বামবা’র সিদ্ধান্তে বিতর্ক, জবাব দিলেন হামিন আহমেদ

Send
মাহমুদ মানজুর
প্রকাশিত : ১৫:৩৭, জুলাই ১৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩৮, জুলাই ২০, ২০২০

বাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ডস অ্যাসোসিয়েশন (বামবা)-এর সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে নতুন করে আগুন লেগেছে সংগীতাঙ্গন হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

সিদ্ধান্তটি এমন, এখন থেকে এই সংগঠনের সদস্যভুক্ত ২৫টি ব্যান্ডের গান অন্য কোনও শিল্পী বা ব্যান্ড বাণিজ্যিকভাবে কাভার করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যান্ডের অনুমতি লাগবে। তাই নয়, সম্প্রচার মাধ্যমগুলোকেও নিতে হবে লিখিত অনুমতি।
তা না হলে, আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে সংশ্লিষ্ট ব্যান্ড ও বামবা। সংগঠনের এমন সিদ্ধান্তে সম্মতি জানিয়েছে দেশের ২৫টি উল্লেখযোগ্য ব্যান্ড। ১৫ জুলাই বামবা এই সিদ্ধান্ত নেয়, যা প্রকাশ্যে আসে ১৮ জুলাই। এদিকে এমন সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর বেশ কিছু ব্যান্ড, একক শিল্পী, মিউজিশিয়ান এমনকি শ্রোতারাও নানা সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সবার প্রশ্ন বা বিতর্কের বিষয় কাছাকাছি- বামবা এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে না! সরাসরি এই সংগঠনের সভাপতি হামিন আহমেদের দিকেও আঙুল তুলছেন অনেক সমালোচক। বলছেন, মাইলস-এর জন্ম হলো কাভার গান করে, তারাই এখন অন্যের কণ্ঠ রোধ করছে! আবার কেউ বলছেন, এখন থেকে অনুমতি ছাড়া বিদেশি গানও মাইলস-সহ অন্য ব্যান্ডগুলোর গাওয়া ঠিক হবে না।
এসব প্রশ্ন নিয়ে বামবা সভাপতি হামিন আহমেদের জবাব খোঁজার আগে জেনে নেওয়া যাক একমত হওয়া ২৫টি ব্যান্ডের নাম। আর্বোভাইরাস, অর্থহীন, আর্টসেল, অ্যাভয়েড রাফা, ব্যান্ড লালন, ব্ল্যাক, বেদুঈন, ক্রিপটিক ফেইট, দলছুট, দৃক, ফিডব্যাক, এলআরবি, মেকানিক্স, মাইলস, নেমেসিস, অবসকিওর, পাওয়ারসার্জ, পেন্টাগন, রেনেসাঁ, শিরোনামহীন, শূন্য, সোলস, দ্য ট্র্যাপ, ভাইকিংস ও ওয়ারফেইজ।
এই ২৫টি ব্যান্ডের কর্তারা যৌথভাবে আহ্বান জানিয়েছেন, মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির বৃহত্তম স্বার্থে তাদের এই সিদ্ধান্তের প্রতি সবাই যেন সম্মতি ও সম্মান প্রদর্শন করেন। ১৮ জুলাই এমন ঘোষণা প্রকাশের পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেগেছে বিতর্কের আগুন। সেসবের উত্তর খুঁজতে বাংলা ট্রিবিউন মুখোমুখি হয়েছে বামবা’র সভাপতি হামিন আহমেদের।
হামিন আহমেদ
বাংলা ট্রিবিউন:
ব্যান্ডনির্ভর হলেও দেশের একমাত্র সংগীত সংগঠন বামবা। ফলে এই সংগঠন থেকে সর্বস্তরের সংগীতশিল্পীদের প্রত্যাশাও খানিক বাড়তি। আপনি কি মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত থেকে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে?

