ঈদ বিশেষসিনে পর্দার সেই এমিল এখন কোথায়?

Send
শেরিফ আল সায়ার
প্রকাশিত : ১০:২০, আগস্ট ০১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:২৭, আগস্ট ০২, ২০২০

এমিলের ছোটবেলা ও বড়বেলাস্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’ মুক্তি পায় ১৯৮০ সালে। তবে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল, এই ছবির নির্মাতা বাদল রহমান ভারতের পুনে থেকে চলচ্চিত্রে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসে ছবিটি নির্মাণে হাত দেন। পেয়েছিলেন সরকারি অনুদানও। ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’ চলচ্চিত্রটির মূল কাহিনি এরিখ কাস্টনারের হলেও এর চিত্রনাট্য রচনা করেছিলেন বাদল রহমান নিজে। বিদেশি গল্প পরেও নিজ দেশের সমাজ-বাস্তবতাকে অসাধারণভাবে তুলে ধরা হয়েছিল এতে। চলচ্চিত্রের কাহিনিতেও আনা হয় ব্যাপক পরিবর্তন। এতে মূল চরিত্র হলো এমিল। খুদে গোয়েন্দা হিসেবে দুর্দান্ত অভিনয় করা সেই এমিল নিজেই এখন যেন রহস্যঘেরা। অভিষেক ছবির পর আর দেখা মেলেনি তার। দেশের প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্রে অভিনয় করা সেই শিশু এমিল এখন কোথায়? কীভাবে তার কাটে দিন? এখনও কি পর্দার মতোই গোয়েন্দাগিরিতে আগ্রহ আছে? নাকি খোলনচলে বদলে গেছে সব! বাংলা ট্রিবিউন সন্ধান পেয়েই যোগাযোগ করে এমিলের সঙ্গে। তার নাম রেয়াজ শহীদ।
তাকে আমরা জিজ্ঞেস করি, আপনি এখন কোথায়? একটু হেসে বলেন, আমি এখন আছি মালয়েশিয়ার জহর বাহরু শহরে। তার আগে ঢাকাতে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে হেড অব আইটি হিসেবে কাজ করতাম। মালয়েশিয়া ২০১৮ সালে এসেছি। এখানেও একটা আমেরিকান স্কুল-শ্যাটাক সেন্ট ম্যারিস ফরেস্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে আইটি ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করছি। আমরা কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করি তার শৈশবের সেই অসাধারণ অভিজ্ঞতা নিয়ে। চটজলদি প্রশ্নও শুরু করি-



বাংলা ট্রিবিউন: বাংলাদেশের সরকারি অনুদানে প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’। এই চলচ্চিত্রে যুক্ত হওয়ার পুরো গল্পটা শুনতে চাই।  

রেয়াজ শহীদ:  ছবির পরিচালক বাদল রহমান ভাই সম্ভবত ৭৩/৭৪-এর সময় পুনে ফিল্ম ইন্সটিটিউটে স্কলারশিপ নিয়ে পড়াশোনা করতে যান। ওনার সঙ্গে আরও অনেকেই গিয়েছিলেন। সেখানে বাদল ভাই ফিল্ম এডিটিংয়ের ওপর ডিপ্লোমা করে দেশে ফেরেন ৭৬/৭৭ সালের দিকে। ওনার সঙ্গে সালাহউদ্দীন জাকী ভাইও ছিলেন। দু’জনই সরকারি অনুদান পান চলচ্চিত্র বানানোর জন্য। বাদল ভাই পেলেন ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’র জন্য আর সালাহউদ্দীন জাকী ভাই পেলেন ‘ঘুড্ডি’ চলচ্চিত্রের জন্য। দুটি কিন্তু খুবই চমৎকার চলচ্চিত্র। তখন তো আমি খুবই ছোট। তবে জানতাম, এই দুটো ছবি অনুদান পেয়েছে।

যাই হোক, এটা ১৯৭৭ সালের গল্প। পড়ি উদয়ন স্কুলে, ক্লাস সিক্সে। বাদল ভাইয়ের সঙ্গে আমাদের পরিবারের একটা যোগাযোগ ছিল। আমার ফুফুর বাসায় প্রায়ই আসতেন আড্ডা দিতে। হঠাৎ একদিন ডেকে বললেন, ‘তোমার ফাইনাল পরীক্ষা কবে শেষ হবে?’

