‘কাজল রেখা’ নিয়ে সেলিমের ১০ বছরের অপেক্ষা!

Send
বিনোদন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১২:৩৫, জুলাই ০৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৪৬, জুলাই ০৫, ২০২০

গিয়াস উদ্দিন সেলিম‘কাজল রেখা’র মধ্যে আসলে কী এমন আছে যে, গত ১ দশক ধরে পরম যত্নে আগলে রেখেছেন নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিম!

প্রযোজক পাননি, নির্মাণের পরিবেশ পাননি, মনের মতো শিল্পী পাননি−কিন্তু হাল ছাড়েননি। বরং প্রতিনিয়ত ছবিটি নির্মাণ প্রক্রিয়া চালিয়ে গেছেন নীরবে। নিশ্চয়ই এই ছবিতে বড় কোনও রহস্য লুকিয়ে আছে। গত এক দশকে বিভিন্ন সময়ে ‘কাজল রেখা’ নিয়ে নানা প্রশ্নে জর্জরিত হয়েছেন পরিচালক গিয়াস উদ্দিন সেলিম। কিন্তু সেটি বানানোর স্বপ্ন তিনি ছাড়েননি। আবার সিনেমাটি নিয়ে রহস্যের জালও খোলেননি।
এবারও এ বিষয়ে মুখ ফুটে কিছু বলছেন না। বাংলা ট্রিবিউনের প্রশ্নের জবাবে মুখটা চওড়া করে শুধু বললেন, ‘রহস্য তো আছেই। তবে সেটা তুলে রাখলাম দর্শকের জন্য। তারাই বুঝুক, কেন আমি ছবিটি নিয়ে এত সংগ্রাম করছি।’
বিষয়টি আসলে এমন হওয়ার কথা ছিল না। ২০০৯ সালে মুক্তি পায় ‘মনপুরা’ চলচ্চিত্র। পর্দার সামনে সিটগুলো দর্শকে টইটুম্বর। মাল্টিপ্লেক্সগুলো সপ্তাহের পর সপ্তাহ তাদের বিলবোর্ড পরিবর্তন করেননি। চালিয়ে গেছে ‘মনপুরা’। যা শূন্য দশকের পর সবচেয়ে হিট ছবি।
কিন্তু পরের বছরই এত প্রশংসা আর উষ্ণ বাক্য মিইয়ে গেছে এই নির্মাতার দ্বিতীয় ছবি ‘কাজল রেখা’র সামনে! ‘মনপুরা’র ম্যাজিক ভুলে সবার আলোচনায় উঠে আসে ছবিটির নাম। সবাই অপেক্ষা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাতা সেলিম উপহার দিচ্ছেন আরেকটি ব্লকবাস্টার ছবি। কিন্তু হলো না, ১০ বছর ধরে ছবিটি শুধু সংবাদপত্রেই শোভা পেলো। মাঝে এই নির্মাতার ‘স্বপ্নজাল’ ছবিটি মুক্তি পায়। বিপরীতে আরও মিইয়ে যায় ‘কাজল রেখা’ নির্মাণ ও মুক্তির সম্ভাবনা।
মৈমনসিংহ গীতিকা থেকে এর গল্প তৈরি। কিন্তু কোনও এক বিশেষ কারণে কোনও প্রযোজকই আগ্রহী হননি বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম হিট ছবি দেওয়া এই পরিচালকের ‘কাজলে’র জন্য।
‘‘মনপুরা’ আমার প্রথম চলচ্চিত্র। সেটি নিয়েও আমি বহুবছর ঘুরেছি। তবে ‘কাজল রেখা’র মতো এতটা নয়।’’ ভাষ্য সেলিমের।
অবশেষে চলতি অর্থবছরে ‘কাজল রেখা’র জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুদান পাচ্ছেন সেলিম! তাই ছবিটি নির্মাণে এবার আর কোনও বাধা রইলো না−আশা প্রকাশ করলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই নির্মাতা।
বললেন, ‘ছবিটির জন্য ৫০০ বছর আগের সময়ে ফিরে যেতে হবে আমাকে। লোকেশন, আবহ−সব সেসময়ের জন্য তৈরি করতে হবে। মৈমনসিংহ গীতিকায় কাজল রেখার যে পালা আছে, সেখান থেকেই ছবির গল্প। ফলে কাজটি বেশ কঠিন ও সময় সাপেক্ষ।’
জানা যায়, ৫০০ বছর আগে ৯ বছর বয়স হলেই সমাজের নিয়ম অনুযায়ী মেয়েদের বিয়ে দিতে হতো। কাজল রেখার বয়স যখন ৯ হয়, তখন এক নতুন গল্প তৈরি হয়। সেটিই উঠে আসবে সেলিমের এবারের চিত্রনাট্য ও পরিচালনায়।
এই নির্মাতা জানান, দশ বছর ধরে ছবিটির পাণ্ডুলিপি নিয়ে ঘুরলেও কখনও চরিত্র চূড়ান্ত করেননি। এবার করোনা পরিস্থিতি শেষ হলে শুরু করবেন শুটিং। আর তার আগেই চরিত্রগুলো চূড়ান্তভাবে এঁকে ফেলবেন।
আর সবকিছুই করতে চান আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে। কারণ, এখন আর এক পা এগিয়ে দুই পা পেছানোর সুযোগ নেই। যেহেতু মিলেছে ৫০ লাখ টাকার সরকারি অনুদান।

/এম/এমএম/এমএমজে/

লাইভ

টপ