হামিন আহমেদ: নিশ্চয়ই ঘটেছে। বাংলাদেশের টোটাল মিউজিকের স্বার্থ নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বামবা। এখানে ব্যান্ডের স্বার্থ প্রটেক্ট করা মানে, বাংলাদেশে নিয়মহীন সংগীতাঙ্গনে একটা শৃঙ্খলা ফিরে আসা। কারণ, এই সিদ্ধান্তের কারণে আমি হামিন আহমেদ বা আমার ব্যান্ড মাইলস-এর ব্যক্তিগত কোনও লাভ হচ্ছে না তো।
বাংলা ট্রিবিউন: সাম্প্রতিক সময়ে এসব বিষয়ে সোচ্চার হতে দেখা গিয়েছে সংগীত সংশ্লিষ্ট অন্যদেরও। যদিও সংগঠন বা একত্রিত হওয়ার অভাবে সেসবের সাংগঠনিক ফলাফল পাওয়া যায়নি। এরমধ্যে বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের উদ্যোগে হয়ে গেল বেশ কয়েকটি অনলাইন বৈঠক বা কর্মশালা। প্রশ্ন হচ্ছে, মহামারির মধ্যে গান নিয়ে এত আয়োজন বা বিতর্কের কারণ কী!
হামিন আহমেদ: অন্যরা কে কী করেছেন বা বলেছেন, সেটা তো আমি বলতে পারবো না। বলা ঠিকও হবে না। সবার অবগতির জন্য বলছি, গত ১০ বছর ধরে বামবা তথা এই হামিন আহমেদ নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে কপিরাইট ও রয়্যালটি সিস্টেম নিয়ে। ব্যান্ড নয়, সংগীত ক্রিয়েটরদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য টানা দশটা বছর আমি গবেষণা করছি আর দৌড়াচ্ছি- ফর আওয়ার বেটার ফিউচার। ফলে বামবা’র এই ঘোষণাটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ভাবলে ভুল করবেন যে কেউ। মনে রাখতে হবে, কপিরাইট বা মেধাস্বত্ব প্রটেক্ট-এর অন্যতম বিষয় হচ্ছে একে অপরের প্রতি রেসপেক্ট করতে শেখা। আপনি আমার গান গাইবেন, খুব ভালো কথা। তো সেটা আমাকে জানাতে আপনার এত দ্বিধা কেন? আমরা তো বেঁচে আছি এখনও। অনুমতি চাইলে টাকা চাইবো, সেটা তো নয়। সত্যি বলতে, আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে তো মিনিমাম এই ভদ্রতা বা রেসপেক্টটাও গড়ে ওঠেনি।

