সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে জানা গেছে, জার্মানির চার ভাগের তিন অংশ নাগরিকই জনপরিসরে পুরো শরীর ঢাকা বোরখা দেখতে চান না। এ বিষয়ে উত্তপ্ত বিতর্কও শুরু হয়েছে দেশজুড়ে।
ইনফ্রাটেস্ট নামের একটি সংস্থার করা ওই জরিপে অংশ নেওয়া জার্মানদের ৮১ শতাংশই বোরখার বিপক্ষে মতামত দিয়েছেন।এমনকি অর্ধেকেরও বেশি জার্মান মনে করেন বোরখা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন। এ সপ্তাহের মঙ্গল ও বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এআরডির সহায়তায় ১ হাজার ৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক জার্মানের ওপর এই জরিপ চালায় ইনফ্রাটেস্ট।
জরিপে ৩০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী সরকারি চাকুরে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের জন্য বোরখা নিষিদ্ধের পক্ষে মত দেন।বিপরীতে মাত্র ১৫ শতাংশ বোরখা নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে মত দিয়েছেন।
কিন্তু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ পিটার নওমান মনে করেন না, বোরখা নিষিদ্ধ করা হলে জার্মানিকে নিরাপদতর করা সম্ভব হবে।
কিংস কলেজ লন্ডনের সিকিউরিটি স্টাডিজের প্রফেসর ও সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব র্যাডিকালাইজেশনের পরিচালক পিটার বলেন, ‘এই ছদ্ম সমাধানে কোন কাজ হবে বলে আমি মনে করি না। আমি এমন একটি ঘটনাও জানি না যা থেকে মনে হতে পারে বোরখা নিষিদ্ধ করলে জঙ্গি হামলা বন্ধ হতে পারে বা কারো জঙ্গি হয়ে ওঠা বন্ধ হতে পারে।’
এদিকে, জার্মানির নীতিনির্ধারকরাও বোরখা নিষিদ্ধ করার কথা বিবেচনা করছেন।
চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মার্কেলের ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা মনে করছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপরিসর, আদালত কক্ষ ও রাস্তাঘাটে বোরখা ও নেকাবের মত পোশাক নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন। ফ্রান্সে ২০১১ সাল থেকে এমন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।জার্মানির মন্ত্রীদের অনেকে এমনও মনে করছেন, নির্দিষ্ট কোন স্থানে নয়, বোরখা পুরোপুরিই নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন।
কিন্তু জার্মানির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থমাস ডি মাইজির এই মতের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
এদিকে ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নের আরেক নেতা ক্লিমেনস বিনিংগার বলেছেন, ‘আমার মনে হয় আইন করে জনপরিসরে পুরো শরীর ঢাকা বোরখা নিষিদ্ধ করা উচিত। এই আইন করলে সমাজের ওপর বেশ বড় রকম প্রভাব পড়বে ও অভিবাসীরা সমাজের মূলস্রোতে সহজে মিশে যেতে পারবেন।’
জার্মানির ইসলামি ধর্মবেত্তারাও এই মতে মত দিয়েছেন। তাদের অনেকেই মনে করেন পুরো শরীর ঢাকা বোরখা ইসলামে বাধ্যতামূলক নয়। তারা এমনও মনে করেন এই ধরনের বোরখা মুসলিমদের জন্য সমাজে মিশে যাওয়ার পক্ষে অন্তরায়।
কিন্তু জার্মানিতে মুসলিম নারীদের সংগঠন জার্মান অ্যালায়েন্স অব মুসলিম উইমেনের গ্যাব্রিয়েল বুস-নিয়াজি এমনটা মনে করেন না। তিনি মনে করেন একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর যেমন ইচ্ছা পোশাক পরার অধিকার থাকা উচিত। বোরখা নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে অযথার্থ বলেই মত প্রকাশ করেছেন তিনি।
সূত্র ডয়চে ভেল
/ইউআর/








