সাড়া জাগানো বিকল্প সংবাদমাধ্যম উইকিলিকস জানিয়েছে, তাদেরকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, লন্ডনে নিযুক্ত ইকুয়েডর দূতাবাসে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের ফুটেজ নিজেদের হাতে রয়েছে এমন ‘কয়েকজন রহস্যময়’ ব্যক্তি তাদের হুমকি দিচ্ছে।
২০১২ সালের জুন থেকে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয়ে আছেন উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। ৪ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) উইকিলিকসের টুইটে বলা হয়,ইকুয়েডর সরকারের উচ্চ পর্যায়ের দুইটি সূত্র থেকে তারা নিশ্চিত হয়েছে যে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিনের মধ্যে অ্যাসাঞ্জকে দূতাবাস থেকে তাড়ানো হতে পারে। ইকুয়েডরের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মোরেনো গত মঙ্গলবার স্থানীয় একটি রেডিওতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “কারও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট হ্যাক বা ফোনে আড়ি পাতার অধিকার অ্যাসাঞ্জের নেই। আমরা অ্যাসাঞ্জ ও তার আইনজীবীদের সঙ্গে যে চুক্তি করেছিলাম তিনি অনেকবার তা লঙ্ঘন করেছেন।” সম্প্রতি ইকুয়েডর অভিযোগ তুলছে, দেশটির প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনোর ব্যক্তিগত নথি ফাঁস ও ছড়িয়ে দিচ্ছে উইকিলকস।
উইকিলিকসের প্রধান সম্পাদক ক্রিস্টিন হ্রাফনসনের অভিযোগ, ইকুয়েডর কর্তৃপক্ষই অ্যাসাঞ্জের হাজার হাজার ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করেছে। সেগুলে স্পেনের একটি চক্রের কাছে পৌঁছায়। তারাই প্রকাশ না করার শর্তে উইকিলিকসের কাছে ৩০ লাখ ডলার দাবি করেছে।
লন্ডনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি স্পেনের একটি চক্র তথ্য ছড়াচ্ছে। তাদের কাছে প্রচুর নথি আছে এবং সেগুলো দূতাবাস থেকেই সংগ্রহ করা।
ক্রিস্টিন বলেন, তাদের কাছে কি নথি আছে জানতে চাইলে তারা ইমেইল করে জানায় যে, এগুলোর দাম পরিশোধ করতে হবে। ওই নথির মধ্যে অ্যাসাঞ্জের অনেক ছবি ও ভিডিও আছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে অ্যাসাঞ্জ তার আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলছেন, চিকিৎসকরা তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন।
স্প্যানিশ পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টা খুব বেশি ঘোলাটে নয়। আমরা আসলে ইকুয়েডর সরকারের গুপ্তচরবৃত্তি নিয়েই বেশি শঙ্কিত। এটি অবৈধ ও অনৈতিক।
উইকিলিকস সম্পাদক দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট মোরেনো ইকুয়েডরের ক্ষমতায় আসার পর জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ ‘ট্রুম্যান শো’ এর মতো পরিস্থিতিতে রয়েছে।’ এছাড়া অ্যাসাঞ্জের আইনজীবীর এখতিয়ারে থাকা আইনি নথিও দূতাবাস ফটেকপি করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
উইকিলিকস মনে করে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইকুয়েডরের সঙ্গে এক হয়ে অ্যাসাঞ্জকে দূতাবাস থেকে বের করতে চাইছে। আর দূতাবাসের ওই নথিগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গেও শেয়ার করা হয়ে থাকতে পারে। যদিও এর সাপেক্ষে কোনও প্রমাণ দেখাতে পারেননি তিনি।
উইকিলিকসের দাবি, তাদের কাছে খুব নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে যে গত সপ্তাহে অ্যাসাঞ্জকে বের করার চেষ্টা করেছিলো ইকুয়েডর। কিন্তু সেটা জানাজানি হয়ে যাওয়ায় আর সম্পন্ন করতে পারেনি।
সম্প্রতি ইকুয়েডর জানায়, তারা অ্যাসাঞ্জের রাজনৈতিক আশ্রয়ের ব্যাপারটি পুনর্বিবেচনা করছে। ইকুয়েডর তার বিরুদ্ধে তদন্তের ইঙ্গিত দিয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ভ্যালেন্সিয়া জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসে জড়িত সন্দেহে তার বিরুদ্ধে তদন্ত হতে পারে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী অ্যাসাঞ্জের রাজনৈতিক আশ্রয়ের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সাড়া জাগানো বিকল্প সংবাদমাধ্যম উইকিলিকস বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলতে সক্ষম হয় ২০১০ সালে। মার্কিন কূটনৈতিক নথি ফাঁসের মধ্য দিয়ে উইকিলিকস উন্মোচন করে মার্কিন সাম্রাজ্যের নগ্নতাকে। সুইডেনে দুই নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পর ২০১২ সালের জুন থেকে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসের আশ্রয়ে আছেন উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। তার বিরুদ্ধে ওঠা ধর্ষণের অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করে মুক্তমতের পক্ষের আন্তর্জাতিক দুনিয়ার অ্যাকটিভিস্টরা। অ্যাসাঞ্জের আশঙ্কা দূতাবাস থেকে বের হলেই যুক্তরাজ্য তাকে গ্রেফতার করে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে পারে।