বাংলা ট্রিবিউন:
ভুল না হয়ে থাকলে বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের মধ্যে দেশ-বিদেশে সবচেয়ে বেশি গান কাভার হয় এলআরবি ও নগরবাউল-এর। তালিকায় এলআরবি থাকলেও অন্যটি নেই। জেমস বেঁচে থেকেও সংগঠনের এই সিদ্ধান্তে অসম্মত হলেন কেন! সারেগামাপা অভিজ্ঞতার পরেও...।
হামিন আহমেদ: সেটা তো জেমস ভালো বলতে পারবেন। আমরা তাকে বিষয়টি জানিয়েছি। তার মতামতের জন্য এক সপ্তাহ অপেক্ষা করেছি। ইয়েস অর নো- কিছুই পাইনি! অবশেষে ধরেই নিলাম, তার আপত্তি আছে আমাদের উদ্যোগে। এটা হতেই পারে। একটা সংগঠনের সবাই যে একমত হবেন- তা তো নয়। এটা তার সাংগঠনিক অধিকার।
বাংলা ট্রিবিউন: কিন্তু সংগঠনের বা বাংলা ব্যান্ড অধ্যায়ের আরেক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মাকসুদুল হক কিংবা ‘মাকসুদ ও ঢাকা’র নামটিও অনুপস্থিত আপনাদের তালিকায়!
হামিন আহমেদ: সেটাই। আমাদের সদস্য ২৭ ব্যান্ড। এরমধ্যে দুটি ব্যান্ড থেকে যথাসময়ে সাড়া পাইনি। তাদের নিশ্চয়ই অন্য মতামত আছে। অন্য জটিলতাও থাকতে পারে, যেটা আমাদের নেই। বামবা’র সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমরা ২৫ ব্যান্ড একমত হয়েছি। সিম্পল।
বাংলা ট্রিবিউন: এই বিবৃতির পর ইতিবাচক ও নেতিবাচক মন্তব্য পাওয়া যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেগুলো নিশ্চয়ই নজরে রাখছেন। বামবার পেইজে আপনি সাধারণ শ্রোতাদেরও উত্তর দিতে দেখা গেছে। অভিজ্ঞতা শেয়ার করবেন?
হামিন আহমেদ: তার আগে আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলি। দীর্ঘ বছর ধরে লক্ষ করে আসছি, দেশে যাই আর বিদেশে- সব মঞ্চেই এলআরবি আর লাকী আখান্দের গান কাভার হচ্ছে। এটা আমাদের শোগুলোতে কমন চিত্র। এমনও হয়েছে একটি শোতে গিয়েছি, আমরা ব্যাকস্টেজে বসে আছি। পর পর দুটি নতুন ব্যান্ড বা একক শিল্পী পারফর্ম করছে। এবং তারা বাংলাদেশের যত জনপ্রিয় গান আছে তার প্রায় অর্ধেক গেয়ে ফেললো এক দেড় ঘণ্টার মধ্যে! এরমধ্যে মাইলসের গানও আছে দুই একটা! অথচ দেখা যাচ্ছে তাদের নামমাত্র পে করে মঞ্চে তোলা হলো। লক্ষ করবেন, এখানে অনেক অনিয়ম হয়ে গেল। কোনও রকম অনুমতি বা রেসপেক্ট ছাড়াই তারা দেশের অসম্ভব জনপ্রিয় বা কলজয়ী গানগুলো এভাবে গেয়ে দিতে পারেন না। এবং লিরিক ভুল, মিউজিক ভুল, গায়কী ভুল। আরেকটি হলো- যে গানের স্টেজ মূল্য ১০ টাকা, সেটা ১ টাকা দিয়ে অন্যদের ডেকে গাইয়ে নিচ্ছেন! আসল শিল্পী শো পাচ্ছে না, খাচ্ছে অন্যরা! আরেকটি বিষয়- আমরা মাইলস সদস্যরা ব্যাক-স্টেজে বসে আছি। একটু পর উঠবো। তার আগে স্টেজে আমাদের গান ‘নীলা তুমি’, ‘জ্বালা জ্বালা’- হরদম গেয়ে দিলো! এটা তো ভয়ংকর অপমানের।
আরও কষ্ট লাগে, ব্যাক-স্টেজে বসে আছি। হঠাৎ কানে বাজলো গাইছে জেমস! একেরপর এক গেয়েই যাচ্ছে। শুধু গান বা কণ্ঠ না, দর্শকদের সঙ্গে আলাপও একই রকম- জেমসের ঢংয়ে! আমরা ব্যান্ড মেম্বাররা হতচকিত! শোতে জেমস আছে- সেটা জানতাম না তো! পরে আয়োজক বললো, জেমস না- একজন সলো আর্টিস্ট!
তাহলে আমাকে বলেন, অনুমতির প্রসঙ্গ কেন আসে। কীভাবে লুটতরাজ হচ্ছে মেধাস্বত্ব।
আইয়ুব বাচ্চু স্মরণে একমঞ্চে বামবা’র সদস্যরাবাংলা ট্রিবিউন: কিন্তু অনেক সমালোচকের পাল্টা প্রশ্ন, মাইলস, ফিলিংস/নগর বাউল/জেমস, এলআরবি-সহ দেশের বেশিরভাগ ব্যান্ডের জন্ম কাভার গান করে। এমনকি, আপনারা মাইলস- দেশের লিজেন্ডারি ব্যান্ড হয়ে এখনও ইংরেজি গান কাভার করেন স্টেজে।
হামিন আহমেদ: গুড পয়েন্ট। আমি বা মাইলস গত ৩০ বছর ধরে যে শো করছি দেশে, বিদেশে, টিভিতে- সেগুলো কি ব্রায়ান অ্যাডামস বা ঈগলস বা গানস এন রোজেস বা অন্য কোনও কাভার গান করার জন্য ডাক পেয়েছি? আমরা যে শোয়ের বিপরীতে টাকা পাই, সেটা কি নিজের গানের জন্য পাই, নাকি কাভারের জন্য? আমদের যা অর্জন তার পুরোটাই মৌলিক গানের জন্য। এখন কোনও পাবলিক শোতে গেলে যদি অসংখ্য দর্শক অনুরোধ করে বসে, ‘নভেম্বর রেইন’ গাওয়ার জন্য। তো সেটা আমি গাইবো না?
ওকে সেটার জন্যেও আমরা অনুমতি নিতে চাই। কিন্তু আমার দেশে তো সেসব অনুমতি নেওয়ার জন্য ‌‘গানস এন রোজেস’-এর বুথ বা এজেন্ট নেই। এখন আপনারা যদি ‘গানস এন রোজেস’-এর বাস্তবতার সঙ্গে মাইলস বা এলআরবি বা ব্ল্যাকের বাস্তবতা মেলান, তাহলে তো সমাধান হবে না।
বাংলা ট্রিবিউন: কেন! তর্ক-বিতর্ক থেকেই তো সমাধানের পথ বের হয়। চাপিয়ে দেওয়া থেকে নয়।
হামিন আহমেদ: তা তো বটেই। সেই বিতর্ককে গুরুত্ব দিচ্ছি বলেই তো এতক্ষণ একই বিষয়ে কথাগুলো বলছি। বোঝানোর চেষ্টা করছি, আমরা যখন ১৯৭৯ সালে হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে ইংরেজি গান কাভার করতাম- তখন আর এখন বিস্তর ফারাক। তখন আমরা যে গানগুলো করতাম, কপিরাইট কি জিনিস জানতাম না। তবে এখন জানতে পারি, তখন যে গানগুলো গেতাম, যে পেমেন্ট পেতাম- তার একটা অংশ ঠিকই পশ্চিমের শিল্পীরা পেতেন। কারণ, সেটি ছিল আন্তর্জাতিক চেইন হোটেল। ফলে তারা পশ্চিমা দেশগুলোর গানের কপিরাইট নিয়েই আমাদের দিয়ে গানগুলো করাতেন। এটা গেল একটা দিক।
আরেকটা দিক হলো, আমি ৭০ দশক থেকে চলমান টোয়েন্টি টোয়েন্টিতে এসে কি নিজেকে বদলাইনি? আপটুডেট করিনি? আমি কি প্রতিদিন শিখছি না? সভ্য হচ্ছি না? তো মেধাস্বত্বর বিষয় এলে আমরা সেই ৭০ সালে ফিরে যাচ্ছি কেন? আমরা কী চাইবো না, আরও ১০ বছর পরে যারা মিউজিক করতে আসবে তারা যেন আমাদের মতো মারামারি না করে নিশ্চিন্ত মনে মিউজিকটাই করে? গত ১০ বছর ধরে তো আমি সেই যুদ্ধটাই করছি।