আমি ওনাকে বললাম, নভেম্বরের শেষেই পরীক্ষা শেষ হবে।

তখনও আমি ছবির বিষয়ে কিছু জানি না। এরপর একদিন বলেই বসলেন, ‘‘আমি তো ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’ নিয়ে একটা চলচ্চিত্র বানাচ্ছি। আমি তোমাকে মূল চরিত্রে অভিনয়ের জন্য চাই।’’

আমার তো ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর তেমন কোনও অভিজ্ঞতাই ছিল না। যদিও আমার পরিবার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের মধ্যেই ছিল। প্রয়াত আলমগীর কবির আমার মামা হন। মানে এই পরিমণ্ডলে আমাদের পরিবারের অনেকেরই বেশ যোগাযোগ ছিল এবং এখনো আছে।  কিন্তু নিজে সিনেমা করবো, ক্যামেরার সামনে দাঁড়াবো- এসব মাথায় আসেনি।

তবে বলার পর আমি খুব বিস্মিত হই। যেটাতে বেশি কৌতূহল জেগেছিল সেটা হলো, যখন বাদল ভাই বললেন, ‘আমরা খুলনা শুটিং করবো।’

চলচ্চিত্রটি দেখলে জানবেন, এমিল খুলনার ছেলে। ঢাকায় আসার আগ পর্যন্ত সে খুলনাতেই ছিল। সেখানে যাওয়ার বিষয়টা অ্যাডভেঞ্চারের মতো লেগেছিল তখন। আবার বাদল ভাইয়ের নিজেরও ছেলেবেলায় খুলনায় একটা বড় সময় কেটেছে। শহরটিতে উনি সেন্ট জোসেফ স্কুলে পড়তেন। সিনেমায়ও দেখানো হয়েছে, এমিল খুলনা সেন্ট জোসেফ স্কুলের ছাত্র।‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’-এর একটি দৃশ্য

বাংলা ট্রিবিউন: আপনার পরিবার বিষয়টাকে কীভাবে নিয়েছিল?

রেয়াজ শহীদ:  আমার মা অখুশি হননি। একটু চিন্তিত ছিলেন। তবে খুব বেশি সমস্যা হয়নি। সবাই উৎসাহ দিয়েছেন। কারণ, স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্র হতে যাচ্ছে। তাদের কাছে এটাই ছিল বড় বিষয়। আমার যে বয়স ছিল তাতে এসব কিছুই বুঝিনি। তবে শুধু জানতাম, খুলনা যাবো। খুলনায় আমরা ১৫ দিন শুটিং করেছি।

বাংলা ট্রিবিউন: ছবিটা তো মুক্তি পেয়েছিল ১৯৮০ সালে। তাহলে কতদিন শুটিং হলো?

রেয়াজ শহীদ:  শুটিং শুরু হয়েছিল ৭৭ সালে। তারপর মাঝে বন্ধ ছিল। এরপর আবার শুরু হয় ৭৮ সালে। তবে অধিকাংশ শুটিং হয়েছিল ৭৯ সালে। ওই বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত অধিকাংশ শুটিং হয়। যেমন, ইন্টারকন্টিনেন্টালের ভেতরে, চোরকে ধাওয়া করে যাওয়া, সাকুরার ওখানে। তারপর ধরুন ডাবিং, এডিটিংসহ সবকিছু মিলিয়ে শেষ করতে সময় লেগেছে ১৯৮০ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত। আমার যতটুকু মনে পড়ে, সিনেমাটা মুক্তি পেয়েছিল ১৯৮০ সালের সেপ্টেম্বরে।

বাংলা ট্রিবিউন: ১৯৭৭-১৯৮০ সাল সময় নিলো। এত দীর্ঘ সময়ের কোনও কারণ আছে?

