৭৪-এ পা রাখলেন ‘বাকের ভাই’

Send
বিনোদন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১০:১২, অক্টোবর ৩১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:৩৪, অক্টোবর ৩১, ২০২০

আসাদুজ্জামান নূরসংস্কৃতি থেকে রাজনীতি−আসাদুজ্জামান নূরের কর্মজীবন বেশ বর্ণাঢ্য। ৭৩ বছরের সফল জীবন পেরিয়ে আজও যিনি আটকে আছেন ‘বাকের ভাই’ পরিচয়ে।
১৯৪৬ সালের এই দিনে (৩১ অক্টোবর) নীলফামারী জেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আসাদুজ্জামান নূর। এরপর সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বামপন্থি রাজনীতি থেকে হয়ে উঠেছেন রাষ্ট্রযন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও মন্ত্রী। পাশাপাশি সময়ে সাধারণ একজন থিয়েটারকর্মী থেকে হয়ে উঠেছেন কিংবদন্তি।
১৯৯৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর বিটিভির ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকের ‘বাকের ভাই’ নামে এক মাস্তানের ফাঁসি দেন আদালত। সেদিন সেই মাস্তানের জন্য কেঁদেছিল পুরো দেশ। এমনকি ওই পর্ব বাতিলের জন্য দেশব্যাপী হয়েছে আন্দোলন। যা পৃথিবীর নাটক ইতিহাসে ঘটেছে বলে কোনও নজির নেই। সেই বাকের ভাই পরিচয়ে আজও সর্বাধিক পরিচিত আসাদুজ্জামান নূর।
শুধু অভিনয় আর রাজনীতিই নয়, তিনি একাধারে অভিনেতা, আবৃত্তিকার, বিজ্ঞাপন নির্মাতা, ব্যবসায়ীও বটে। আদর্শ পিতা ও স্বামী হিসেবে দারুণ স্থিরতা রয়েছে তার ব্যক্তিজীবনেও।
১৯৮২ সালে ডাক্তার শাহীন আকতারকে বিয়ে করেন তিনি। এক ছেলে এক মেয়ে তার। ছেলে সুদীপ্ত লন্ডনে একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে বর্তমানে দেশে একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে কর্মরত। মেয়ে সুপ্রভার বিয়ে হয়েছে।
জন্মদিন নিয়ে গণমাধ্যমে দেওয়া এই কিংবদন্তির ভাষ্য এমন, ‘আমি কখনও ঘটা করে জন্মদিন উদযাপন করিনি। কারণ আমি চাই না আমার জন্মদিন বিশেষভাবে উদযাপন করা হোক। অন্য দিনের মতোই স্বাভাবিকভাবেই কাটুক না জন্মদিনের দিনটি। ছোটবেলাতেও আমার জন্মদিন কখনও বিশেষভাবে উদযাপন করা হতো না। সেদিন বাড়িতে হয়তো মা একটু বেশি রান্না করতেন।’
আসাদুজ্জামান নূর পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৭২ সালে বহুল প্রচারিত সাপ্তাহিক চিত্রালীতে কাজ করার মধ্যদিয়ে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৭৩ সালে একটি বিজ্ঞাপন সংস্থার অধীনে একটি ছাপাখানায় ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৭৪ সালে সোভিয়েত দূতাবাসের প্রেস রিলেশন অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে ইস্ট এশিয়াটিক অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেড এ (বর্তমানে এশিয়াটিক থ্র্রি সিক্সটি) জেনারেল ম্যানেজার পদে কাজ করেন।
১৯৭২ সাল থেকে তিনি নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। এ পর্যন্ত দলের ১৫টি নাটকে ৬০০ বারেরও বেশি অভিনয় করেছেন তিনি। নির্দেশনা দিয়েছেন দু’টি নাটক−একটি ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’। যা কিনা তিন শতাধিকবার মঞ্চায়িত হয়ে সর্বোচ্চ প্রদর্শিত মঞ্চ নাটকের রেকর্ড গড়েছে।
আসাদুজ্জামান নূর অভিনীত টিভি নাটকের সংখ্যা অগণিত। রেডিওতে প্রচারিত তার নাটকের সংখ্যা ৫০-এরও অধিক।
তিনি ৫০টিরও বেশি বিজ্ঞাপনচিত্র ও ভিডিও ছবি নির্মাণ করেন। এর পাশাপাশি একজন স্বনামধন্য আবৃত্তিশিল্পী তিনি। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠায় অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন আসাদুজ্জামান নূর।
একটি দৃশ্যে বাকের ভাই (মাঝে)তিনি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সদস্য, আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সভাপতি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সদস্য ও বাংলাদেশ রাশিয়া মৈত্রী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন তিনি, পরবর্তীতে দেশ স্বাধীনের পর কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করেন। দীর্ঘদিন প্রত্যক্ষ রাজনীতি থেকে নিজেকে বিরত রেখে সংস্কৃতিকর্মী হিসেবে নানান সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সঙ্গে আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর ১৯৯৮ সালে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এসে সক্রিয় হন। ২০০১-এর নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০১৮ সাল পর্যন্ত নীলফামারী-২ (সদর) আসন থেকে এ পর্যন্ত টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান।
সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য স্বাধীনতা পদক’সহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন এই কিংবদন্তি।
আসাদুজ্জামান নূর অভিনীত প্রথম টিভি নাটক ‘রঙ্গের ফানুস’। তার অভিনীত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘শঙ্খনীল কারাগার’।

/এমএম/এমএমজে/

লাইভ

টপ