আফগানিস্তানে ৭ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৩৭ লাখ শিশু (৪৪ শতাংশ) স্কুল থেকে ঝরে পড়েছে। এর মধ্যে মেয়ে শিশুর সংখ্যা ২৭ লাখ (৬০ শতাংশ)। ১৬ বছর আগে তালেবান সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে এটাই সর্বোচ্চ ঝরে পড়ার সংখ্যা। শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের হার সবচেয়ে বেশি সহিংসতা-কবলিত প্রদেশগুলোতে। রবিবার (৩ জুন) জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের নতুন এক প্রতিবেদন থেকে এ পরিসংখ্যান জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার কারণে প্রায় অর্ধেক শিশু স্কুলে যায় না। এর পাশাপাশি প্রকট দারিদ্র্য ও লিঙ্গ বৈষম্য রয়েছে দেশটিতে। তাছাড়া বাল্যবিয়ে এবং নারী শিক্ষকদের অভাবের কারণেও মেয়ে শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তুমুল সহিংসতার কারণে অনেকগুলো স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি এমন যে, নারী শিক্ষার উন্নয়ন তো দূরের কথা, লাখ লাখ শিশু শ্রেণিকক্ষেই পা রাখতে পারেনি। কান্দাহার, হেলমান্ত, ওয়ারদাক, পাকটিকা, জাবুল ও উরুজগানের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতিতে থাকা প্রদেশগুলোর ৮৫ শতাংশ মেয়ে শিশু স্কুলে যাচ্ছে না।
ইউনিসেফের প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, চলতি বছর শেষ হওয়ার আগে তিন লাখ আফগান শিশু স্কুল থেকে ঝরে পড়তে পারে। যেসব শিশু শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছে তাদের মধ্যে বেশিরভাগই গ্রাম বা মফস্বল এলাকার এবং তারা প্রায় সময়ই উদ্বাস্তুর মতো জীবনযাপন করছে।
নাইন ইলেভেনের হামলার পর ২০০১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নির্দেশে আফগানিস্তানে মার্কিন অভিযান শুরু হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে আফগানিস্তানে তালেবানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ অভিযান শেষ হয় ২০১৪ সালে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী এখনও আফগান সেনাদের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। আফগানিস্তানে এখনও প্রায় ৮,৪০০ সেনা মোতায়েন রয়েছে।
অতীতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের পক্ষে কথা বলতে দেখা গেলেও প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এ প্রশ্নে সুর পাল্টেছেন তিনি। গত আগস্টে ট্রাম্প বলেন, তার প্রাথমিক ইচ্ছা ছিল আফগানিস্তান থেকে মার্কিন বাহিনী পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়া। কিন্তু পরে ‘ইরাক থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার মতো ভুল’ না করার সিদ্ধান্ত নেন এবং আফগানিস্তানে তালেবানের বিরুদ্ধে জয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। ২০০১ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে তালেবানও কাবুল সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জারি রেখেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হামলা জোরালো করেছে সশস্ত্র সংগঠনটি।








