কোরীয় যুদ্ধে নিহত আরও বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনার দেহাবশেষ হস্তান্তর করলো উত্তর কোরিয়া। নির্দিষ্ট সংখ্যা না জানালেও হোয়াইট হাউস এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে। তারা জানায়, ‘আজ উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে যুদ্ধে নিহত আমাদের সেনাদের দেহাবশেষ ফিরিয়ে দিয়েছে।’
১৯৫০-১৯৫৩ সালে সংঘটিত কোরীয় যুদ্ধে ৩৬ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। নিখোঁজদেরকেও এ নিহতের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কোরীয় যুদ্ধের পর থেকে প্রায় ৭,৭০০ মার্কিন সেনার হদিস মেলেনি। এর মধ্যে প্রায় ৫,৩০০ সেনা উত্তর কোরিয়ায় নিখোঁজ হয়েছে। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়ার সামরিক দলগুলো ৩৩টি উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানে মার্কিন সেনাদের ২২৯টি দেহাবশেষ উদ্ধার হয়। পরবর্তীতে ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে এ অভিযান বাতিল করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল, তাদের তল্লাশিকারীদের জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়নি। যদিও ২০০৬ সালে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষাকে বড় কারণ বলে মনে করা হয়। ২০০৭ সালে দেহাবশেষ হস্তান্তর করেছিল উত্তর কোরিয়া। সেসময় জাতিসংঘের সাবেক দূত ও নিউ মেক্সিকোর গভর্নর বিল রিচার্ডসন ছয়টি দেহাবশেষের হস্তান্তর নিশ্চিত করেছিলেন। এরপর চলতি বছর ২০ জুন আবারও ২০০ জনের দেহাবশেষ হস্তান্তর করে পিয়ংইয়ং।
হোয়াইট হাউস জানায়, আমরা উত্তর কোরিয়ার এমন পদক্ষেপ ও ইতিবাচক পরিবর্তনে উচ্ছসিত। দেহাবশেষগুলো আনতে উত্তর কোরিয়াল ওনসান শহরে গিয়েছে একটি মার্কিন সামরিক বিমান। তাদের নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার ওসান বিমান ঘাঁটিতে যাবে বিমানটি। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে ট্রাম্প ও কিমের বৈঠকের পরই দেহাবশেষ হস্তান্তরের ব্যাপারে একমত হয় দুই পক্ষ। ১২ জুন সিঙ্গাপুরে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি ‘যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা’ বন্ধ করবেন। এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমরা যেহেতু একটি সমন্বিত ও পূর্ণাঙ্গ চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছি সেক্ষেত্রে আমি মনে করি যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা অযথার্থ।’ মহড়া বন্ধের ঘোষণা দিলেও কোরীয় উপদ্বীপ থেকে এক্ষুণি সেনা প্রত্যাহারের কোনও সম্ভাবনা নেই বলেও জানান ট্রাম্প। উত্তর কোরীয় সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের উষ্ণতাকে প্রতিফলিত করে মঙ্গলবার (১৯ জুন) পেন্টাগন জানায়, আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে পূর্বনির্ধারিত সামরিক অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। একইদিন নাম প্রকাশ না করে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, উত্তর কোরিয়া থেকে কোরীয় যুদ্ধে নিহত সেনাদের দেহাবশেষ ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছা জানিয়ে ওই কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত মার্কিন সেনারা এ প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরপর বুধবার (২০ জুন) ২০০ মার্কিন সেনার দেহাবশেষ হস্তান্তর করে উত্তর কোরিয়া।








