করোনা ভাইরাস: জেমস বন্ডের পর হলিউডের ছবিগুলোর ভবিষ্যৎ কী?

Send
জনি হক
প্রকাশিত : ১৮:৪৩, মার্চ ০৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৩২, মার্চ ০৭, ২০২০

‘নো টাইম টু ডাই’ ছবির পোস্টারের সামনে দর্শকজেমস বন্ড হিসেবে ব্রিটিশ তারকা ড্যানিয়েল ক্রেগের শেষ অভিযান করোনা ভাইরাসের শিকার হলো। তার অভিনীত ‘নো টাইম টু ডাই’ আগামী মাসে প্রেক্ষাগৃহে আসার কথা থাকলেও সাত মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। সব ‍ঠিক থাকলে এ বছরের নভেম্বরে মুক্তি পাবে ছবিটি। করোনা আতঙ্কে স্থগিত হওয়া প্রথম বড় ক্যানভাসের ছবি এটাই। এ কারণে লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রায় ৩ কোটি ডলার (আড়াইশো কোটি টাকারও বেশি)।
কেন এই সিদ্ধান্ত
যদিও ছবি পিছিয়ে দেওয়ার বক্তব্যে প্রযোজকদ্বয় বারবারা ব্রকোলি ও মাইকেল জি. উইলসন সরাসরি করোনা ভাইরাসের কথা উল্লেখ করেননি। তাদের সহযোগী আমেরিকান প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মেট্রো-গোল্ডয়েন-মেয়ার (এমজিএম) জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী সিনেমা বাজারের বিশদ মূল্যায়ন করে ও সতর্কতার কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিবিসি আর্টস প্রতিনিধি ডেভিড সিলিটো মনে করেন, ২০২০ সালের প্রথম বৈশ্বিক ব্লকবাস্টার হতে যাচ্ছিল ‘নো টাইম টু ডাই’। প্রতি ছবির ক্ষেত্রে মোট আয়ের দুই-তৃতীয়াংশ যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে আনে জেমস বন্ড। নিঃসন্দেহে এটি বিপুল অঙ্কের ব্যবসা।
চলচ্চিত্র সমালোচক সিভন সিনট বিবিসি ব্রেকফাস্টকে বলেন, ‘নো টাইম টু ডাই পিছিয়ে যাওয়া অবশ্যই অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা। প্রচারণা ভালোই চলছিল, গ্র্যামিতে ইতিহাস গড়া বিলি আইলিশের গাওয়া জেমস বন্ডের নতুন থিম সং প্রকাশিত হয়েছে ফেব্রুয়ারিতে। কিন্তু এখন সবই থমকে গেলো।’
হলিউডের অন্যান্য বড় প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সারাবছর ছবি মুক্তি দিয়ে থাকে। কিন্তু জেমস বন্ডের ওপর প্রচণ্ড নির্ভরশীল এমজিএম। সিরিজটির আর্থিক সাফল্যের ওপর নির্ভর করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। যদি বন্ডের ছবি ব্যবসা না করে তাহলে তারা মাথা তুলে দাঁড়ানোর শক্তি হারিয়ে ফেলে।
ছবিটির আন্তর্জাতিক পরিবেশনা সংস্থা ইউনিভার্সেল পিকচার্স ভারতীয় দর্শকদের জন্য বিভিন্ন ভাষায় ট্রেলার প্রকাশ করেছে ইউটিউবে। এর মধ্যে আছে বাংলায় ডাব করা ট্রেলার।
‘নো টাইম টু ডাই’ ছবির বাংলা ট্রেলার:

আর কোন ছবিগুলোকে প্রভাবিত করবে করোনা ভাইরাস?
বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে, হলিউডের জন্য ব্যাপারটা কোন পর্যায়ে আছে? আর কোন কোন ছবির ওপর এটি প্রভাব ফেলতে পারে?
