পেরুর উত্তরাঞ্চলের এক প্রাচীন শহর কারালে সাড়ে চার হাজার বছরের পুরনো এক মমিকৃত দেহের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছেন প্রত্নতাত্ত্বিকেরা। তারা বলছেন, দেহাবশেষটি এক নারীর। তার সমাধিতে যেসব বস্তু পাওয়া গেছে তা দেখে ওই নারীকে উচ্চ সামাজিক মর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তি বলে মনে হচ্ছে। আর এর ভিত্তিতে প্রত্নতাত্ত্বিকরা আরেকটি দাবি জোরালো করে তুলে ধরেছেন। তারা বলছেন, ১ হাজার বছরেরও বেশি সময় আগে পৃথিবীতে যে লৈঙ্গিক সমতা বিরাজমান ছিল তারই প্রমাণ দিচ্ছে নতুন করে শনাক্ত হওয়া এ মমি।
প্রত্নতাত্ত্বিকরা জানান, মমিকৃত নারী ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সে মারা যান। তাকে কারাল শহর থেকে ১৪ মাইল দূরে অবস্থিত আসপেরোতে সমাহিত করা হয়। এ শহরটিতেই এমন বেশ কিছু পিরামিড রয়েছে যেগুলো ল্যাটিন আমেরিকার সবচেয়ে পুরনো পিরামিড।
প্রত্নতাত্ত্বিক শ্যাডি সোলিস জানান, বেশ কিছু মূল্যবান ও বিচিত্র বস্তু পাশে দিয়ে ওই নারীকে সমাহিত করা হয়েছিল। ওইসব বস্তুর মধ্যে আছে- ঝিনুক, খোদাই করা মরু পাখি কিংবা জঙ্গলের বানরের নকশা।
সোলিস জানান, মমিটি খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ সালের। ওই একইসময়ে সেই অঞ্চলের লোকজন পিরামিড তৈরি করতে শুরু করেন। তিনি বলেন, মমির সঙ্গে যেসব বস্তুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে সেগুলো মূলত উচ্চ সামাজিক মর্যাদার চিহ্ন বলে বিবেচিত হত। যেসকল নারী কিংবা পুরুষ নেতৃস্থানীয় ভূমিকায় থাকতেন তাদেরকে এ ধরনের সম্মান দেওয়া হত। সোলিসের দাবি, এ নারীর মমির সঙ্গে পাওয়া মূল্যবান বস্তুর মধ্য দিয়ে বোঝা যাচ্ছে সাড়ে চার হাজার বছর পূর্বে নারী-পুরুষের মধ্যে ভূমিকা পালনের ক্ষেত্রে সমতা ছিল। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে নেতৃত্ব দিতেন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, মিরর
/এফইউ/বিএ/