রেয়াজ শহীদ:  অনুদানের প্রসঙ্গে আসতে হয় তাহলে। অর্থ খুব বড় একটা বিষয়। আমাদের শুটিং প্রায় ৬-৭ মাসের ওপরে অর্থের অভাবে বন্ধ ছিল। আমার যতদূর মনে পড়ে, বাদল ভাই অনুদান পেয়েছিলেন তিন লাখ টাকা বা এর অল্প কিছু বেশি।

এরপর পুরোটাই বাদল ভাইয়ের ইনিশিয়েটিভ থেকে তৈরি করতে হয়েছিল। অনুদান পেয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু একটা ছবি বানাতে গেলে স্পেশালই মন মতো কারিগরি ব্যবস্থা নিয়ে, ভালো কলাকুশলীদের নিয়ে যদি করতে চান সেটা ওই টাকায় হয়ে ওঠে না। এজন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে ডোনেশন সংগ্রহ করা। এমনকি আমি যতদূর জানি, তিনি নিজের পকেট থেকেও একটা বড় অংশ খরচ করেছেন। আরেকটা বিষয় ছিল, এই চলচ্চিত্রে কোনও কলাকুশলী পারিশ্রমিক নেননি। শুনেছিলাম  আমাদের শ্রদ্ধেয় গোলাম মোস্তফা সাহেব ছাড়া আর অভিনেতাদের কেউই পারিশ্রমিক নেননি। আমরা বাচ্চারা তো বুঝতেই পারিনি কী হচ্ছে। বাকিদের মধ্যে যেমন, বাদল ভাইয়ের বন্ধু সিনেমেটোগ্রাফার প্রয়াত আনোয়ার হোসেন সাহেবও পারিশ্রমিক নেননি। অথচ উনি কিন্তু তখনি আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত একজন খ্যাতিসম্পন্ন সিনেমেটোগ্রাফার। এছাড়াও উনি তখন ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ নিয়ে কাজ করছিলেন। 

বাংলা ট্রিবিউন: তার মানে তো শিশু এমিল শুটিং করতে করতে কৈশোর ছুঁই ছুঁই করছিল।

রেয়াজ শহীদ:  হ্যাঁ, সিনেমায় লক্ষ করলে দেখবেন, খুলনার এমিল আর ঢাকার এমিলের মধ্যে পার্থক্য আছে। মানে আমার গলার স্বর বদলে গিয়েছিল। ক্লাস সিক্সের শেষে শুরু হলো। এরপর শুটিং বন্ধ হয়ে যখন আবার শুরু হলো তখন ক্লাস সেভেনের মাঝামাঝি। মানে এই সময়টায় আমার গলার স্বর বদলে যাচ্ছিল। উচ্চতাও একটু বেড়েছিল। সমালোচকরা মনে হয় খুব একটা খেয়াল করতে পারেননি। 

বাংলা ট্রিবিউন: যখন সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলচ্চিত্রটি দেখলেন তখন অনুভূতিটা কেমন ছিল?

রেয়াজ শহীদ:  আমি চলচ্চিত্রে অভিনয় করছি, এমন কোনও অনুভূতিই ছিল না। মূল বিষয় ছিল অ্যাডভেঞ্চার লাগছিল। আমরা এতগুলো বাচ্চা, সবাই সমবয়সী। পুরোপুরি বাচ্চাদের জন্য একটা প্লট এটাই তো বাংলাদেশে প্রথম। আমার তো মনে হয় এখনও একমাত্র ওই সিনেমার প্লটই বাচ্চাদের জন্য ছিল। তবে হ্যাঁ বড় পর্দায় নিজেকে দেখার অনুভূতি তো অবশ্যই অসাধারণ। 

বাংলা ট্রিবিউন: চলচ্চিত্র যখন মুক্তি পেলো, আপনার স্কুল, আত্মীয়-স্বজন বা পাড়া প্রতিবেশীরা কীভাবে আপনাকে দেখতো? মানে তখন তো আপনি সেলিব্রিটি।

