থাইল্যান্ডে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিভিন্ন পর্যটন শহরে বোমা হামলায় সংশ্লিষ্টতা থাকার অভিযোগে প্রথম দফায় বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে আটক করার কথা জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। শুক্রবার নতুন করে বোমা হামলার পর এক সংবাদ সম্মেলনে খবরটি নিশ্চিত করেছেন তারা। তবে কয়জনকে আটক করা হয়েছে কিংবা তারা কারা সে ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
বৃহস্পতিবার রাতে ও শুক্রবার সকালে থাইল্যান্ডের বিভিন্ন পর্যটন শহরে বোমা হামলা হয়। এসব সিরিজ বোমা হামলায় ২৪ ঘণ্টায় চারজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে হুয়া হিন শহরের একটি ব্যস্ত সড়কে দুটি বোমা বিস্ফোরণে একজন নিহত হন। বোমা দুটি ৫০ মিটার ব্যবধানে দুটি গাছ লাগানোর পাত্রে রাখা ছিল। আধা ঘন্টার ব্যবধানে রিমোট কন্ট্রোলের ওই দুটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ওই বিস্ফোরণে আরও অন্তত ১৯ জন আহত হন। এদের মধ্যে ১০ বিদেশি পর্যটকও রয়েছেন। বৃহস্পতিবারই থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় ত্রাং প্রদেশে আরেকটি বোমা বিস্ফোরণে একজন নিহত হন। আর শুক্রবার নতুন করে বোমা হামলায় হুয়া হিন প্রদেশে একজন এবং সুরাট থানি প্রদেশে একজন নিহত হন।
শুক্রবার নতুন করে হামলার পর এক সংবাদ সম্মেলনে হতাহতের খবর নিশ্চিত করে পুলিশ। এখন পর্যন্ত কেউ হামলার দায় স্বীকার না করলেও পুলিশের ধারণা, এটি ‘স্থানীয় নাশকতা’। সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় প্রাথমিকভাবে দক্ষিণাঞ্চলের বিদ্রোহী সংগঠনগুলোকে সন্দেহ করা হলেও তা পুরোপুরিভাবে নাকচ করে দিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনাও নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের দাবি, দক্ষিণাঞ্চলীয় সন্ত্রাসবাদের চেয়ে এ ঘটনায় অভ্যন্তরীণভাবে উদ্বুদ্ধ হওয়া ‘স্থানীয় নাশকতা’ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হলেও এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে হামলার পর বিভিন্ন পরিবহন কেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ফুকেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রেলওয়ে স্টেশন এবং হামলার শিকার এলাকাগুলোর রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিদেশি দূতাবাসগুলোর পক্ষ থেকে তাদের নাগরিকদের জন্য সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। হামলার ঘটনায় সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জান্তা সরকারের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চ্যান ওচা। বিশৃঙ্খলা ও সংশয় তৈরি করতেই এ বোমা হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। সাংবাদিকদেরকে প্রায়ুথ বলেন, কারা এইসব হামলার নেপথ্যে রয়েছে তা তিনি জানেন না। তবে ‘বিশৃঙ্খলা ও সংশয় তৈরির’ চেষ্টার অংশ হিসেবেই এসব বোমা হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
প্রায়ুথ বলেন, ‘লোকজনকে আর বেশি আতঙ্কিত করা আমাদের উচিত হবে না। দেশ যখন স্থিতিশীলতা, উন্নত অর্থনীতি ও পর্যটন শিল্পের দিকে যাচ্ছে তখন কেন এ বোমা হামলা হলো, কারা হামলা চালালো সেগুলো আমার জন্য আপনাদেরই বের করতে হবে।’
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায়ুথ এর মধ্য দিয়ে তার বিরোধী পক্ষ থাকসিন সিনাওয়াত্রার সমর্থকদেরকেই দিকেই বোধহয় আঙ্গুল তুলেছেন। তবে থাইল্যান্ডের যেসব এলাকায় হামলা হয়েছে সেখানকার মানুষ প্রায়ুথ সরকার সমর্থিত নতুন সংবিধানের পক্ষেই সম্প্রতি ভোট দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ব্যাংককে হিন্দু মন্দিরে বোমা হামলার বর্ষপূর্তির কিছুদিন আগেই এই হামলা চালানো হলো। গত বছর ওই হামলায় ২২ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছিল। তাছাড়া থাইল্যান্ডে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটে নতুন সংবিধান প্রণিত করার পক্ষে রায় এসেছে। এ সংবিধান সামরিক সরকারকেই সুবিধা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, আল জাজিরা
/এফইউ/








