজারের তেল-মালিশ কিনে এনেও বৈবাহিক সম্পর্কের শেষরক্ষা করতে পারে না। তার প্রেমের গাছে ততদিনে যে বাসা বেঁধে ফেলেছে আনিস নামের এক কাঠঠোকরা! অসুন্দরী, অক্ষম, অসুস্থ স্ত্রীর কাছে সুখ না পেয়ে যে সুখ খুঁজে বেড়ায় পরস্ত্রীর কাছে। কাজল ও আনিস এই দুই অতৃপ্ত শরীর গোপনে, গভীরে মিলে গেলে গ্রামের সজল প্রকৃতিতে এসে লাগে ইটভাটার গনগনে আগুনের আঁচ। কীভাবে একটা রোমান্টিক গল্প টানটান থ্রিলারের চেহারা নেয়, সেটুকু দর্শকরা দেখে নেবেন সিনেমা হলে গিয়ে।
‘কাঠবিড়ালী’ নির্মাতা নিয়ামুল মুক্তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি। প্রথম হাঁটতে গেলে একটা শিশু যেভাবে পড়ে গিয়েও খিল খিল করে হেসে ওঠে, মুক্তার ছবিতেও আছে এমনই এক নির্মাতা-শিশুর হোঁচট খাওয়া আনন্দ। গহিন, গ্রামীণ জীবনে রক্ত হিম করা রহস্য গল্প আমাদের রুপালি পর্দায় বিরল। আর সেই গল্প বলার ভঙ্গি যদি হয় প্রচলিত থ্রিলারের মেজাজ এড়িয়ে, তবে আমাদের মগজের মনিটরে ভেসে ওঠে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার থ্রিলার কাঠামো।
দক্ষিণের প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রেক্ষাপটে প্রচুর থ্রিলার ছবি হয়। সেসব গল্পের নায়ক দেখতে বদখত, কখনও কখনও নায়িকাও প্রচলিত অর্থে সুন্দরী থাকে না, কিন্তু অপরাধই হয়ে ওঠে সেসব গল্পের প্রধান চরিত্র। গ্রামের শান্ত, স্থির, নিস্তরঙ্গ জীবনে অপরাধের চোরা স্রোত কীভাবে বয়ে যায়, দক্ষিণের ছবিতে এমন গল্প দেখে আমরা অভিজ্ঞ হয়েছি। কিন্তু এ দেশের বড় পর্দায় এমন কোনও গল্প যে উঠে আসতে পারে, তা প্রথম ভেবেছেন নিয়ামুল মুক্তা। তার কাঁচা হাতে একটা বড় প্রয়াস তিনি নিয়েছেন। মুক্তার এই সাহসিকতা চোখে পড়ারই মতো।

মুক্তা তার ‘কাঠবিড়ালী’কে ঠিক ঠিক জায়গায় নিয়ে ফেলেছেন। অবারিত সৌন্দর্যের এক লীলাভূমিকে তিনি বানিয়েছেন তার গল্পের পটভূমি, যেখানে মানুষের চেয়ে প্রকৃতিই তার ক্যামেরায় আকর্ষণীয় হয়ে ধরা পড়েছে বেশি। এত আশ্চর্য সুন্দর সুন্দর লোকেশনে তিনি দৃশ্য ধারণ করেছেন, যা দর্শকদের হা করে গিলতে হয়েছে। লোকেশন নির্বাচনে নির্মাতা ছিলেন অনায়াস ও আন্তরিক; কিন্তু প্রকৃতির ঐশ্বরিক রূপে তিনি সংযম হারিয়েছেন।
প্রকৃতিকে গল্পের একটা চরিত্র হিসেবে দাঁড় করানোর বদলে বিজ্ঞাপনচিত্রের মতো চাকচিক্যময় ফ্রেমিং দিয়ে দর্শকদের আবিষ্ট করে রাখতে চেয়েছেন। বিশাল মাঠ, উঁচু গাছ, বর্ষার জল তার গল্পের পটভূমিকে দর্শকদের কাছে প্রতিষ্ঠিত করেছে, কিন্তু এই প্রকৃতিকে গল্পের গাঁথুনির সঙ্গে জুড়ে দিতে ব্যর্থ হয়েছেন নির্মাতা। অথচ নদীর পাড়ের কুঁড়েঘর, হেঁসেল, মেঠোপথ, রেলসেতু, এগুলো দৃশ্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধি না করে হয়ে উঠতে পারতো একেকটি চরিত্র।
নয়ন সুখকর অথচ গল্পের সঙ্গে আত্মীয়তা পাতানোয় ব্যর্থ ও বিচ্ছিন্ন দৃশ্যে ‘কাঠবিড়ালী’ পূর্ণ। চিত্রগ্রাহক তার ক্যামেরার কেরামতি দেখাতে যতটা ব্যস্ত ছিলেন, ততটা ব্যর্থ ছিলেন গল্পের প্রবাহের সঙ্গে তার শটগুলো জুড়ে দিতে। সম্ভবত, সম্পাদনার টেবিলে সম্পাদককে প্রচণ্ড বেগ পেতে হয়েছে নয়নাভিরাম প্রকৃতিতে ধারণ করা দৃশ্যগুলোকে একের পর এক সাজাতে। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক আলাদা আলাদা দৃশ্যে যতখানি প্রাণবন্ত, পুরো ছবির মেজাজের সঙ্গে কিন্তু তার ততখানি একাত্মতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। গল্পে গান এসেছে বেশ কয়েকবার, সেগুলোর কোনোটাই চিত্রনাট্যের দাবি মেটাতে আসেনি, এসেছে দর্শকদের কানের আরাম দিতে। একইভাবে শ্রুতিমধুর ছিল না সংলাপ। ত্রুটিহীন আঞ্চলিক সংলাপে বাস্তবতা ছিল, ছিল না তেজ ও তীক্ষ্ণতা।
গল্পের প্রথমার্ধে পরিচালকের ছিল অহেতুক তাড়াহুড়া। তিনি দৃশ্যের পর দৃশ্য দেখিয়ে চলেছেন, চরিত্ররা আসছে, যাচ্ছে, সংলাপ আওড়াচ্ছে, প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে; কিন্তু গল্পের কোথাও পৌঁছানোর কোনও তাড়া নেই। এক চরম অসারতা গল্পের শরীরজুড়ে। যা ছন্দায়িত হয় আরামদায়ক চেয়ারে আসীন দর্শকদের শরীরেও। এককথায় বলতে গেলে, ছবির এক-তৃতীয়াংশ দৈর্ঘ্যে ছিল ছন্দহীনতা। অথচ যে মুখর প্রকৃতিকে পটভূমি করেছিলেন নির্মাতা, দর্শকদের মন-মগজ-আত্মাকে তিনি ডুবিয়ে দিতে পারতেন হাসু আর কাজলের অনবদ্য প্রেমের ও কামের গল্পে।