রেয়াজ শহীদ:  আমরা তখন ক্যান্টনমেন্টে থাকতাম। ওই সময় ১৯৮০ সালে বন্যার পানি ঢাকা শহরে অনেক জায়গায় ঢুকে পড়ে। আমাদের বাসায়ও পানি চলে আসে। তাই ঐ সময় কিছুদিন মগবাজারে আমরা ফুফুর বাসায় ছিলাম। যেখানে বাদল ভাই আসতেন। পরে শুনেছি, যখন ক্যান্টনমেন্ট সিনেমা হলে ছবিটা আসে এলাকার অনেকেই জানতো না আমি সেখানে অভিনয় করেছি। পাড়ার সবাই দেখে তো অবাক। এটা শুনে অনেক মজা পেয়েছিলাম।  

আসলে আমার কাছে থ্রিলিং ছিল যে আমি একটা চলচ্চিত্রে কাজ করেছি, সেটা সিনেমাহলে দেখাচ্ছে। যেদিন রিলিজ পায় মনে আছে তখন আমি ক্লাস নাইনে পড়ি। আমাদের বাংলা টিচার শ্রদ্ধেয়া জামিলা আপা হঠাৎ ক্লাসে এসে বললেন, ‘আজকে শুক্রবার বাংলাদেশের প্রথম শিশুতোষ চলচ্চিত্র মুক্তি পাচ্ছে। এখানে আমাদের ছাত্র রেয়াজ অভিনয় করেছে। এটা আমরা সেলিব্রেট করবো। ওকে সবাই কনগ্রেচুলেট করো।’ সবাই তখন তালিও দিল। আরেকটা বিষয়ও বলি, ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’তে আমার সঙ্গে যারা ছিলেন বিভিন্ন চরিত্রে, তারা অনেকেই উদয়নের ছাত্র। যেমন- শিপলু, তারপর ইমরান আছে। ইমরান তো আমার ক্লাসমেট। ওই সময় এটাই ছিল স্কুলের বড় খবর। আর পাড়াতে তো সবাই দেখিয়ে বলতো, ওই যে এমিল যাচ্ছে। প্রথম প্রথম সবার অ্যাটেনশন পেয়ে খুব লজ্জা লাগতো। বাইরে বেরুলেও অনেকেই জিজ্ঞেস করতো, এই তুমি এমিল না? আমিও লজ্জা পেয়ে বলতাম, হ্যাঁ আমিই এমিল। 

বাংলা ট্রিবিউন: আপনার সন্তানরা কি জানে বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন?

রেয়াজ শহীদ:  হ্যাঁ জানে।  আমি একটা মজার কথা বলি। কয়েক বছর আগে আমার মেয়েকে নিয়ে কানাডা গেলাম ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি করানোর জন্য। সেখানে আমার অনেক বন্ধুরাও আছে। কানাডা যাওয়ার পর সবাইকে এক বন্ধুর বাসায় দাওয়াত করা  হলো। সেখানেই এক বন্ধু দাওয়াতের মাঝখানে সবার সামনে বিষয়টা বলে উঠলো।

এরপর কত যে প্রশ্ন শুরু হলো! কেন আর ছবি করিনি, এরপর কেন হারিয়ে গেলাম ইত্যাদিসহ অনেক প্রশ্ন। আমি তাদের বললাম, ঢাকাতেও এত প্রশ্ন এখন কেউ করে না, কানাডাতে যত প্রশ্ন করছেন আপনারা। এটা খুব মজার ছিল আমার জন্য।

মানে, নিজেও ভুলে গিয়েছিলাম একটা সিনেমা যে আমি করেছি। ওখানে গিয়ে মনে পড়লো। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় মাঝে মাঝে এই ছবি নিয়ে আলোচনা হয়। তখন তথ্যনির্ভর কিছু কেউ জানতে চাইলে আমি কমেন্ট করি। যদিও বলি না আমি এই চলচ্চিত্রে কাজ করেছি। যেমন- একবার একজন দেখলাম কমেন্ট করলো, এই চলচ্চিত্রে যে ছেলে এমিল অভিনয় করেছিল সে ছিল আমাদের এলাকার ছেলে। পরে এখন কোথায় আমি জানি না। এটা দেখে আমি চুপচাপ ছিলাম। মজা লাগে এসব দেখে। 

বাংলা ট্রিবিউন: বাদল রহমানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কি মনে আছে?

