সিঙ্গার সংরাইটারদের প্রথম গান নিয়ে প্রতিযোগিতা!

Send
সুধাময় সরকার
প্রকাশিত : ১৫:৩৯, জুন ৩০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:০৪, জুন ৩০, ২০২০

বিষয়টি ব্যতিক্রম। কারণ, এটি নিয়ে দেশের সংগীতে খুব বেশি ভাবা হয় না। তাছাড়া এমন ধারার সংগীতশিল্পীর সংখ্যা তুলনায় কম। এবার সেই কম কিংবা অনুল্লেখযোগ্য বিষয়টিকে সামনে তুলে আনছে ‘বাংলাদেশ সিঙ্গার সংরাইটার হাব’ নামের একটি মিউজিক্যাল গ্রুপ।

এই গ্রুপের অন্যতম সদস্য জয় শাহরিয়ার। তিনি জানান, দেশের তরুণ সিঙ্গার সংরাইটারদের সামনে তুলে আনার জন্য এই উদ্যোগ। উদ্দেশ্য তিনটি। এক. নতুনদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিকে আরও সমৃদ্ধ করা। দুই. সিঙ্গার সংরাইটার মানে হচ্ছে একাই একশ’। ফলে এই ধারার মেধাবীরা বেশিরভাগ সময়ই দলছুট হয়ে যান। সেই ভাবনা থেকেও এই উদ্যোগ। তিন. সিঙ্গার সংরাইটার কনসেপ্টটাকে উৎসাহিত বা পরিচিত করে তোলা মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে। কারণ, আজ গীতিকার-সুরকার-শিল্পীদের মধ্যে কপিরাইট জটিলতা নিয়ে যে বিভাজন শুরু হয়েছে তার অন্যতম কারণ এক গানের একাধিক অংশীজন। যেটা সিঙ্গার সংরাইটারদের ক্ষেত্রে তৈরি হওয়ার সুযোগ নেই।
এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার শর্ত বেশ সহজ। বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। বয়সসীমা ১৬ থেকে ৩৫ বছর। যে ডেমো গানটি পাঠানো হবে সেটির কথা-সুর-কণ্ঠ প্রতিযোগীর একার তৈরি হতে হবে। এবং সবচেয়ে বড় বিষয়, সেই গানটি হতে হবে ঐ প্রতিযোগীর জীবনের প্রথম প্রকাশিত গান। যেটা নিজের ইউটিউব, ফেসবুক বা যেকোনও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে একেবারে পরীক্ষামূলকভাবে। কারণ, এই প্রতিযোগিতার নামই হচ্ছে ‘দ্য ফার্স্ট সং প্রজেক্ট’।




অডিও গানের ডেমো জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১০ জুলাই। পাঠাতে হবে এই ইমেইল ঠিকানায়- [email protected]
জমা পড়া অডিও ডেমোগুলো বাছাই করবেন দেশের এই প্রজন্মের অন্যতম চার জন সিঙ্গার সংরাইটার—জয় শাহরিয়ার, সন্ধি, সিনা হাসান ও সভ্যতা।
জয় বলেন, ‘আমি নিজে একজন সিঙ্গার সংরাইটার। ফলে এটা নিয়ে আমার গর্ব আছে আবার দুঃখবোধও আছে। আমার মনে হয়, ইন্ডাস্ট্রিতে এই ধারার শিল্পীর সংখ্যা যত বাড়বে, ততই সমৃদ্ধ গানের সংখ্যা বাড়বে এবং কমবে কপিরাইট জটিলতা। তাছাড়া, এই ধারার শিল্পীদের বেশিরভাগই হেল্পলেস থাকেন। কারণ, তারা একাই সব করেন বা করতে চান। এসব ভাবনা থেকে বিশেষ এই আয়োজনটির সঙ্গে জড়িত হই। ভালো সাড়া পাচ্ছি। দেখা যাক কী হয়।’

জয় জানান, জমা পড়া ডেমোগুলো যাচাই-বাছাই শেষে ৩১ জুলাই ফলাফল প্রকাশ করা হবে বাংলাদেশ সিঙ্গার সংরাইটার হাব-এর ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে। চূড়ান্ত করা হবে তিন জন সেরা সিঙ্গার সংরাইটার। আর পুরস্কার হিসেবে থাকছে, তাদের তিনটি গান প্রকাশ। যে গানগুলোর রেকর্ডিং থেকে ভিডিও, সবই তৈরি করে দেবে আজব রেকর্ডস ও আজব কারখানা।
প্রসঙ্গত, সিঙ্গার সংরাইটার বলা হয় সেসব শিল্পীকে, যারা নিজেরাই লেখেন, সুর করেন এবং সেই গান নিজ কণ্ঠে তোলেন। দেশে এমন শিল্পীর সংখ্যা কম ও অনুল্লেখযোগ্য হলেও বেশ জ্বল জ্বল করছে মাকসুদ, সঞ্জীব চৌধুরী, মাহমুদুজ্জামান বাবু, সুমন, প্রীতম আহমেদ কিংবা সায়ানদের নাম। গোড়ার দিকে গেলে রবীন্দ্রনাথ, লালল, নজরুল, হাছন থেকে শাহ আব্দুল করিমরাই এই বাংলার প্রথম সারির সিঙ্গার সংরাইটার।

/এমএম/এমওএফ/

লাইভ

টপ
X