বাংলা ট্রিবিউন: যুদ্ধের ফলাফল? যতদূর জেনেছি, কিছু একটা হচ্ছে হয়তো। যদিও খুব বেশি ভরসাও করা যায় না। কারণ, অবিশ্বাস।
হামিন আহমেদ: যুদ্ধ করেছি, তার ফসল শিল্পীদের ঘরে উঠতে আর দেরি নেই। অবিশ্বাস করার আর সুযোগ নেই। এই অবিশ্বাস তৈরির পেছনেও অনেকের ইন্ধন আছে। সেটাও আমরা জানি। সবাইকে চিনি। অথচ, আমাদের উদ্দেশ্য খুবই সামান্য। আমাদের কথা আপনি মাইলসের ‘নীলা’ গানটা গাইবেন। খুবই ভালো কথা। তো সেটা আমাদের যে কাউকে একটা ফোন করে বা ফেসবুক পেজে নক করে বলে দেন না। কেউ এভাবে বললে তো, নিজেদের কাছেও খুশি লাগে। এমনও তো হতে পারে, ‘নীলা’কে চাইতে এলে বলে দিতে পারি মাইলস-এর সব গান গাও তুমি! আমরা তো অন্যের গাওয়া থেকে টাকা কামাই করার গল্পটা করছি না। আমাদের উদ্দেশ্য একটাই, মিনিমাম ভদ্রতা শিখুক, ক্রিয়েটরকে মিনিমাম সম্মান দেখাক। এবং আমি বামবার সভাপতি হিসেবে অন্য সদস্যদেরও বলেছি, কেউ গাইতে চাইলে হাসিমুখে গাইতে দেবেন। আমরা আর কয়দিন। আমাদের গান ওরাই গাইবে। কিন্তু সেটার জন্যে তো মিনিমাম একটা ভদ্রতা শেখা দরকার। সেটাই তো হচ্ছে না। শুধু কি কাভার শিল্পী? দেশ-বিদেশের টিভি, রেডিও, অনলাইন- সর্বত্র হরিলুট চলছে বাংলা গান নিয়ে। ব্যান্ডের আর কয়টি গান? আলাউদ্দিন আলীদের মতো লিজেন্ড মিউজিক ডিরেক্টররা বেঁচে থাকতে যেভাবে হরিলুট হচ্ছে তাদের গান- বলার ভাষা নেই।
হামিন আহমেদ