আমেরিকান অনলাইন নিউজ পোর্টাল ডেডলাইনের অ্যান্থনি ডি’আলেসান্দ্রো লিখেছেন, ‘এই মুহূর্তে আমেরিকা জুড়ে বড় বড় প্রযোজনা ও পরিবেশনা সংস্থার কর্তাব্যক্তিদের ভিড় থাকছে আলোচনার টেবিলে। আগামী তিন মাস কোন কোন বড় বাজেটের ছবি সম্ভাব্য পিছিয়ে যেতে পারে তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে। একইসঙ্গে বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে করোনা ভাইরাসের প্রভাব পরিমাপের চেষ্টা চলছে।’
মে মাসে মুক্তির মিছিলে আছে মারভেল স্টুডিওসের প্রযোজনা ও ওয়াল্ট ডিজনি স্টুডিওস মোশন পিকচার্সের পরিবেশনায় ‘ব্ল্যাক উইডো’ এবং ইউনিভার্সেল পিকচার্সের পরিবেশনায় ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’ ফ্র্যাঞ্চাইজির নবম কিস্তি ‘এফনাইন’। নির্ধারিত সময়েই ছবি দুটি প্রেক্ষাগৃহে আনার পরিকল্পনা এগোচ্ছে।
তবে ব্রিটিশ ম্যাগাজিন স্ক্রিন ইন্টারন্যাশনালের উপ-সম্পাদক লুইস টাট বিবিসি নিউজকে বলেন, ‘আমার মনে হয়, প্রযোজক-পরিবেশকরা প্রতি ঘণ্টায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তাই দুটি ছবিই পিছিয়ে যেতে পারে।’
আগামী জুনে মুক্তির তালিকায় থাকা বড় বাজেটের ছবির মধ্যে অন্যতম ‘ওয়ান্ডার ওম্যান নাইনটিন এইটি ফোর’ ও অ্যানিমেটেড ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘স্কুবি-ডু’র নতুন পর্ব ‘স্কুব!’ দুটিরই পরিবেশক ওয়ার্নার ব্রাদার্স পিকচার্স।
আরেকটি অসুবিধা হলো, যেকোনও ছবি কখন মুক্তি পাবে সেই সময়সূচি ঠিক করা হয় কয়েক মাস আগে। প্রযোজক-পরিবেশকরা প্রতিযোগিতা এড়াতে সব জেনেশুনে তারিখ বেছে নেয়। যদি কোনও ছবি পিছিয়ে যায় তাহলে স্বাভাবিকভাবে অন্যগুলোর মুক্তির সময়ের কাছাকাছি চলে আসে।
‘এফনাইন’ ছবিতে অভিনয় করেছেন ভিন ডিজেলচীনে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ছবির মুক্তি পিছিয়ে গেছে, কারণ সেখান থেকে করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে। গত জানুয়ারি থেকে দেশটির ৭০ হাজার প্রেক্ষাগৃহে তালা ঝুলছে। এছাড়া জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইতালির বিভিন্ন অংশে ভাইরাসের বিস্তার রোধে কিছু প্রেক্ষাগৃহে অস্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
চলচ্চিত্র সমালোচক শিভন সিনেট বলেন, ‘চীনে মুক্তির মিছিলে থাকা সব ছবির জন্য করোনা ভাইরাস একটি বিশেষ সমস্যা। লিটল উইমেন, নাইনটিন সেভেনটিন ও জোজো র‌্যাবিট এখনও দেশটিতে মুক্তির অপেক্ষায় আছে। কিন্তু প্রেক্ষাগৃহ পাওয়াই যে মুশকিল।’
কোন কোন চলচ্চিত্র মুক্তি পেতে যাচ্ছে?
