একুশে পদকপ্রাপ্তিএকা বড় হতে নেই, এ স্বীকৃতি সবার: মিতা হক

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ১৮:৩১, ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:০০, ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০২০

মিতা হকসরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০ জন ব্যক্তি এবং একটি প্রতিষ্ঠানকে  ২০২০ সালের একুশে পদকের জন্য মনোনীত করেছে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এই তালিকায় রয়েছে দেশের অন্যতম রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী ও সংগঠক মিতা হক ।
এমন প্রাপ্তিতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার শুরুতেই এই শিল্পী স্মরণ করেন তার দীক্ষাগুরু ওয়াহিদুল হককে। বাংলা ট্রিবিউনের কাছে বলেন, ‘‘গুরু বলতেন, ‘নিজে যতটুকু জানবে অন্যদের শেখাবে। নিজে যতটুকু শিখবে, অন্যদের জানাবে। একা বড় হতে নেই।’ আমি এই কথাটি এখনও মেনে চলি। দল নিয়ে, সঙ্গীদের নিয়ে একসাথে পুরোটা ভাবি।’’
রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অসামান্য এই পদক প্রাপ্তির ঘোষণা পেয়ে ভীষণ স্বস্তিবোধ করছেন মিতা হক। সমাজের চারপাশের নানা অবনতির দিকগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সামাজিক অবনতি আর বাঙালি জাতি হিসেবে আমাদের পশ্চাদপদতাগুলো নিয়ে যখন আমি কাতর, সেই সময়ে এই পদকপ্রাপ্তি অনেকটা স্বস্তি দিচ্ছে আমাকে। এই স্বীকৃতি শুধু আমার নয়, সবার। যাদের সঙ্গে আমার বেড়ে ওঠা, ছুটে চলা কিংবা থমকে দাঁড়ানো- প্রত্যেকের।’
মঙ্গলবারই (৪ ফেব্রুয়ারি) সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে টেলিফোনে একুশে পদকপ্রাপ্তির বিষয়টি জানানো এই শিল্পীকে। এমনটা উল্লেখ করে মিতা হক বললেন, ‘তারপরও অতটা নিশ্চিত ছিলাম না। আজ (৫ ফেব্রুয়ারি) মেইলে জানানো হয়েছে আবার। সমাজের যে অবস্থা, ভীষণ অরুচির বিষয়গুলো সামনে আসছে বার বার। সমাজে অনেক কিছু নিয়ে বাড়াবাড়ি হচ্ছে, সাধারণ মানুষকে গোলকধাঁধায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে যেন। এসব ভেবে ভেবে, দেখে দেখে- মন খারাপ লাগে আমার। এসবের মধ্যে খবরটা পেয়ে চমকে গেছি, খুশি হয়েছি। আমি ধন্যবাদ জানাই বাংলাদেশ সরকার ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে।’
যুক্ত করলেন আরও, ‘সারাজীবন আমি গানকে ভালবেসেছি। যে কোনও সাংস্কৃতিক আন্দোলন, সামাজিক, এমনকি রাজনৈতিক আন্দোলনেও থেকেছি। দেশের জন্য আমার যে মাথাব্যথা, যেটুকু ভালোবাসা- তার স্বীকৃতি হিসেবে দেখছি এই পদকটিকে।’
আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদকপ্রাপ্তদের হাতে এ সম্মাননা তুলে দেবেন।

মিতা হকসহ এবার যে ২০ বরেণ্য ব্যক্তি একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন তারা হলেন- ভাষা আন্দোলনে আমিনুল ইসলাম বাদশা (মরণোত্তর), শিল্পকলা সংগীতে বেগম ডালিয়া নওশীন, শঙ্কর রায়, নৃত্যে মো. গোলাম মোস্তফা খান, অভিনয়ে এসএম মহসীন, চারুকলায় অধ্যাপক শিল্পী ড. ফরিদা জামান, মুক্তিযুদ্ধে হাজী আক্তার সরদার  (মরণোত্তর), আব্দুল জব্বার (মরণোত্তর), ডা. আ,আ,ম, মেসবাহুল হক (বাচ্চু ডাক্তার) (মরণোত্তর), সাংবাদিকতায় জাফর ওয়াজেদ (আলী ওয়াজেদ জাফর), গবেষণায় ড. জাহাঙ্গীর আলম ও হাফেজ ক্বারী আল্লামা সৈয়দ ছাইফুর রহমান নিজামী শাহ্, শিক্ষায় অধ্যাপক ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া, অর্থনীতিতে অধ্যাপক ড. শামসুল আলম, সমাজসেবায় সুফি মোহম্মদ মিজানুর রহমান, ভাষা ও সাহিত্যে সিকদার আমিনুল হক (মরণোত্তর), ড. নুরুন নবী, বেগম নাজমুন নেসা পিয়ারি, চিকিৎসায় অধ্যাপক ডা. সায়েরা আখতার।

এছাড়াও  বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে এবছর গবেষণায় একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছে।    

/এমএম/

লাইভ

টপ