বাংলা ট্রিবিউন: এ ক্ষেত্রে সমাধান হতে পারে কপিরাইট সোসাইটি বা এমন কোনও অর্গানাইজেশন। সেটি গড়ে না ওঠার কারণ কী?
হামিন আহমেদ: সেটি হচ্ছে। ছয় মাসের মধ্যে সিএমও (কালেকটিভ ম্যানেজমেন্ট অরগানাইজেশন) অ্যাকটিভ হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশে। এটা অলরেডি সরকারের কাছ থেকে লাইসেন্স পেয়ে গেছে। মূলত এই প্ল্যাটফর্মটাই হবে মেধাস্বত্বের সব হিসাব রাখার প্রধান কেন্দ্র। যেখানে দেশের প্রতিটা শিল্পীর (গীতিকার, সুরকার, শিল্পী) সব অধিকার রক্ষা করা হবে। এমনকি বিদেশি শিল্পীদের গান কাভার করলে তার হিসাবটাও হবে। তো সেই সিস্টেমে ঢোকার আগে তো মিনিমাম ভদ্রতা আমাদের শিখতে হবে। সেটা হলো, কারো গান গাইতে গেলে তার অনুমতি নেওয়া। অনুমতি মানে দরখাস্ত জমা দেওয়া নয় কিংবা টাকার হিসাব নয়, এটা মাথায় রাখতে হবে।
আজকে চ্যানেল আই যদি শিশুদের জন্য একটা অনুষ্ঠান করে, সেখানে মাইলস এর একটা গান করতে চায়- আমরা কী তাতে বাধা দিবো? কিন্তু একই গান যদি জি-বাংলার রিয়েলিটি শোতে কেউ করতে চায়, তখন তো আমরা আলাদা হিসাব করবো। ফলে এসব নিয়ে বাহাস না করে, সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।
বাংলা ট্রিবিউন: আলাপ শেষ হোক ইন্ধনের গল্পটা শুনে। মাঝে একবার বলছিলেন, এগুলো বিরোধিতা করার জন্য ইন্ধন জোগাচ্ছে অনেকে! তারা আসলে কারা?
হামিন আহমেদ: ভিনগ্রহের কেউ নন। তারা সবার চেনা। এই ইন্ডাস্ট্রির লোক। যারা সবসময় ঘোলাজলে মাছ শিকারে অভ্যস্ত। নামগুলো না-ই বলি। আমাদের তো আত্মসম্মানবোধ আছে!

/এমএম/এমওএফ/

লাইভ

টপ