যেসব ছবি ইতোমধ্যে লাখ লাখ ডলারের বিজ্ঞাপনি প্রচারণাসহ প্রেক্ষাগৃহে পাঠানোর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, সেগুলো স্থগিত করা খুব ব্যয়বহুল ব্যাপার। তাছাড়া বড্ড দেরিও হয়ে গেছে। ফের নতুন তারিখ নির্বাচনের সময় একেবারেই নেই সংশ্লিষ্টদের ঘড়িতে।
তবে চীনের বাইরে অন্যান্য দেশের বক্স অফিসে এসব ছবির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কারণ বিশ্লেষকরা এখনও জানেন না, দর্শকদের ঠিক কত শতাংশ প্রেক্ষাগৃহ এড়িয়ে চলছে। আপাতত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিকই মনে করা হচ্ছে।
ডেডলাইনের অ্যান্থনি ডি’আলেসান্দ্রো মনে করেন, করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী কোনও বক্স অফিসের পতন হবে কিনা মার্চ মাসেই তা বোঝা যাবে। ওয়াল্ট ডিজনি পিকচার্স ও পিক্সার অ্যানিমেশন স্টুডিওস প্রযোজিত ‘অনওয়ার্ড’ মুক্তি পেয়েছে শুক্রবার (৬ মার্চ)। এরপর প্যারামাউন্ট পিকচার্সের পরিবেশনায় ২০ মার্চ আসবে জন ক্র্যাসিনস্কির ‘অ্যা কোয়ায়েট প্লেস টু’ ও ২৭ মার্চ ডিজনির ২০ কোটি ডলার বাজেটের ‘মুলান’ মুক্তি পাওয়ার কথা। এর মধ্যে নিকি ক্যারো পরিচালিত ‘মুলান’ ছবিতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করা চীনা-আমেরিকান অভিনেত্রী লিউ ইফে মিরাকলের আশা করছেন। তার প্রার্থনা, চীনে নির্ধারিত সময়ে ছবিটি মুক্তি পাবে। ৩২ বছর বয়সী এই তারকা বেড়ে উঠেছেন উহানে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দাবি, সেই শহর থেকেই করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে।
‘মুলান’ তারকা লিউ ইফেঅ্যান্থনি ডি’আলেসান্দ্রো বলেন, “এ তিনটি ছবি আমেরিকা ও ব্রিটেনের বাইরে দেরিতে মুক্তির অপেক্ষায় থাকলেও প্রিন্ট আর বিজ্ঞাপন চূড়ান্ত করে ফেলায় পরিবেশকদের পক্ষে তা স্থগিত করা সম্ভব নয়। মার্চে এই তিনটি চলচ্চিত্র যদি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে তাহলে ভবিষ্যদ্বাণী করা যাবে, স্কারলেট জোহানসনের ‘ব্ল্যাক উইডো’ ও ভিন ডিজেলের ‘এফনাইন’ মে মাস থেকে পিছিয়ে যাবে কিনা।”
জেমস বন্ড ভক্তরা কতটা হতাশ?
‘নো টাইম টু ডাই’ নভেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে যাওয়ার ঘোষণায় অনেকে বেজার। তবে বুঝনেওয়ালা ভক্ত যে নেই তা নয়। জেমস বন্ড ইন্টারন্যাশনাল ফ্যান ক্লাবের সম্পাদক অজয় চৌধুরী বিবিসিকে বলেন, ‘বন্ড ভক্তরা এ খবরে নড়েচড়ে বসেছে। সম্ভবত খানিকটা আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। আমরা হতাশ। তবে এটা স্পষ্ট যে, বন্ড ছবি মুক্তির চেয়েও এখন আরও বড় বিষয় (মানুষের স্বাস্থ্য) ঝুঁকির মুখে।
জেমস বন্ড ইন্টারন্যাশনাল ফ্যান ক্লাবের এই সম্পাদক মনে করেন, পিছিয়ে যাওয়ায় ২০২০ সালের বহুল প্রতীক্ষিত ছবি হিসেবে  ‘নো টাইম টু ডাই’র প্রতি দর্শকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। প্রচারণাটাই যা একটু আটকালো। রসিকতার সুরে তিনি বলেন, ‘শূন্যতা হৃদয়কে আরও বেশি অস্থির করে তোলে!’
স্ক্রিন ইন্টারন্যাশনালের উপ-সম্পাদক লুইস টাট মনে করিয়ে দিয়েছেন, সবশেষ দুটি বন্ড ছবি (স্কাইফল, স্পেক্টর) নভেম্বরে মুক্তি পেয়েছে। সুতরাং এই ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য পরিচিত সময়েই প্রেক্ষাগৃহে আসবে ২৫তম কিস্তিটি!ছবিটির প্রচারণা ইতোমধ্যে গতি পেয়েছে। ড্যানিয়েল ক্রেগ শনিবার (৭ মার্চ) ‘স্যাটারডে নাইট লাইভ’ অনুষ্ঠানে হাজির হবেন।
হলিউডের জন্য করোনা ভাইরাস কতটা ক্ষতিকর হবে?
