বাবা দিবস ও সংগীত দিবস‘বাবা তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠো’

Send
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত : ২০:৪২, জুন ২১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:২৭, জুন ২১, ২০২০

দেশবরেণ্য সুরকার আলাউদ্দিন আলী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। লড়াই করছেন ক্যানসারের সঙ্গে। তার মেয়ে আলিফ আলাউদ্দিনও ভালো নেই। জনপ্রিয় এই কণ্ঠশিল্পী ও উপস্থাপকের দুটি কিডনির ৮০ ভাগই অকেজো হয়ে গেছে। চলছে চিকিৎসা।
তবু বাবা দিবসে (২১ জুন) বাংলা ট্রিবিউনের আহ্বানে বাবাকে নিয়ে অনেক অজানা গল্প শোনালেন তিনি। এবার এই দিনটি পালিত হচ্ছে বিশ্ব সংগীত দিবস হিসেবেও। ফলে সংগীত পরিবারের এই ভিডিও বার্তাটি সেই প্রেক্ষাপটেও বেশ প্রাসঙ্গিক।
ভিডিও বার্তায় কথায় কথায় আলিফ জানালেন, বাবা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলে দারুণ খুশি হতেন তিনি। তখন ল্যান্ডফোনের দিন ছিল। ফোনে জানতে পারতেন বাবা পুরস্কৃত হয়েছেন। কখনও সকালে পত্রিকা খুলে জানতে পেরেছেন খবরটা।
অনেক জনপ্রিয় গানের এই স্রষ্টা আটবার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিটি পেয়েছেন।
আলাউদ্দিন আলী তিনবার ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ (১৯৭৮), ‘সুন্দরী’ (১৯৭৯) ও ‘কসাই’ (১৯৭৯) ছবির জন্য সেরা সংগীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। একই বিভাগে ‘যোগাযোগ’ (১৯৮৮) ও ‘লাখে একটা’ (১৯৯০) তাকে আরও দু’বার পুরস্কারটি এনে দিয়েছে। এছাড়া ‘লাল দরিয়া’র (২০০২) জন্য সেরা সুরকার এবং ‘প্রেমিক’ (১৯৮৫) ছবির জন্য সেরা গীতিকার হিসেবে জাতীয় পুরস্কার জেতেন তিনি।
ছোটবেলা থেকে সংগীতের আবহে বেড়ে উঠেছেন আলিফ। তিনি দেখতেন কীভাবে একেকটি গান তৈরি হয়। বাবার কথা এলেই তার মনে প্রথম ভেসে ওঠে মন্ত্রমুগ্ধের মতো সুরের ভুবনে ডুবে থাকা একজন মানুষের মুখ। সামনে অর্কেস্ট্রা বাজাচ্ছেন। তার রেকর্ডিংয়ে থাকতো পিকনিকের আমেজ। অন্য সংগীত পরিচালক ও নামকরা কণ্ঠশিল্পীরা হাজির হতেন। সব মিলিয়ে থাকতো আনন্দময় পরিবেশ।
মেয়ে নবম শ্রেণিতে ওঠার পর আলাউদ্দিন আলী বলেছিলেন, ‘তোমার নিজের অ্যালবাম করতে হবে। নতুন গানের পাশাপাশি আমার কিছু গান রিমিক্স করবে।’
সত্যিই আলিফের প্রথম অ্যালবাম ‘সেই তুমি এলে’ বাবার তত্ত্বাবধানে তৈরি হয়েছিল। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৮ সালে।আলাউদ্দিন আলীর কোলে কন্যা আলিফ, ডানে মা সালমা সুলতানা
অনেকে বলে, বাবার সুবিধা নিয়ে তারকা হয়েছেন আলিফ। তিনি এটা অস্বীকার করেননি। তার কথায়, ‘আমার পরিবারের প্রায় সবাই ঘুরেফিরে গান-বাজনার মানুষ। তাই অন্য কিছু করার কথা ভাবিনি। তবে বাবা থাকায় ঢুকতে সুবিধা হয়েছে। কিন্তু টিকে থাকবো কিনা তা কিন্তু নির্ভর করে শ্রোতাদের ওপর। তবে কখনও বাবার ধারেকাছে যেতে পারবো এমন চিন্তা করিনি। চেষ্টাও করিনি। তাই আমি আলাদা একটা ঘরানার সংগীত মানে পপ-রক বেছে নিয়েছি। এটাই ধরে রেখেছি এখনও।’
বাবাকে নিয়ে অনেকের কাছে অনেক রকম গল্প শুনেছেন আলিফ। এরমধ্যে আলাদাভাবে উল্লেখ করলেন একটি ঘটনা। সেটি তার মা নজরুলসংগীত শিল্পী সালমা সুলতানাকে ঘিরে। কিছুদিন আগে হৃদয় খানের সঙ্গে বাবার সুর করা একটি গান কাভার করেন তিনি। এর শিরোনাম ‘শেষ করো না শুরুতে খেলা’।
অন্যখানে যখন সালমা সুলতানার বিয়ের কথা ঠিক হচ্ছিল তখন গীতিকার মনিরুজ্জামান মনিরকে দিয়ে এটি লিখিয়েছেন আলাউদ্দিন আলী। মায়ের মুখেই কথাটি শুনেছেন আলিফ। গানটি প্রথমে গেয়েছিলেন জাফর ইকবাল। পরে গাইলেন রুনা লায়লা।
বাবা দিবসে বাবাকে উদ্দেশ করে আলিফ বলেন, ‘বাবা তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠো। বাংলাদেশের সব মানুষ তোমাকে খুব ভালোবাসে। তোমার জন্য তাদের দোয়া আছে। তোমাকে অনেক ভালোবাসি।’

/জেএইচ/এমএম/এমওএফ/

লাইভ

টপ