প্রকৃতিকে তিনি ব্যবহার করেছেন বিচ্ছিন্নভাবে, চরিত্রগুলোর সঙ্গে এর কোনও ধরনের সমঝোতা ছাড়াই। শুধু ব্যতিক্রম ছবির শেষভাগ। তখন হাসু, কাজল, বিলকিসের বেদনার গল্পে প্রকৃতিও হয়ে উঠেছিলো সমব্যথী। ইটভাটার চূড়ায় বসে হাসু যখন বলে, ‘জিনিস যত যত্নেরই হোক- নষ্ট হয়ে গেলে কাছে রাখতে নেই’, কেবল তখনই গল্পের মোচড় বোঝা যায়। বোঝা যায়, নির্মাতা কোনও গরিব পতি-বিবির গল্প দেখাতে এতক্ষণ সময় ধরে দর্শকদের তাড়া করে ফিরছেন না, তার গল্পের মূল চরিত্র অপরাধ। অবশ্য রহস্যের গন্ধ প্রথম দৃশ্যেই দর্শকদের ভেতরে গেঁথে দিয়েছিলেন নির্মাতা।

কিন্তু যে গতিতে ছবির গল্প এগোতে পারতো, যে ছন্দে বইতে হতো এরকম একটা ক্রাইম থ্রিলারকে, সেই গতি সেই ছন্দ ছবিজুড়ে ছিল না। চরিত্রগুলোকে মনে হয়েছে একটা আরোপিত গল্পের ক্রীড়নক। নির্মাতার সুতোর টানে তারা চলছেন, বলছেন, খেলছেন। কিন্তু চিত্রনাট্যের স্বাভাবিক ছন্দ ও গতির অভাবে চরিত্রগুলো ভেতর থেকে না যতখানি প্রকাশিত, তারচেয়ে বেশি সাবলীল অভিনয়ে প্রস্ফুটিত।
অভিনয় শিল্পীদের মধ্যে অর্চিতা স্পর্শিয়া ছাড়া আর কোনও পরিচিত শিল্পী ছিলেন না। তাতে ভালোই হয়েছে, চরিত্রগুলোকে ‘চরিত্র’ মনে হয়েছে। কোনও একটা বিশেষ চরিত্রের প্রতি নির্মাতার পক্ষপাত ছিল না। প্রতিটি চরিত্রই তার বশীভূত ছিল। তারা স্বাভাবিক অভিনয় করে গেছেন। কারও অভিনয়ে মাত্রাহীনতা ছিল না। প্রধান নারী চরিত্র বলে একটু বেশি দৃষ্টি কেড়েছেন স্পর্শিয়া। তার রূপ আছে, চরিত্রের রূপান্তরেও তিনি ছিলেন যথাযথ।
ছবিতে অভিনয়শিল্পীর সংখ্যা কম। গ্রামের বিশালতা ক্যামেরায় যেভাবে দর্শকদের দেখিয়েছে, সেভাবে গ্রামের চরিত্রগুলো ক্যামেরার সামনে আসেনি। হাতেগোনা কিছু চরিত্রকে আঁকড়েই গল্প এগিয়েছে। গল্পের কোনও একটা চরিত্রকে ভালো কিংবা মন্দের মাপকাঠিতে মাপেননি নির্মাতা। প্রতিটি চরিত্রই ছিল অল্প-বিস্তর ধূসর। আর এটাই স্বাভাবিক নয় কি?দুই শিল্পীর সঙ্গে নির্মাতা মুক্তা (বামে)
ভালোবেসে বিয়ে করা হাসুর বিদায়বেলায় কাজলের চোখের জল যেমন মিথ্যে নয়, তেমনই মিথ্যে নয় তার শরীরে জ্বলতে থাকা কামের আগুনও। আসগর যেমন গোপনীয়তা ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে তরুণীর খুনে হাত রক্তে লাল করতে পিছপা হয়নি, তেমনই কাজলকে পাওয়ার জন্য মিথ্যে নয় তার ছটফটানি। পুলিশ অফিসারকে দেখা যায় উৎকোচ নিতে দারুণ কৌশলী, আবার শেষে খুনির কোমরে বেড়ি পরাতেও তার হাত অকম্পিত।