বিশাল লোকসান অপেক্ষা করছে! অন্তত স্ক্রিন ইন্টারন্যাশনালের উপ-সম্পাদক লুইস টাট এমনটাই মনে করেন। তার ব্যাখ্যায়, চীনে বক্স অফিস থেকে বছরের প্রথম দুই মাসে (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) ২০০ কোটি মার্কিন ডলার আসেনি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ১৬ হাজার ৮৯৬ কোটি ৩০ লাখ ২০ হাজার টাকা!
স্ক্রিন ইন্টারন্যাশনালের উপ-সম্পাদক লুইস টাট বলেন, আমেরিকান প্রযোজক-পরিবেশকদের জন্য চীন একটি বিশাল বাজার। কিন্তু করোনা ভাইরাস আতঙ্ক ক্রমে বিস্তার পাচ্ছে। সুতরাং আমি মনে করি, দেশটির প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ থাকা কারও কাছে অপ্রত্যাশিত নয়।  তাছাড়া সবাইকে জনসাধারণের উন্মুক্ত স্থানে যেতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। ঠিক এ কারণেই লোকসানের পরিমাণ বাড়ছে।’
তবে আমেরিকান ম্যাগাজিন দি হলিউড রিপোর্টারের পামেলা ম্যাকক্লিনটকের মন্তব্য, ‘আপাতত ২৫ কোটি ডলার বাজেটে নির্মিত ‘নো টাইম টু ডাই একাই মুক্তি পাবে নভেম্বরে। প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের জন্য এটি আশার খবর। এমনিতে তারা স্ট্রিমিং ওয়েবসাইটগুলোর উত্থানের কারণে হুমকির মুখে।’
(বাঁ থেকে) ভিন ডিজেল, লিউ ইফে ও ড্যানিয়েল ক্রেগকরোনা ভাইরাস আতঙ্কে দর্শকরা যদি স্ব-বিচ্ছিন্ন (সেলফ-আইসোলেশন) হয়ে যায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবে স্ট্রিমিং ওয়েবসাইট ও অন-ডিমান্ড প্ল্যাটফর্মগুলোর চাহিদা বাড়বে। এক্ষেত্রে মহামারী বিষয়ক ছবিগুলো দেখা হতে পারে বেশি। ডেডলাইনের তথ্যানুযায়ী, রোগ সংক্রমণ নিয়ে বানানো ‘কন্টেজন’ (২০১১) ওয়ার্নার ব্রাদার্স ক্যাটালগের সবচেয়ে বেশি দেখা ছবির তালিকায় দ্বিতীয়। এতে অভিনয় করেছেন গোয়াইনেথ প্যালট্রো, ম্যাট ডেমন ও জুড ল। এর সামনে আছে কেবল হ্যারি পটার ফ্র্যাঞ্চাইজি।
এদিকে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইতালিতে করোনা ভাইরাসের বিস্তার সবচেয়ে বেশি দেখা যাওয়ায় ‘মিশন: ইমপসিবল’ সিরিজের সপ্তম ছবির শুটিং স্থগিত করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে ভেনিসে গোয়েন্দা ইথান হান্ট রূপী টম ক্রুজের যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরিচালক ক্রিস্টোফার ম্যাককোয়ারি দলবল নিয়ে সরে গেছেন। চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার পর সবচেয়ে বেশি দুরবস্থা ইতালিতে। দেশটিতে ২০০ জনের সংক্রমিত ও সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে ইতালি থেকে ডোয়াইন জনসনের ‘রেড নোটিশ’ ছবির শুটিং অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে নেটফ্লিক্স। এর গল্প বিশ্বের মোস্ট ওয়ান্টেড চিত্রকর্ম চোরকে ঘিরে। এতে আরও আছেন ‘ডেডপুল’ তারকা রায়ান রিনোল্ডস ও ‘ওয়ান্ডার ওম্যান’ রূপী গল গ্যাডট। ১৬ কোটি ডলারের বিশাল বাজেটে এটি পরিচালনা করছেন রসন মার্শাল থারবার।

/এমএম/

লাইভ

টপ