ভারতে এক ডেনিশ পর্যটককে ধর্ষণের দায়ে পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন দিল্লির একটি আদালত। শুক্রবার তাদের বিরুদ্ধে এ রায় ঘোষণা করা হয়। তবে দণ্ডাদেশ পাওয়া ব্যক্তিদের উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
২০১৪ সালের জানুয়ারিতে ভারতে বেড়াতে এসেছিলেন ৫২ বছরের ডেনমার্কের ওই নারী পর্যটক। এ সময় তিনি দেশটির রাজধানী দিল্লিতে গণধর্ষণের শিকার হন।
ওই ঘটনায় মোট নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তিন অপ্রাপ্তবয়স্কও রয়েছে; তাদের কিশোর আদালতের মুখোমুখি করা হয়েছে। এছাড়া এরইমধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার শিকার ডেনমার্কের ওই নারী নয়াদিল্লির পাহাড়গঞ্জ এলাকার একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। ঘটনার দিন দিনের কোনো এক সময় হোটেল থেকে বের হওয়ার পর কাজ শেষে রাতে হোটেল ফিরছিলেন তিনি। একপর্যায়ে তিনি পথ হারিয়ে ফেলেন। পরে তিনি হোটেলে যাওয়ার জন্য নয়াদিল্লি রেলওয়ে স্টেশনের অবস্থান জানতে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করেন।
ওই নারীর অভিযোগ, রাস্তার পাশের ছয়জন ব্যক্তি তাকে স্টেশনে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে একটি নির্জন সড়কে নিয়ে যায়। সেখানে তার কাছে থাকা অর্থ ও অন্য জিনিসপত্র কেড়ে নেওয়ার পর ধর্ষণ করে। পরে ওই নারী তার এক বন্ধুর কাছে ফোন করলে ওই বন্ধু তাকে উদ্ধার করে হোটেলে নিয়ে যান। ঘটনার পরদিনই তিনি ভারত ছেড়ে ডেনমার্কে চলে যান। যাওয়ার আগে ভারতে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতিতে পুলিশকে ঘটনার পুরো বিবরণ দিয়ে যান। ওই ঘটনা তখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজর কাড়ে।
ভারতে ধর্ষণ কিংবা গণধর্ষণের ঘটনা অবশ্য নতুন কিছু নয়। চলতি মাসেই দেশটির হরিয়ানা রাজ্যের একটি হাসপাতালে ধর্ষণের শিকার হন এক রোগী। গত সোমবার রাজ্যের মেওয়াট জেলায় এসএইচকেএম সরকারি মেডিকেল কলেজে এক ওয়ার্ডবয় ও এক নিরাপত্তারক্ষী ওই নারীকে খালি ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। ওই নারী বিষণ্নতাজনিত রোগে ভুগছিলেন।
পুলিশের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ওই নারী হাসপাতালের পঞ্চম তলায় ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে ছিলেন। তার সঙ্গে তার বোন, ভগ্নিপতি ও তার ছোট ছেলে ছিল। তারা হাসপাতালের লাউঞ্জে ছিলেন। গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওয়ার্ডবয় এসে ওই নারীকে বলেন, তার ছোট ছেলে কাঁদছে। শিশুটিকে শান্ত করতে তাকে লাউঞ্জে যেতে বলা হয়। ওই নারী লাউঞ্জের দিকে পা বাড়ালে তাকে ধাক্কা দিয়ে পাশের একটি খালি ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় পাশেই থাকা নিরাপত্তারক্ষীও ঘরে ঢুকে ওই নারীর মুখ চেপে ধরে। পরে দুজন তাকে ধর্ষণ করে। রাত ১টার দিকে হাসপাতাল থেকে থানায় একটি ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়।
ওই নারীর ভগ্নিপতি জানান, তিনি তার শ্যালিকাকে দেখতে ওয়ার্ডে যাওয়ার পথে একটি কক্ষের বাইরে ওই নারীর ওড়না পড়ে থাকতে দেখেন। এটি দেখে তিনি চিৎকার করলে ওই কক্ষ থেকে ওয়ার্ডবয় ও নিরাপত্তারক্ষী দৌড়ে বেরিয়ে যায়।
তিন সন্তানের মা ওই নারী পরে এ বিষয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন। আইজি মমতা সিং (দক্ষিণ অঞ্চল) বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে ঘটনায় ওই দুই কর্মীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। আমরা সেই ওয়ার্ডবয়কে শনাক্ত করেছি। তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।’
হাসপাতালের পরিচালক সারসারচান্দ শর্মা বলেন, ‘এটি খুব দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য ঘটনা। আমরা অভিযোগ ওঠা ওই দুই ব্যক্তিকে বরখাস্ত করব এবং তদন্তে পুরোপুরি সহায়তা করব।’
২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর দিল্লিতে চলন্ত বাসে ২৩ বছর বয়সী মেডিকেলের এক ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হন। ২৯ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ মর্মান্তিক ঘটনার পর দিল্লিসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষ। জনরোষের মুখে ঘটনার কয়েক দিন পর বাসের চালকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১৩ সালের ১১ মার্চ তিহার জেলে থাকা অবস্থায় প্রধান আসামি বাসচালক রাম সিং মারা যান। তিনি আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করা হয়। সূত্র: এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া।
/এমপি/








