রাখাইনে আতঙ্ক আর অবিশ্বাসের মধ্যে বাস করছে রোহিঙ্গারা: জাতিসংঘ

বিদেশ ডেস্ক
০৯ অক্টোবর ২০১৮, ১০:৪৫আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০১৮, ১০:৫০

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অবস্থানরত রোহিঙ্গারা আতঙ্ক ও অবিশ্বাসের মধ্যে জীবন-যাপন করছেন আর তাদের মুক্তভাবে চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যর্পণের প্রয়োজনীয় শর্ত এখনও পূরণ হয়নি। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা-ইউএনএইচসিআর ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি-ইউএনডিপি’র দুটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলের পরিস্থিতি সরেজমিনে মূল্যায়নের পর এই তথ্য জানিয়েছে। একবছরের বেশি সময় আগে রোহিঙ্গা সংকট তীব্র হওয়ার পর প্রথমবারের মতো সরেজমিনে রাখাইনের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকা এখবর জানিয়েছে।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য নির্মিত একটি ট্রানজিট ক্যাম্প

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় সাত লাখের মতো মানুষ। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ ঘটনায় খুঁজে পেয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন এই ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের ‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ আখ্যা দিয়েছে। তবে এইসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

জাতিসংঘের প্রতিনিধি দল দুটি রাখাইনের ২৩টি গ্রাম ও তিনটি এলাকা পরিদর্শন করেছেন। কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা যেখানে খুশি যেতে পেরেছেন ও যার সঙ্গে ইচ্ছা কথা বলতে পেরেছেন। ইউএনএইচসিআর’র মুখপাত্র আন্দ্রেজ মাহিকিক বলেন, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে দেখা করার মূল লক্ষ্য ছিল তারা কোন পরিস্থিতিতে বাস করছে ও কী কী সমস্যার মোকাবিলা করতে হচ্ছে তা খুঁজে বের করা।

মাহিকিক বলেন, গত বছর শুরু হওয়া সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে এসব মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তাই পরিষ্কারভাবে সেখানে মানুষ কিভাবে বাস করছে তার ওপর এটার প্রভাব রয়েছে। জাতিসংঘ দল যাদের সঙ্গে দেখা করেছে তাদের সবাই খুব কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করছে।

মাহিকিক বলেন, ‘রাখাইনের লোকজন তাদের জীবন-ধারণের অক্ষমতার কথা সম্পর্কে জানিয়েছে। মুক্তভাবে চলাফেরার বিষয়ে প্রচণ্ড বিধি-নিষেধ থাকায় তারা মৌলিক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘আতঙ্ক,  প্রতিবেশী সম্প্রদায়ের প্রতি অবিশ্বাস ও নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি অনেক এলাকায় প্রকট হয়ে উঠেছে।’

জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার মুখপাত্র বলেন, ‘শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য মৌলিক সেবা না পাওয়ার কারণেও এই আতঙ্ক ও অবিশ্বাসের প্রভাব রয়েছে। এটা সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে বোঝাপড়াকে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছে। এতে তাদের মধ্যে বিশ্বাস গড়ে ওঠার মতো সামাজিক সংযুক্তিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা যেসব সম্প্রদায় পরিদর্শন করেছি তারা বারবার স্বাস্থ্য সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার কথা জানিয়েছে। এছাড়া মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষার সুযোগের ব্যাপারেও সেখানে বিধি-নিষেধ রয়েছে।’

ইউএনএইচসিআর ও ইউএনডিপি গত জুন মাসে মিয়ানমারের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এই সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের  স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যর্পণে ও রাখাইন রাজ্যে তাদের প্রত্যাবাসন ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে পরিস্থিতির প্রাথমিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে মাহিকিক বলেন, ‘এখনও এসব শর্তের কোনওটাই পূরণ হয়নি।’

/আরএ/এএ/
সম্পর্কিত
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
তৃণমূলের বিদ্রোহী নেতা কে এই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
সর্বশেষ খবর
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
অধিনায়ক হিসেবে ফিরেই জয় দেখলেন কুশল মেন্ডিস
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
মার্কিন সেনা হত্যা করলে যুদ্ধবিরতি শেষ, উপদেষ্টাদের জানালেন ট্রাম্প
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু 
ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু 
বিক্রির জন্য নিলামে উঠছে এই আধুনিক দুর্গটি
বিক্রির জন্য নিলামে উঠছে এই আধুনিক দুর্গটি
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম