কুর্দিপন্থী এইচডিপি পার্টির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সরকার-বিরোধী সাংবাদিকদের আটকের প্রতিবাদে ইস্তানবুলে কুর্দিদের বিক্ষোভ ভঙ্গ করতে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস দিয়ে হামলা চালিয়েছে তুর্কি পুলিশ।
শুক্রবার এইচডিপি-র নয়জন প্রধান নেতাকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরদিন দলটির আরও নয় গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে আটক করা হয়।
সেই সঙ্গে শনিবার সরকার-বিরোধী বলে পরিচিত নয় সাংবাদিককেও আটক করা হয় এবং পরে আদালতে হাজির করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। ওই সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন সরকার-বিরোধী বলে পরিচিত কামহুরিয়ত পত্রিকার সম্পাদক ও কলামিস্ট। কামহুরিয়ত পত্রিকাটি তুরস্কের হাতে গোনা কয়েকটি সরকার-বিরোধী পত্রিকার একটি।
তুর্কি কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই সাংবাদিকদের ফেতুল্লাহ গুলেনের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে। ক্যু প্রচেষ্টার মূল হোতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত ইসলামি চিন্তাবিদন ফেতুল্লাহ গুলেনকে অভিযুক্ত করে আসছে তুর্কি কর্তৃপক্ষ। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেন গুলেন। ১৯৯৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছানির্বাসনে রয়েছেন গুলেন।
এই আটকাদেশের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা ইস্তানবুলের সিসলি জেলার একটি মসজিদের সামনে জড়ো হয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের কর্মকাণ্ডকে ‘ফ্যাসিবাদী’ বলে আখ্যায়িত করেন। পরে পুলিশ তাদের শীতল পানির জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে হামলা চালায় এবং তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া চেষ্টা করে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যায় তুর্কি সেনাবাহিনীর একাংশ অভ্যুত্থান ঘটিয়ে দেশের শাসনভার নেওয়ার দাবি করে, যা দেশটির টেলিভিশনে প্রচার করা হয়। মধ্যরাতে ক্ষমতা দখলের ঘোষণা দিয়ে তুরস্কের ডানপন্থী সরকার উচ্ছেদের দাবি করে তারা। শেষ পর্যন্ত সামরিক বাহিনীর সব অংশের সমর্থন না থাকায় এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের তৎপরতায় জনগণ রাস্তায় নেমে এলে বিদ্রোহী সেনাদের উদ্যোগ ভেস্তে যায়।
ওই ক্যু প্রচেষ্টার পর তুরস্কে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টাকারীদের ওপর ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়। এ ছাড়া বরখাস্ত করা হয়েছে বিভিন্ন খাতের বিপুল সংখ্যক সদস্যকে। এখন পর্যন্ত এক লাখ ১০ হাজার জনেরও বেশি সরকারি কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে ৩৭ হাজার জনেরও বেশি মানুষকে। বন্ধ করে দেওয়া হয় অন্তত ১৫০টি সংবাদমাধ্যম।
চলমান ধরপাকরের অংশ হিসেবেই ওই সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাদের আটক করা হয়। বিচার প্রক্রিয়া শুরুর আগে পর্যন্ত তাদের কারাগারে বন্দি থাকতে হবে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি তুরস্কের কুর্দি অধ্যুষিত শহর দিয়ারবাকিরে বোমা হামলার পর তুর্কি কর্তৃপক্ষ দাবি করে, কুর্দিরাই ওই হামলা চালিয়েছে। কিন্তু শুক্রবার মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট তাদের কথিত বার্তাসংস্থা আমাক এজেন্সিতে এক বিবৃতিতে ওই হামলার দায় স্বীকার করে।
সূত্র: বিবিসি নিউজ।
/এসএ/