রেয়াজ শহীদ:  অবশ্যই আছে। ওনার মতো একজন অসাধারণ পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছি। এটা তো বড় বিষয়। বাদল ভাই সবকিছু আমাদের ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন। আমরা তো অভিনয় করছি বুঝতেই পারিনি। অন্যান্য যারা ছিলেন শ্রদ্ধেয় গোলাম মোস্তফা সাহেব, সারা যাকের, বেনু জামান সহ যারা ছিলেন তাদেরকে কিন্তু তিনি কখনও বলেননি কী কী করতে হবে। মানে কিছু চাপিয়ে দেননি। তিনি সিচুয়েশন বুঝিয়ে দিয়েছেন আর চরিত্রটার একটা ছোট্ট আইডিয়া দিতেন।

আর আমাদের কথা যদি বলেন, তাহলে বলতে হয় উনি সব স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। শুধু ডায়লগ বলে দিতেন কী বলতে হবে। মাঝে মাঝে বলতেন, একটু ধীরে কথা বলার জন্য। কারণ তখন তো বাচ্চা ছিলাম, দ্রুত কথা বলতাম। এর বাইরে কখনও কিছু চাপিয়ে দেয়নি। উনি ন্যাচারাল বিষয়টাই দেখাতে চেয়েছিলেন। এখন বুঝি।

চলচ্চিত্রে অনেক ডায়লগ আছে যেগুলো স্ক্রিপ্টে ছিল না। এসব কিন্তু অন দ্য স্পট ইম্প্রুভাইজ হয়েছে। তিনি ন্যাচারালি একটা শিশু কীভাবে কথা বলে, কেমন আচরণ করে সেগুলো যেন বের হয়ে আসে এজন্যই কখনও চাপিয়ে দেননি।  রহস্যময় মানুষকে ঘিরে চলছে গোয়েন্দাগিরি

আরেকটা বিষয় হলো, আমরা প্রায় ১০-১৫ জন বাচ্চা কাজ করেছি। এদের সামলানো কিন্তু ছোটখাটো বিষয় নয়। উনি কখনও বিরক্ত হননি। আমরা যারা ছিলাম সবাই সমবয়সী। শুটিংয়ের সময় দেখা যেত সবাই স্পটে গিয়েই খেলা শুরু করে দিলাম। কোনও সিনের শুটের আগে বাদল ভাই ডাক দিলেন, এই সবাই আসো। আমরা দৌড়ে এসে শুট করলাম। শুট শেষ আবার দৌড়ে খেলতে চলে গেলাম। পুরো হৈ হুল্লোড়ের মধ্যে ছিলাম। চমৎকার সময় কেটেছিল।

এখনও আমরা বন্ধুরা মাঝে মাঝে একসঙ্গে হলে মজা করে বলি, যদি এমিলের গোয়েন্দা বাহিনীর দ্বিতীয় পর্ব হতো তাহলে কেমন হতো? মানে এমিলরা সবাই এখন বড় হয়ে গেছে। এখন তাদের গোয়েন্দা বাহিনী কাজ নিয়ে যদি চলচ্চিত্র হয় তাহলে মন্দ হবে না। এটা নিয়েই হাসাহাসি হয়। 

বাংলা ট্রিবিউন: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ বাংলা ট্রিবিউনকে সময় দেওয়ার জন্য।

রেয়াজ শহীদ:  আপনাকেও ধন্যবাদ। এত বছর পর কেউ এমিলকে খুঁজছে এটাও ভাবতে ভালো লাগছে।      

/এম/

লাইভ

টপ