অ্যামাজনের সুরক্ষায় জি-৭ দেশগুলোর ২২ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে ব্রাজিল সরকার। দেশটির মন্ত্রীরা জানান, ব্রাজিলের এই সহায়তা দরকার নেই। এটা দিয়ে বিদেশি রাষ্ট্রগুলো অ্যামাজনের নিয়ন্ত্রণ চাইছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
১৫ আগস্ট থেকে জ্বলছে ‘দুনিয়ার ফুসফুস’ খ্যাত ব্রাজিলের অ্যামাজন জঙ্গল। এরমধ্যেই গত বৃহস্পতি থেকে শুক্রবারের মধ্যে নতুন করে অ্যামাজনের এক হাজার ২০০টি স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর কেন্দ্রীয় সরকারের শরণাপন্ন হয়েছে ছয়টি রাজ্য। বিভিন্ন স্থানে ভয়াবহ রকমের আগুনের কুণ্ডলী তৈরি হয়েছে। এসব রাজ্যের কর্তৃপক্ষ আগুন নিয়ন্ত্রণে সামরিক বাহিনীর সহায়তা চাইছে। সেনা সহায়তা চাওয়া রাজ্যগুলো হচ্ছে পারা, রন্ডোনিয়া, রোরাইমা, টোকানটিন্স, একর এবং ম্যাটো গ্রোসো। এরমধ্যে রন্ডোনিয়া প্রদেশে ইতোমধ্যেই সামরিক বাহিনীর বিমান থেকে পানি ঢালার কাজ শুরু হয়েছে।
সোমবার জি- সেভেন সম্মেলনের আয়োজক দেশ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঘোষণা দেন, তারা অ্যামজনের সুরক্ষায় তারা ২২ মিলিয়ন ডলার সহায়তা প্রদান করবেন বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ১৮৬ কোটি ২০ লাখেরও বেশি।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জেয়ার বোলসোনারোর চিফ অব স্টাফ অনিক্স লোরেনি বলেন, ‘আপনাদের ধন্যবাদ। তবে এই অর্থ আসলে ইউরোপের বনায়নে ব্যয় করাই বেশি ভালো হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন নটরডেম গির্জার আগুন নিয়েই কিছু করতে পারেননি ম্যাক্রোঁ। আর তিনি আমাদের শিক্ষা দিতে এসেছেন?’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্নেস্টো আরাউজো বলেন, বনায়ন উজারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিয়ম মেনেই তারা পদক্ষেপ নিয়েছেন।এক টুইটে তিনি বলেন, ‘পরিবেশের অবস্থা নিয়ে ‘সাজানো সংকট’ এর মাধ্যমে অ্যামাজন নিয়ন্ত্রণে বহির্বিশ্বের চেষ্টা খুবই দৃশ্যমান।
এর আগে বোলসোনারো বলেছিলেন, তার দেশে অ্যামাজনের দাবানল ঠেকানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। সমালোচকরা বলছেন, প্রেসিডেন্টের পরিবেশবিরোধী বক্তব্যে বনায়ন উজার ত্বরান্বিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্রাজিলে রাজনৈতিক পরিবর্তন প্রয়োজন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তুতত্ত্ব বিজ্ঞানের অধ্যাপক ইয়াদভিন্দার মাহি বলেন, ব্রাজিলের পরিবেশ সংস্থায় তহবিল বরাদ্দ এই বছর ৯৫ শতাংশ কমে গেছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনেক কাজ থেমে গেছে। তাই অ্যামজনের পরিবর্তনে আসলে রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিকে নজর দিতে হবে যা নতুন সরকারের সময়কালে সংঘটিত হচ্ছে।‘








