সত্যজিৎ রায়ের শুটিংয়ে তোলা অসংখ্য স্থিরচিত্রের নেগেটিভ আবিষ্কার

Send
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৩:১১, মে ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:১১, মে ০৩, ২০২০

সত্যজিৎ রায়চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের বিভিন্ন ছবির শুটিংয়ে তোলা একহাজারেরও বেশি স্থিরচিত্রের নেগেটিভ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি নিজেই অথবা তার সমসাময়িক বিশ্বস্তরা এগুলো তুলেছিলেন।

ভারতে আরোপিত অবরোধ (লকডাউন) চলাকালীন তার বিশপ লেফ্রয় রোডের বাড়ির খাসকামরায় এই নেগেটিভের সন্ধান মিলেছে।
আজীবন সম্মাননার অস্কার পাওয়া এই পরিচালকের ছেলে সন্দীপ রায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে শনিবার (২ মে, ১৯২১) এ তথ্য জানান। আজ তার ৯৯তম জন্মবার্ষিকী। পঞ্চাশ থেকে নব্বই দশকের গোড়ার দিক পর্যন্ত সত্যজিতের বিভিন্ন ছবির শুটিংয়ের সাক্ষী এসব নেগেটিভ। ফলে এগুলো সোনার খনির চেয়ে কম নয়!
সন্দীপ রায় বলেছেন, ‘‘পঞ্চাশের দশকের গোড়ার দিকে বাবা যখন ‘পথের পাঁচালি’র আউটডোর শুটিং শুরু করলেন, তখন বিভিন্ন মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করার মতো তার কোনও ফটোগ্রাফার ছিল না। পরবর্তী সময়ে শিল্প নির্দেশক বাঁশি চন্দ্রগুপ্ত অনেক স্থিরচিত্র তুলেছিলেন। বাবা নিজেও ক্যামেরায় ক্লিক করেছেন।’’
জানা গেছে, নতুন আবিষ্কারের মধ্যে অপু ট্রিলজির ‘অপরাজিতা’ (১৯৫৬) ও ‘অপুর সংসার’-এর (১৯৫৯) পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে নির্মিত ‘চারুলতা’ (১৯৬৪), ‘জলসাগর’-এর (১৯৫৮) মতো কয়েকটি চলচ্চিত্রের শুটিং চলাকালে তোলা স্থিরচিত্রের নেগেটিভ রয়েছে।
একহাজারেরও বেশি নেগেটিভ ড্রয়িং রুমের পাশের চিলেকোঠায় একটি বাক্সে এবং ঘরটির এক কোণে পাওয়া গেছে। সত্যজিৎ বাড়িতে থাকলে এখানেই অনেকটা সময় ব্যয় করতেন।
সন্দীপ রায়ের ধারণা, ‘এত বছর ধরে অজানা হয়ে থাকা মোট সংগ্রহের কেবল অর্ধেকটা পেয়েছি। আবারও অনুসন্ধান চালালে আরও অনেক বাক্স পাওয়া যাবে।’
চলচ্চিত্রপ্রেমী, সত্যজিৎ-ভক্ত ও চলচ্চিত্র ইতিহাসবিদদের কাছে এসব উপকরণ অমূল্য রত্ন। এগুলো খুঁজে পেতে কেন এত বছর লাগলো? তার ছেলের উত্তর, ‘চিলেকোঠার ভেতরে কী আছে তা দেখার কথা আমরা প্রায়ই ভেবেছি। কিন্তু সময় হচ্ছিল না।’
লকডাউন শুরুর ঠিক আগে রায় পরিবার অনুসন্ধানে নামার সিদ্ধান্ত নেয়। ঘরবন্দি সময়টাকে এভাবেই কাজে লাগিয়েছেন তারা। আগামীতেও আরও যেসব জিনিস পাওয়া যাবে তা সবাইকে চমকে দেবে বলে তাদের বিশ্বাস।
শুধু নেগেটিভ নয়; সত্যজিৎকে পাঠানো সিনেমার কিংবদন্তি আকিরা কুরোসাওয়া, ব্রিটিশ অভিনেতা রিচার্ড অ্যাটেনবরো ও বিজ্ঞান লেখক আর্থার সি ক্লার্কসহ বিভিন্ন মহলের বিশিষ্টজনদের চিঠি ও টেলিগ্রাম খুঁজে পাওয়া গেছে।
‘ভবিষ্যতে আমরা এসব সংগ্রহের একটি তথ্যশালা তৈরি করবো। এর মাধ্যমে বাবা কোন সময়ে চলচ্চিত্র নির্মাণে সক্রিয় ছিলেন তা নির্দিষ্ট করতে সহায়ক হবে। নেগেটিভ পুনরুদ্ধার করা এবং উন্নত মানের প্রিন্ট তৈরি হবে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আগামী বছর তার শততম জন্মবার্ষিকীতে আমরা এগুলো প্রথমবারের জন্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করবো’— বললেন সন্দীপ রায়।
পরিবার নিয়ে লেক অ্যাভিনিউ ও লেক টেম্পল রোডের পর সত্যজিৎ রায়ের শেষ ঠিকানা ছিল বিশপ লেফ্রয় রোড। তার সব জিনিসপত্র এক জায়গা থেকে অন্যখানে স্থানান্তর করতে হয়েছে। এ কারণেই এসব নেগেটিভের ভাণ্ডার এত বছর সবার অলক্ষ্যে ছিল।
৬৬ বছর বয়সী এই নির্মাতা জানান, স্বাভাবিক জীবনযাত্রা শুরুর আগে তাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ‘অন্যান্যবারের মতো এ বছর ভক্ত ও চলচ্চিত্রানুরাগীরা বাবার জন্মদিনে আমাদের বাড়িতে আসতে পারেননি। তবে তারা এই আবিষ্কারের সংবাদ পেয়ে কিছুটা হলেও খুশি হবেন। এ খবর লকডাউনের হতাশাকে সরিয়ে দিতে পারে।’

/জেএইচ/এমএম/

লাইভ

টপ