তারা পড়ে শোনালেন বঙ্গবন্ধুর লেখা ঐতিহাসিক চিঠি (ভিডিও)

Send
সুধাময় সরকার
প্রকাশিত : ১৬:১১, মার্চ ১৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:১২, মার্চ ১৩, ২০২০

চিঠিগুলো পাঠ করেছেন যারাজাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেমন সুবক্তা ছিলেন, তেমন লেখক হিসেবেও অসাধারণ। যার রেশ পাওয়া গেছে ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ কিংবা ‘কারাগারের রোজনামচা’ থেকে।
মহান এই নেতা জীবদ্দশায় অসংখ্য চিঠি লিখেছেন, যার প্রায় প্রতিটিই সুখপাঠ্য। এসব চিঠিকে ইতিহাসবিদরা অভিহিত করে থাকেন ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে। এসব চিঠিতে যেমন আছে তাঁর কারাজীবনের সুখ-দুঃখের গল্প, তেমনই রয়েছে রাজনৈতিক সংগ্রাম, দিকনির্দেশনা, বন্ধুত্ব, পরিবারের প্রতি দরদ এবং সব ছাপিয়ে দেশ ও মানুষের ভালোর জন্য আকুতির প্রতিচ্ছবি।
মুজিব জন্মশতবর্ষকে সামনে রেখে এমনই ঐতিহাসিক ১২টি চিঠি এবার সবার সামনে তুলে ধরছে বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিটি ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগে এই ১২টি চিঠি পাঠ করেছেন দেশের অন্যতম অভিনয়শিল্পীরা।
‘বঙ্গবন্ধুর চিঠি’ নামের বিশেষ এই অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রজেক্টের আওতায় গেল এক সপ্তাহে প্রকাশ পেয়েছে চারটি চিঠি। প্রথম চিঠিটি পাঠ করেছেন চঞ্চল চৌধুরী। এটি ১৯৬৬ সালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদকে লিখেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।


এরপরের চিঠিটি একই বছর বঙ্গবন্ধু লিখেছিলেন বগুড়া জেলা কারাগারে বন্দি অবস্থায় নুরুল ইসলাম চৌধুরীকে। এই চিঠিটি পাঠ করেছেন শমী কায়সার। এর পরের চিঠি পাঠ করেন শহীদুজ্জামান সেলিম। এটি ১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধু লিখেছিলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে।

সর্বশেষ ১১ মার্চ প্রকাশ হওয়া চিঠিটি পাঠ করেন সৈয়দ হাসান ইমাম। এটি ১৯৫১ সালে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সেক্রেটারি শামসুল হককে লিখেছিলেন বঙ্গবন্ধু।


উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রতিটি চিঠি পাঠ করার আগে সেটি লেখার প্রেক্ষাপট ও সময়কাল তুলে ধরেছেন প্রতিজন শিল্পী। শুধু তা-ই নয়, চিঠি পাঠের সঙ্গে আবহসংগীত আর পর্দায় ভেসে ওঠা বঙ্গবন্ধুর হাতের লেখা—এটি নতুন মাত্রা টেনে দিয়েছে এই আয়োজনে।
‘বঙ্গবন্ধুর চিঠি’ প্রজেক্ট প্রসঙ্গে দেশের অন্যতম অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘এটা অসাধারণ একটি উদ্যোগ। আমি তো মনে করি বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া প্রতিটি চিহ্ন নিয়ে এমন উদ্যোগ সারা বছর নেওয়া জরুরি। মানুষ এসব জানতে আগ্রহী। আমি এখানে যে চিঠিটি পড়েছি, সেটি বঙ্গবন্ধু লিখেছেন তাঁর বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা তাজউদ্দীন আহমদকে। একেবারেই সাধারণ একটি চিঠি। ব্যক্তিগত কুশলাদি জানানোর মতো। অথচ চিঠিটির প্রতিটি অক্ষরে অক্ষরে, ছোট ছোট বাক্যে অসীম মমতার ছাপ রেখে গেছেন বঙ্গবন্ধু। চিঠিটি পড়ার পর আমার অন্তত তা-ই মনে হলো।’


জানা গেছে, এই প্রজেক্টের অন্য চিঠিগুলো পাঠ করেছেন রাইসুল ইসলাম আসাদ, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, আজাদ আবুল কালাম, ইন্তেখাব দিনার প্রমুখ। এসব চিঠি আগেরগুলোর মতো পর্যায়ক্রমে উন্মুক্ত হবে সিটি ব্যাংকের ভেরিফায়েড ফেসবুকে পেইজে।
‘বঙ্গবন্ধুর চিঠি’ প্রজেক্ট প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির অভিমত এমন, এই ১২টি চিঠি জাতির কাছে বঙ্গবন্ধুকে হাজির করবে নতুনরূপে। আর দেশ গড়ার সংগ্রামে নিয়োজিত সবাইকে দিয়ে যাবে উদ্দীপনা।

/এমএম/এমওএফ/

লাইভ

টপ