পুলিশ অফিসার আর হাসুর শেষ দৃশ্যের সংলাপ থেকেই একটি প্রশ্ন চলে যায় নির্মাতার কাছে। গল্পের শেষে খুনিকে নিপুণ হাতে প্রমাণ লোপাট করতে দেখা যায়নি। খুনিও নয় কোনও সতর্ক সিরিয়াল কিলার। বরং প্রমাণ রেখে যাওয়াই ছিল তার জন্য স্বাভাবিক। তারপরও পুলিশ অফিসার কেন বলে ‘শুধু প্রমাণ নেই’ তাই তিনি খুনিকে ধরতে পারলেন না! তিনি কি খুনির কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায়ের কোনও চেষ্টা করেছেন? কে খুন করেছে, এটা তিনি তার প্রবৃত্তি দিয়ে অনুভব করেছেন, তারপরও পুলিশ অফিসার কেন খুনিকে আইনের আওতায় আনলেন না?
এসব ত্রুটির পরও ‘কাঠবিড়ালী’র গল্প শেষদিকে দর্শকদের একটা ধাক্কা দিতে সক্ষম হয়। এই ধাক্কাটা না থাকলে দর্শকরা অতৃপ্ত হয়েই থিয়েটার ছাড়তেন। রহস্য গল্পের ধর্ম অনুযায়ী রহস্যের জাল যেভাবে বিছানোর প্রয়োজন ছিল, সেভাবে না বিছিয়ে, একটা প্রেমের গল্পের মোড়কে, রহস্যটুকু চেপে রেখে, গল্প বলেছেন নির্মাতা। হয়তো এটা দর্শকদের মস্তিষ্ককে অপ্রস্তুত রেখেছে বলেই শেষ ধাক্কাটা প্রবল হয়েছে। কিন্তু গল্পের পরিণতি কি খুব অস্বাভাবিক ছিল? নির্মাতা কি নতুন কোনও পরিণতি আমাদের দেখাতে পেরেছেন? এমন পরিণতিই কি নিষিদ্ধ প্রেমের গল্পে দেখে আমরা অভ্যস্ত নই? এসব প্রশ্নের চিত্তাকর্ষক উত্তর পাওয়া যাবে না জানি, তবু একজন নতুন নির্মাতা গতানুগতিক পথে না হেঁটে ভিন্ন ঘরানায় চলার এই চেষ্টাকে সাধুবাদ না জানানোর সুযোগ কই!

কাঠবিড়ালী: রিভিউ রেটিং- ৬/১০

পরিচালক: নিয়ামুল মুক্তা

প্রযোজক: নিয়ামুল মুক্তা

কাহিনিকার: নিয়ামুল মুক্তা

চিত্রনাট্যকার: মুহাম্মদ তাসনিমুল হাসান তাজ

শ্রেষ্ঠাংশে:

অর্চিতা স্পর্শিয়া, আসাদুজ্জামান আবীর, সাইদ জামান শাওন, শিল্পী সরকার অপু, একে আজাদ সেতু, শাহরিয়ার ফেরদৌস সজীব, হিন্দোল রায়, তানজিনা রহমান তাসনিম প্রমুখ

সুরকার: ইউসুফ হাসান অর্ক

সংগীত পরিচালক: ইমন চৌধুরী

চিত্রগ্রাহক: আদিত্য মনির

সম্পাদক: আশিকুর রহমান সুজন

প্রযোজনা: চিলেকোঠা ফিল্মস

পরিবেশক: জাজ মাল্টিমিডিয়া

মুক্তি:

প্রথম প্রদর্শনী, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯

দেশজুড়ে মুক্তি, ১৭ জানুয়ারি ২০২০

দৈর্ঘ্য: ১ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট ১১ সেকেন্ড

ভাষা: বাংলা

লেখক: সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র সমালোচক

/এমএম/

লাইভ

টপ
X