রাশিয়ায় বড় ধরনের সাংবিধানিক পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদের ব্যক্তি নির্বাচনে পার্লামেন্টকে ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি। দ্য মস্কো টাইমস বলছে, এই সাংবিধানিক পরিবর্তনের প্রস্তাবে ইঙ্গিত মিলেছে, তিনি ভবিষ্যতে প্রমানমন্ত্রীর পদে আসছেন। পুতিনের সমালোচকরা দাবি করছেন, ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতেই এই পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা নিয়েছেন তিনি।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বর্তমান মেয়াদ শেষ হবে ২০২৪ সালে। বুধবারের প্রস্তাবে তাই তার ক্ষমতার মেয়াদ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। পুতিন বলেছেন, ‘আমি রাশিয়ার রাজনৈতিক পদ্ধতি পরিবর্তনের প্রস্তাব করছি।’ প্রস্তাবে পার্লামেন্টের হাতে প্রেসিডেন্টের থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বেশি ক্ষমতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এই প্রস্তাব বাস্তবায়নে প্রয়োজনে দেশব্যাপী গণভোটও চেয়েছেন পুতিন।
১৯৯৯ সাল থেকে কখনও প্রেসিডেন্ট কখনও প্রধানমন্ত্রী হিসেব দেশের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন ভ্লাদিমির পুতিন। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী, টানা দুই বারের বেশি প্রেসিডেন্ট থাকা যায় না। একারণে তিনি দুইবার প্রেসিডেন্ট থাকার পর প্রধানমন্ত্রী হন। পরে আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ৬৭ বছর বয়সী পুতিন।
পুতিনের ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর ওই দেশের শাসন পরিচালনার দায়িত্বভার তার হাতে রাখার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছেন সমালোচকরা। তবে তার বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতা আকড়ে ধরে থাকার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ রুশ নাগরিকদের কাছে পুতিন এখনও জনপ্রিয়। দেশের স্থিরতা রক্ষায় তাকে ‘কল্যাণকর ব্যক্তি’ হিসেবে বিবেচনা করে তারা।
এখন সমালোচকরা বলছেন, পুতিন সংবিধান পরিবর্তন করে ২০২৪ সালের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের শীর্ষ ক্ষমতাধর ব্যক্তির দায়িত্বে থাকতে চান। বুধবার পুতিনকে দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নিশ্চিত করতে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ডুমাকে ক্ষমতা দিতে ‘রাশিয়ান পলিটিক্যাল এলিট’দের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।








