মালদ্বীপে রবিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচনে কট্টরপন্থী প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহইয়ামিন দ্বিতীয় মেয়াদে পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে। আর তা হলে ইয়ামিনের ক্ষমতা আরও পাকাপোক্ত হবে। বিরোধীপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এই নির্বাচনে স্বচ্ছতার অভাব ও বিরোধীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ভারত মহাসাগরের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটি তাদের চিরাচরিত অংশীদার ভারত ও চীনের নাট্যমঞ্চ হিসেবে রূপ নিয়েছে। এর মধ্যে চীন প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনের অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রমে সহায়তা করছে। এতে দেশটিতে চীনের প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় পশ্চিমা বিশ্বও বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনের সরকার অনেক বিরোধী নেতাকে বন্দি করে রেখেছে। এর মধ্যে সন্ত্রাসবাদ থেকে দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগে সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আব্দুল গাইয়্যুমকেও বন্দি করা হয়েছে।
রবিবারের ভোটে মালদ্বীপের আড়াই লাখ মানুষ ৪০০টি কেন্দ্রে নিজেদের ভোট প্রদান করেন। মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে রবিবার সকাল থেকেই শত শত মানুষ ভোটকেন্দ্রের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিল। কয়েকটি দ্বীপে শনিবার রাত থেকেই ভোট দেওয়ার জন্য অনেক মানুষকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
মালেতে ভোট দিতে আসা ৪৪ বছর বয়সী নাজিমা হাসান বলেন, ‘২০১৩ সালে যে ভুল করে তা শোধরাতেই আমি আজ ভোট দিতে এসেছি। আমি প্রেসিডেন্ট মামুনকে মুক্ত করার জন্য ভোট দিচ্ছি।’ আব্দুল রশিদ হুসাইন নামে আরেকজন জানান, তিনি ইয়ামিনকেই ভোট দেবেন কারণ সে মালদ্বীপকে উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাবে।
এদিকে নির্বাচনের আগের রাতে পুলিশ প্রধান বিরোধী প্রচারণাকারী দফতরে অভিযান চালায়। ওই সময় তারা দাবি করেন, তারা অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য সেখানে গিয়েছেন। বিরোধী নেতারা জানান, ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগে পুলিশ কমপক্ষে ৫ জন বিরোধী সমর্থককে গ্রেফতার করেছে।
মালদ্বীপে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত জেমস দুয়ারিস এক টুইট বার্তায় বলেন, এটা সহজেই বোঝা যায় কেন অনেক মানুষ নির্বাচনের দিন কী হতে যাচ্ছে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘসহ বেশিরভাগ বিদেশি পর্যবেক্ষকই নির্বাচন পর্যবেক্ষণে সরকারের আমন্ত্রণ নাকচ করে দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, নির্বাচনে ইচ্ছেমতো ভোট কারচুপির পরও তাদের উপস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ইয়ামিন নির্বাচনের বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
ট্রান্সপারেন্সি মালদ্বীপ নামে একটি সংগঠনও এর আগে নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। তবে নির্বাচনের দিন তারা বলেছে, ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবেই হয়েছে।
বিরোধী জোটের প্রার্থী ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহ তার সমর্থকদের বলেছেন, তিনি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। শনিবার এক জনসভায় তিনি বলেন, ‘আমি সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যে আগামীকাল আপনারা অস্থিতিশীলতার কোনও সুযোগ দেবেন না।’ তিনি বলেন, ‘ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে হতে দিন আর জনগণ যা চায় সেই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে দিন। জনগণের পরিবর্তনের জন্য ব্যাকুল হয়ে আছে।’ প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনও ভোটারদের ভোট দিতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দায়িত্বের প্রথম মেয়াদে দেশকে উন্নয়নের পথে নেওয়ার জন্য যেসব কাজ করেছেন তাতে তিনি নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
রবিবার দিবাগত মধ্যরাতে প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।








