বাংলাদেশে আসা পাকিস্তানি কূটনীতিকদের বেশ কয়েকজন জঙ্গিবাদের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বুধবার ভারত সফরে গিয়ে একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে জাতীয় ও ভূরাজনৈতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলেন তিনি। সেখানে জঙ্গিবাদ ও পাকিস্তানের প্রশ্ন উঠলে ইনু পাকিস্তানের কূটনীতিকদের সঙ্গে জঙ্গিবাদের সংশ্লিষ্টতার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের স্থানীয় বিভিন্ন জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ রযেছে।
গত কয়েক বছরে ঢাকায় বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি কূটনীতিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে তথ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। বাংলাদেশ জঙ্গি পরিকল্পনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
এ প্রসঙ্গে ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘পাকিস্তান এখনও বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানীয় জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। এজন্য সম্প্রতি আমরা পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষকে ওই কূটনীতিকদের ফিরিয়ে নিতে অনুরোধ করেছি। ওই বাংলাদেশে আসা কূটনীতিকরা তাদের জঙ্গিদের সঙ্গে কাজ করছে। আঞ্চলিক সম্পর্কোন্নয়নের ক্ষেত্রে এটা খুবই বাজে অভিজ্ঞতা।’
পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ জঙ্গিবাদের তৎপরতা সম্পর্কে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পাকিস্তান একটি অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। সেখানে প্রতিদিন জঙ্গি হামলা হচ্ছে। একই সময়ে পাকিস্তানের সরকারি বাহিনী বিভিন্ন জাতিসত্তা ও সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালাচ্ছে। আমরা পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করছি।’
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) নেতা ইনু জানান, ভারত ও বাংলাদেশ ইতোমধ্যে তথ্য-বিনিময় চুক্তি সম্পাদন করেছে। যা জঙ্গি আক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি। ইনু বলেন, ‘গুলশান হামলা বা শোলাকিয়া হামলার বিষয়ে ভারতীয় পক্ষের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বৈঠক হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ইতিমধ্যে তথ্য-বিনিময় চুক্তি হয়েছে।’
বাংলাদেশে আইএস-এর উপস্থিতি বিষয়ক অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর উপস্থিতির বিষয়ে কোনও তথ্য বাংলাদেশের কাছে নেই। তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবি, এই জঙ্গি সংগঠনগুলো স্থানীয়ভাবেই গড়ে উঠেছে, তাদের বিদেশি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে কোনও সংযোগ নেই।’
ইনু আরও বলেন, ‘ইসলাম ও ইতিহাসের বিকৃতি রুখতে ভারতকে সহযোগী হিসেবে চায় বাংলাদেশ। যা হবে ১৯৭১-এর স্মৃতির রক্ষাকবচ।’ তথ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎকারে আরও উঠে এসেছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, পাকিস্তান ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক, জঙ্গিবাদ, কাশ্মির ও বেলুচিস্তানে চলমান আন্দোলন, জাকির নায়েক, সার্ক শীর্ষ সম্মেলনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এবারের ভারত সফরে তথ্যমন্ত্রী দিল্লির নামকরা স্ট্র্যাটেজিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনে বৃহস্পতিবার বিকেলে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির একটি বস্তুনিষ্ঠ ছবি তুলে ধরবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভারতের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী রিলায়েন্সের অর্থায়নে পরিচালিত হয় এই অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন বা ওআরএফ, তাদের মতামত বা গবেষণা যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়ে থাকে ভারত সরকারের কাছ থেকেও। সেই ওআরএফ-এর মঞ্চে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর ভাষণ তাই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তথ্যমন্ত্রী ইনুর বক্তৃতার আগে এই অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য পেশ করবেন সাবেক ভারতীয় কূটনীতিক পিনাকরঞ্জন চক্রবর্তী, যিনি দীর্ঘদিন ঢাকাতে ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এ সফরে হাসানুল হক ইনু ভারতের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক বা ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের কয়েকজনের সঙ্গেও দেখা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে তার সৌজন্য সাক্ষাৎ হতে পারে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর সঙ্গেও।
জাসদের প্রবীণ নেতা হাসানুল হক ইনু দিল্লির অত্যন্ত আস্থাভাজন ও বহুদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র বলেও পরিচিত। এবারের সফর বাংলাদেশ-ভারতে মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতাকে একটা ভিন্ন মাত্রা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সাক্ষাৎকারের ভিডিও:
/এসএ/বিএ/








